কলাইগাঁও কাণ্ড, অবশেষে পুলিশের জালে ভণ্ড তান্ত্ৰিক রমেশ শহরিয়া
নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, গুয়াহাটিঃ
ভাবলেও বিষ্ময় হতে হয়, একবিংশ শতকেও কি ভাবে মানুষ তন্ত্ৰ মন্ত্ৰের জালে পড়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারে। তারই নজির অসমের দরং জেলার যাদব শহরিয়ার পরিবার।
ছবি, সৌঃ নিউজ১৮অসম
তন্ত্ৰমন্ত্ৰের জাল বিস্তার করে ৩ বছরের শিশু কন্যাকে বলি দিতে উদ্যত হওয়া ভণ্ড তান্ত্ৰিক রমেশ শহরিয়াকে অবশেষে মঙ্গলবার সকালে গ্ৰেফতার করেছে পুলিশ। অসমের দরং জেলার কুরুয়া থেকে পুলিশ শহরিয়াকে গ্ৰেফতার করা হয়। শনিবার থেকেই গা ঢাকা দিয়ে ছিল ওই ভণ্ড তান্ত্ৰিক। তার ঘর শিপাঝার থানার রামগাঁওয়ে। এই রমেশের প্ৰরোচনাতেই কলাইগাঁওয়ে ৩ বছরের শিশু কন্যাকে বলি দিতে গিয়েছিল শহরিয়া পরিবার। দরঙের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মামণি হাজরিকার নেতৃত্বে চালানো অভিযানে গ্ৰেফতার হয় রমেশ।
যাদব শহরিয়ার পরিবারকে ধন সম্পত্তিতে সম্বৃদ্ধ করার স্বপ্ন দেখিয়েছিল ভণ্ড তান্ত্ৰিক রমেশ শহরিয়া। ‘চামুণ্ডা মা’ কে সন্তুষ্ট করে মাটির নিচ থেকে গুপ্তধন পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ‘বিজ্ঞান শিক্ষক’ যাদব শহরিয়া। তান্ত্ৰিকের দেখানে এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ঘরের শিব মন্দিরে বিবস্ত্ৰ হয়ে পুজো করতে উদ্দত হয়েছিল যাদব শহরিয়ার পরিবার পরিজনেরা। যাদবের কথা মতে তান্ত্ৰিক এমবিএ ডিগ্ৰিধারী ছেলে পুলকেশকে রত্নভাণ্ডার এবং জ্যোতিলিঙ্গের সন্ধানে মন্দিরে পূজাৰ্চনা করার পরামৰ্শ দিয়েছিল। সেইমতে মা চামুণ্ডাকে সন্তুষ্ট করতে ঘরের সকলকে বিবস্ত্ৰ হতে বাধ্য করায় পুলকেশ। উলঙ্গ অবস্থায় পুলকেশ যখন মন্দির ভাঙার চেষ্টা করে তখন তার বাবা যাদব শহরিয়া মন্দির ভেঙে তান্ত্ৰিক সোনা দানা ধন সম্পত্তি লুঠ করে নিয়ে যাবে বলে সন্দেহ করে।
পুলকেশের মা পুণ্যকান্তি শহরিয়ার ভাষ্য মতে জানা যায়, তাঁদের মৃত মেয়ে হেমাশ্ৰীকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য পরিবারের সকলেই এভাবে উলঙ্গ হয়ে পুজো করেছিল।
তান্ত্ৰিক রমেশ শহরিয়া পুলকেশকে চাকরি দেওয়ার আশা দিয়েছিল বলে জানান পুলকেশের মা পুণ্যকান্তি শহরিয়া। রমেশ পুলকেশকে রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার স্বপ্নও দেখিয়েছিল। এইভাবে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে তান্ত্ৰিক পুলকেশের ব্ৰেন ওয়াশ করেছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন পুলকেশের মা পুণ্যকান্তি।
প্ৰসঙ্গত, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্ৰণের জন্য পুলিশ গুলি চালালে আহত হয় পুলকেশ শহরিয়া। তারপর তাকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভৰ্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। বৰ্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহরিয়া পরিবারের মাথা যাদব শহরিয়া এবং তার আত্মীয় জুমন কলিতা। তবে তারা এখন বিপদমুক্ত।
বেশ কয়েক বছর ধরে শহরিয়া পরিবারের সাথে যোগাযোগ ছিল এই ভণ্ড তান্ত্রিক রমেশের। পুলকেশকে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল সে । এছাড়াও বাড়ির গরু বাছুর বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল যাদব। বাড়ি থেকে অমঙ্গল দূর করবে বলে বিশেষ পূজা-অর্চনার ব্যবস্থার সাথে একটি তিন বছরের শিশুকন্যাকে বলি দেওয়ার চেষ্টাও করেছিল এই ভণ্ড তান্ত্রিক। তবে এ ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন যাদব শহরিয়া। তিনি বলেছেন যে তারা সে সময় একটা ঘোরের মধ্যে ছিলেন এবং কিভাবে কি হয়েছে সেটা বুঝতে পারছিলেন না। তবে এই ঘটনায় গোটা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বেশ কয়েক বছর ধরে শহরিয়া পরিবারের সাথে যোগাযোগ ছিল এই ভণ্ড তান্ত্রিক রমেশের। পুলকেশকে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল সে । এছাড়াও বাড়ির গরু বাছুর বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল যাদব। বাড়ি থেকে অমঙ্গল দূর করবে বলে বিশেষ পূজা-অর্চনার ব্যবস্থার সাথে একটি তিন বছরের শিশুকন্যাকে বলি দেওয়ার চেষ্টাও করেছিল এই ভণ্ড তান্ত্রিক। তবে এ ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন যাদব শহরিয়া। তিনি বলেছেন যে তারা সে সময় একটা ঘোরের মধ্যে ছিলেন এবং কিভাবে কি হয়েছে সেটা বুঝতে পারছিলেন না। তবে এই ঘটনায় গোটা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই