Header Ads

৫০, ৬০ বছর আগে ছিন্নমূল অবস্থায় অসমে আসা বিজেপির ভোটার বাঙালিরা কি ফের একবার গৃহহারা হবে?

এনআরসি তালিকা ছুটদের ১২০ দিনের মানসিক চাপ, যন্ত্ৰনার দায়ভার কে নেবে?

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ 


কয়েক লাখ হিন্দু বাঙালি ভোটার গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দলকে দুহাত ভোরে ভোট দিলেন, মধ্য অসমের হোজাই, লামডিং, যমুনামুখ, লঙ্কা, নগাঁও,  ঢেকিয়াজুলি প্রভৃতি অঞ্চলের বাঙালি বিজেপির ভোটারদের এনআরসি তালিকায় নাম নেই। অধিকাংশ মানুষই ১৯৭১ সালের বহু আগে ৪০, ৫০ ভছর ধরে বসবাস করছে। অসমিয়া ভাষা সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে, আগে পূর্বপাকিস্তানে, বর্তমান বাংলাদেশে ধর্মীয় সংঘর্ষের বলি হয়ে সর্বস্য হারিয়ে ছিন্নমূল অবস্থায় এদেশে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে এসে ওরা শরনাৰ্থী সাৰ্টিফিকেট যথারীতি অসমের সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনারকে দেখানোর পরও নথিপত্ৰগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়। গৃহহীন মানুষগুলো আজ ৫০ বছর পর ফের একবার গৃহহীন দেশহীন হতে চলেছে। এনআরসি তালিকায় নাম না থাকলে বিদেশি বলা না হলেও, ভোটাধিকার থাকবে না। অসম বিধানসভার চারটি আসন খালি  হয়েছে। উপ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে কি ? হাতে ১২০ দিন সময় পেলেও সমাজের চোখে তারা এখন বিদেশি, অধিকাংশই দারিদ্র্যপীড়িত, বিদেশি ট্রাইব্যুনালে মামলা লড়াই করার আর্থিক সামর্থ নেই।

প্ৰতীকী ছবি, সৌঃ আন্তৰ্জাল
 একজন ভারতীয় নাগরিকের নাম যদি না থাকে, তবে তার যে মানসিক চাপ, মানসিক যন্ত্রণা হবে, তার ভাগিদার কি সরকার হবে? ১২০ দিন, চার মাস ধরে প্রবল যন্ত্রনা অবসাদগ্রস্থ হয়ে ভুগবে ক্ষতিপূরণ কি সরকার দেবে? যারা যন্ত্রনা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করবে তার দায়ভার কি সরকার নেবে? এই সব প্রশ্নের জবাব কল্যাণকামী সরকারকে আজ নতুবা কাল  দিতেই হবে। ইতিমধ্যে একজন আত্মহত্যা করেছে। একজন নাম নাথাকার ভয় ও আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কাছাড়ে মারা গিয়েছে। কংগ্রেস বিধায়ক কমালাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ বিগত  বিধানসভাতে অভিযোগ করেছিলেন এনআরসি এবং ডিটেনশন ক্যাম্পে কতজন অবসাদ ও যন্ত্রনায় ভুগে মারা গেছে, সরকার জবাবে ২৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। সেই জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে বিধায়ক অভিযোগ করেছিলেন ৫৮ জন অকাল মৃত্যুকে বরন করে নিয়েছে। তাদের ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তিনি জানিয়েছেন। আজও কংগ্রেস সভাপতি রিপুন বরা বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাসের মতো লাখ লাখ ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ পড়েছে। মন্ত্রী ভবেশ কলিতা আজ অভিযোগ করেন রাজ্য সরকার সুপ্রিমকোর্টকে তালিকা রিভেরিফিকেশনের জন্যে বার বার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট তার অনুমতি দেয় নি। বিজেপি প্রাক্তন সাংসদ রমেন ডেকা অভিযোগ করেন লিগাসি ডেটা চুরি করে বিদেশিরা ভারতীয় হয়েছে। উজান নিম্ন অসমের বিভিন্ন অঞ্চলের নাম বাদ পরা মানুষ, ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। কোচ বংশী সম্প্রদায়ের এক বৃহৎ সংখ্যক খিলাঞ্জিয়া মানুষের নাম বাদ  পড়েছে নিম্ন অসমে। এখন প্ৰশ্ন হচ্ছে ৫০, ৬০ বছর আগে ছিন্নমূল অবস্থায় অসমে আসা বিজেপির ভোটার বাঙালিরা কি আবার গৃহহারা হবে?


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.