Header Ads

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দিতে গিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা... (পর্ব -২)

সিডনি থেকে লিখেছেন বিষ্ণু চন্দ


 ‘নয়া ঠাহর ’ ওয়েব পোৰ্টালের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দিতে এসে সেখানের কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের কাছে ব্যক্ত করছি। প্রথম পর্বে মেলবোর্ন-এর কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের পোৰ্টালের মাধ্যমে প্ৰকাশ করেছিলাম। তা খুব সুন্দর করে ছাপার জন্য ‘নয়া ঠাহর’ গোষ্ঠির প্রতি আমার অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইলো। 


এবার ২য় পর্বে আমার আরও কিছু অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করছি। উল্লেখ্য, আমরা বুধবার ১০ টায় মেলবোর্ন থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ২টয় সিডনি এসে পৌঁছলাম। তারপর, সিডনি থেকে ব্লু মাউন্টেন অর্থাৎ এটার একটা পার্ট হল, থ্রি সিস্টার্স, এখানে এসে পৌঁছলাম। যার দূরত্ব সিডনি থেকে প্রায় ১০০ কি: মি:। এখানের তাপমাত্রা হচ্ছে  ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

এখানে আমরা ইস্টার্ন জোনের প্রায় ২২ জনের একটা টিম বেড়াতে আসি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এখানে থ্রি সিস্টার্স দেখতে অনেকটা মেঘালয়ের সেভেন সিস্টার্স এর মতো। তবে, এখানের খাদ অনেক গভীর। আর, এখানের প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা সৌন্দর্য সত্যিই দুধর্ষ। এককথায় দেখার মতো। এখানে একটা কয়লার খনিও আছে। যা পর্যটকদের খুব আকৃষ্ট করে। আমরা একটা জাহাজের মাধ্যমে পুরো সমুদ্রটা পরিদর্শন করি। খুব আনন্দের সঙ্গে জায়গাটা উপভোগ করি। জায়গাটি অস্ট্রেলিয়া সরকার এতো সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছে যে, কি বলবো দেখার মতো। প্রচুর মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, বার ইত্যাদি অনেক কিছুর পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে একটা রোপওয়ে এবং কেবেল কার যাতে পর্যটকরা কোনও ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন না হন। এছাড়াও রয়েছে রোলিং কার, যেটা ৯০' ডিগ্রী এঙ্গেলে পাহাড়ের ওপর থেকে প্রায় এক হাজার ফিট নীচে আসতে পারে। একটা কয়লা খনি আছে, আমি এটার উল্লেখ্ আগেই করেছি। যা পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় স্থল। আমরাও জায়গাটি দেখতে যাই।  একইভাবে ওই রোলিং কার দিয়ে উপরে উঠে আসি। যার মধ্যে কমকরেও প্রায় একশো জন মানুষ বসতে পারে। প্রায় ২০/২৫ মিনিট পর, আমরা পাশেই থাকা একটা বিশাল বড় অ্যাকোরিয়াম আছে, সেটা দেখতে যাই। যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাকোরিয়াম বলে সৰ্বত্ৰ পরিচিত। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। 


যা সচরাচর দেখা যায় না, এমন মাছও আছে যাদের আমরা নামও জানিনা। খুব ভালো লাগলো। সেখানেও আমরা অনেক আনন্দ উপভোগ করেছি। এরপর আমরা বিশ্বের একমাত্র অপেরা হাউস, সিডনি অপেরা হাউস, সেটা দেখতে যাই। যার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬০ সালে এবং তা দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় ১৯৭৩ সালে। রানি ভিক্টোরিয়া এ অপেরা হাউসটি উদ্বোধন করেন। আপনারা শুনে আশ্চর্য হবেন যে এর ভিতরে প্রায় ছয়খানা হল আছে, এরমধ্যে ওপরে সবথেকে বড়ো হলটায় একসাথে ২৮০০ জন দৰ্শকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

 এর পাশাপাশি আরও দুটি হল আছে এবং নীচে আরও তিনখানা হল আছে যেখানে একসাথে প্রায় ১০০০ জন লোক বসে অপেরা দেখতে পারে। সত্যিই অতুলনীয়। আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। পাশেই দুএকটি পার্ক আছে সেটা দেখতে যাই। সেখানে একটা পার্কে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রায় ১০০ টি করে কাকাতুয়া পাখি সংরক্ষণ করে রাখা আছে। সেখানের লোকজন এই পাখিকে তুয়াপাখি বলে ডাকে। তুলোর মতো সাদা সাদা পাখিগুলো দেখতে সত্যিই খুব অপূর্ব। সবমিলিয়ে আমরা সবাই জায়গাটিকে ভীষণভাবে উপভোগ করেছি, ভীষণ আনন্দ উপভোগ করেছি। সেই মিষ্টি মধুর স্মৃতিগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করে ঠিক সন্ধ্যার দিকে আমরা ফের হোটেলে ফিরে আসি। আমার অস্ট্ৰেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা ‘ নয়া ঠাহর’ পোৰ্টালের মাধ্যমে প্ৰকাশ করতে পেরে আমি খুব আনন্দ বোধ করছি।

(আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে যোগদানের জন্য শিলচর প্রতিবেদক বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় সফররত।)

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.