সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা করলেন সীতারাম ইয়েচুরি, অসুস্থ বিধায়ককে দেখতে গিয়েও রাজনীতি
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : সিপিআইএম-এর মহাসচিব সীতারাম ইয়েচুরি সুপ্রিম কোর্টের আদেশের অবমাননা করে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করলেন। সীতারাম ইয়েচুরি সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দায়ের করে কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, কাশ্মীরে সিপিআইএম-এর এক বিধায়ক অসুস্থ আর তাঁকেই দেখতে তিনি কাশ্মীর যেতে চান। প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট কাশ্মীরে যাওয়া অনুমতি না দিলেও, পরে কিছু নির্দিষ্ট শর্তে ওঁকে কাশ্মীরে যাওয়ার অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সীতারাম ইয়েচুরি সিপিআইএম-এর অসুস্থ বিধায়ক মোহম্মদ ইউসুফ তারিগামি’র সাথে দেখা করতে কোর্টে শ্রীনগর যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয় যে, আমরা অনুমতি দিতে পারি কিন্তু সেখানে গিয়ে শুধু নিজের দলের বিধায়কের সাথে দেখা করে ফিরে আসতে হবে আপনাকে। অন্য কোথাও যাওয়া, অন্য কারো সঙ্গে সরকারবিরোধী কথা বলা আর রাজনীতি করা চলবে না। যদি সেখানে গিয়ে রাজনীতি করেন, তাহলে সেটি কোর্টের অবমাননা বলে গণ্য হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর সীতারাম ইয়েচুরি জম্মু-কাশ্মীরে যান আর সেখানে তাদের অসুস্থ বিধায়কের সাথে দেখা করে দিল্লীতে ফিরে আসেন। কিন্তু দিল্লী ফিরে আসার পরেই তিনি প্রেস কনফারেন্স ডেকে জানান, জম্মু-কাশ্মীরে কিছুই স্বাভাবিক নেই। সরকার বলছে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সরকার মিথ্যে বলছে। যদিও ইয়েচুরি সাফাই দিয়ে বলেন, আমি সেখানে গিয়ে কারোর সাথে কথা বলিনি। অথচ তিনি সবকিছুই বুঝে গিয়েছিলেন।
এবার প্রশ্ন হল যে, ইয়েচুরি বলেছেন যে, তিনি সেখানে কারোর সাথে দেখা করেন নি, কথা বলেন নি, তাহলে তিনি কিসের ভিত্তিতে জম্মু কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিলেন? ইয়েচুরি শ্রীনগরে দিল্লী থেকে বিমানে গিয়েছিলেন, আর তারপর সেখান থেকে গাড়ি করে অসুস্থ বিধায়ককে দেখতে যান, এরপর দিল্লী চলে আসেন। এসেই তিনি দিল্লীতে প্রেস কনফারেন্সে বলেন কাশ্মীরের পরিস্থিতি সামান্য নয়। যেমন পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে বলে আসছে যে, কাশ্মীরের পরিস্থিতি সামান্য নয়, ঠিক তেমনই প্রায় একই সুরে সীতারাম ইয়েচুরিও একই অভিযোগ করছেন। আর সেখান থেকে ফিরে এসে কাশ্মীর নিয়ে রাজনীতি করে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের অবমাননাও করলেন তিনি।









কোন মন্তব্য নেই