Header Ads

অসমের স্থায়ী বাসিন্দা বাঙালিরা রাজনৈতিক দল ও টিভি চ্যানেল খুলবে

 ৬ নম্বর ধারা অবৈধ, বাঙালি প্রতিনিধি নেই, ফেডারেশন মানবে না- দীপক দে

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ 

বাংলাদেশির নামে, ডি ভোটারের নামে, ডিটেনশন ক্যাম্পের নামে, শেষমেশ এনআরসি নবায়নের নামে অসমের বাঙলিদের নানা ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। এই বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর সমস্যা  সমাধানে অসমের কোনও রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা লক্ষ্য করা যায় নি, কোনও সংবাদপত্রে, কোনও টিভি চ্যানেলে বাঙালিদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আজ অখণ্ড ভারতের বাসিন্দা  দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ আহুতি দেওয়া, বাঙালিদের চরম বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অসমের এনআরসি তালিকা থেকে বাঙালি হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আজ অসমবাসী ভুলে গেছে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বার বার অসমে এসে পাকিস্তানপন্থী সরকারকে ভেঙে দিয়ে গোপীনাথ বরদলৈকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে যদি না বসাতেন তবে অসমের অস্তিত্ব থাকতো না। 


বরাক ব্রহ্মপুত্র উপত্যাকার বাঙালিদের আজ নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বাঙালিদের এই দুর্দিনে আজ গুয়াহাটির মাছ খোয়ার প্রেক্ষাগৃহে দুই উপত্যকার বিশিষ্ট বাঙালি নেতারা উপস্থিত হয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। বরাকের বিশিষ্ট সাংবাদিক অতীন দাস, অধ্যাপক প্রশান্ত চক্রবর্তী, সারা অসম বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশনের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ রঞ্জন কর, ফেডারেশনের সভাপতি দীপক দে, ভাষিক সংখ্যালঘু নেতা নৃপেন সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিনের বৈঠকে বরাকের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অতীন দাস বলেছেন- রাজ্যে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অভাব আছে। প্রাক্তন এস পি প্রদীপ রঞ্জন কর জানান, আজকের সভায় সহমতের ভিত্তিতে এক রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বাঙালিদের পক্ষে কথা বলবে এমন এক টিভি চ্যানেল খোলার প্রস্তাবও নেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের সভাপতি দীপক দে জানান এই টিভি চ্যানেলের জন্যে অর্থের অভাব হবে না। তিনি বলেন, অসম চুক্তির ৬ নম্বর ধারা অবৈধ, তারা মানবেন না। নতুন করে এই ১৪ জনের কমিটি গঠন করা  হয়েছে, অথচ বাঙালি হিন্দুদের প্রতিনিধি রাখা হয় নি। প্রকৃত ভূমিপুত্র বা খিলাঞ্জিয়ার সংখ্যা নির্ধারণ হয়নি, এনআরসি তালিকায় যারা বাদ পড়বে তাদের আইনের সহায়তা করার জন্যে ৭ জনের এক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রদীপ রঞ্জন কর, দেবব্রত রায় চৌধুরী, বাসুদেব শর্মা, কিশোর ভট্টাচার্য, শুভদীপ দত্ত, অংশুমান চক্রবর্তী এবং সুভ্ৰাংশু দেবকে এই কমিটিতে  রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে কেন্দ্ৰীয় সরকারের জোড়া নোটিফিকেশনের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছে। সারা অসম বাঙালি যুবছাত্ৰ ফেডারেশনের সভাপতি দীপক দে জানান আগামী ৫ সেপ্টেম্বরে দিল্লির প্রস্তাবিত ধরনায় ফেডারেশন সামিল হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.