Header Ads

শাসক দল বিজেপির স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল তারা এই এনআরসি তালিকা গ্ৰহণ করবে না



আসু, এপিডব্লিউ, অগপ তালিকা অগ্ৰাহ্য করে ক্ষোভ প্ৰকাশ


অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ

প্ৰত্যাশা অনুযায়ী হাজার ভুলে ভরা জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেল। অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় আসু মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ উৎসব করেছিল। আজ অৰ্থাৎ শনিবার সেই আসু ছিল ম্ৰিয়মান, আসুর নেতৃবৃন্দ জানিয়ে দিল তারা খুশি নয়, তারা সুপ্রিমকোৰ্টের দ্বারস্থ হবেন। আসু উপদেষ্টা সমুজ্জল ভট্টাচার্য   বললেন, মাত্র ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম বাদ পড়েছে, কিন্তু সরকারের নানা তথ্য বলছে অসমে লাখ লাখ বাংলাদেশি আছে। অসম চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী প্রাক্তন আসু বর্তমান অগপ সভাপতি অতুল বরাও জানিয়ে দিলেন তালিকায় নানা ত্রুটি থেকে গেছে, তারা মানবে না।
প্ৰতীকী ছবি, সৌঃ আন্তৰ্জাল


প্ৰাক্তন অগপ মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মহন্ত কিন্তু এই তালিকায় খুশি, কিছু ভুল  দেখছেন না। তিনি এনআরসি সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আগের স্থিতি বজায় রেখে বলেন, ব্যর্থ তালিকা বহু ভারতীয় নাগরিকের নাম  কাটা গেছে। বিজেপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তালিকা প্রকাশের আগেই শাসক দল বিজেপি-র স্থিতি জানা গিয়েছিল, আজ বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাস ঠারেঠরে জানিয়ে দিলেন এই   তালিকায় বিদেশির নাম অন্তৰ্ভুক্ত হয়েছে, ১৯৭১ সালের বহু আগে আসা বাঙালি শরণার্থীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সাহা, সরকার, বিশ্বাস প্রভৃতি পদবি থাকা ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের বৈধ নথি দাখিল করা সত্বেও ফরেনার ট্রাইবুন্যাল তা বাতিল করে দিয়েছে।

বহু জাল নথি দাখিল করে নাম তুলেছে বিদেশিরা, তিনি বলেন- সরকারের দাবি মেনে তালিকা রিভেরিফিকেশন হতো, সরকারের নথিপত্রের সঙ্গে যাচাই করে তালিকা প্রস্তুত হতো তবে লাখ লাখ বিদেশির নাম ঢুকতো না। তিনি বলেন, ফরেনার ট্রাইবুন্যালের কাজকর্ম দেখে নেব, ভাত টিপলে বোঝা যাবে, তাই একবার দেখে নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারকে বলে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করার জন্যে আমরা চাপ দেবো। তিনি আরও বলেন, সরকার ভাল কাজ করছিল, কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে মানা করে। তখন  দু একটি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে এনআরসি প্রধান প্রতীক হাজেলা খেয়াল খুশি মতো কাজ শুরু করেন। জানা গিয়েছে- পাণ্ডু, মালিগাও, হোজাই, লামডিং, তিনসুকিয়া, লংকা, ডিব্ৰুগড়ে ১৯৭১ সালেরও বহু আগে থেকে বসবাসকারী বহু হিন্দু বাঙালির নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন তারা হতাশ, বিদেশির নাম ঢুকে গেল, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ গেল। সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ করেছে এপিডব্লিউ প্রধান অভিজিৎ শর্মা এই তালিকা নস্যাৎ করে বলেন, ১২০০ কর্মচারী, ১৬০০ কোটি টাকা খরচ করে   বিদেশিদের ভারতীয় নাগরিক করে তুলল, আসুর দিকে আঙ্গুল তুলে বললেন, প্রতীক হাজেলাকে মাথায় নিয়ে নাচলেন, ফল হল বিগ জিরো, বলেন আজ আমসু আনন্দ উৎসব করছে, তাদের উদেশ্য সফল হয়েছে, তিনি গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, তারা গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিমকোর্টে হলফনামা দাখিল করে বলেছিল এনআরসি কাজে দুই নম্বর সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, উইপ্রো কোম্পানির এই সফটওয়্যার বাতিল করতে হবে, তা করা হল না, সব বিদেশি ভারতীয় নাগরিক হয়ে গেল। রাষ্ট্রপতি, প্রধমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করা হবে।   বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব অভিযোগ করে বলেন, লাখ লাখ বাঙালি হিন্দুর নাম বাদ দেওয়া হল, বাংলাদেশিরা ভারতীয় নাগরিকে পরিণত হল, এক মাত্র তিনি প্রথম থেকে একই অভিযোগ করে আসছিলেন। এই অভিযোগের জন্যে দেশ বিদেশ থেকে কয়েক শো টেলিফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে শিলাদিত্য এদিন অভিযোগ করেন। করিমগঞ্জের কংগ্রেস  বিধায়ক কমালাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ অভিযোগ করেন তালিকা থেকে বহু ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ গেছে। দু বারের প্রাক্তন বিধায়ক আতাউর রহমান মাঝার ভূঁইয়ার নামই নেই। আজ  তেজপুরে একজন আত্মহত্যা করেছে। এনআরসি-র কারণে এপৰ্যন্ত ৫৮ জন আত্মহত্যা করলো, তার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। তাদের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবার দাবিও তিনি জানান।
হিন্দুত্ববাদী দল ১৪৪ ধারা ভেঙে দিয়ে দাবি করেন ১৯৭১ নয় ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর হিসেবে গ্ৰহণ করে নাগরিকত্ব সংশোধন করতে হবে। তাদের কয়েকজনকে গ্ৰেফতার করে পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। 


এদিকে, এনআরসি-র প্ৰতিবাদে প্ৰথম দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল। এবার তালিকা প্ৰকাশের পর মুখ খুললেন সে রাজ্যের তৃণমূলের শীৰ্ষ নেতা মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন- অসমের মানুষের পাশে আমরা আছি। নিশ্চিতভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তালিকা ছুটদের জন্য উদ্বেগে আছেন। এই ১৯ লক্ষ মানুষের কি হবে শেখ হাসিনা নেবেন প্ৰশ্ন করেন তিনি। তালিকা ছুটদের কি রোহিঙ্গিয়াদের মতো নো ম্যান্স ল্যান্ডে ফেলে দেওয়া হবে কেন্দ্ৰীয় সরকারের কাছে প্ৰশ্ন তেলেন তিনি।

তালিকা প্ৰকাশের পরবৰ্তী দিনগুলিতে রাজ্যে যাতে কোনও গণ্ডগোল না বাধে তার জন্য অসমের বিভিন্ন স্পৰ্শকাতর অঞ্চলে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা। মোতায়েন হয়েছে অতিরিক্ত আধাসেনা বাহিনী।  এদিকে অসমের এনআরসি নিয়ে নাক গলিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্ৰী ইমরান খানও। তিনি টুইটারে  লিখেছেন- ভারত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে নির্মূল করতে চাইছে মোদী সরকার। 



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.