Header Ads

তৃতীয়দিন অসম বিধানসভায় বাজেট নিয়ে আলোচনা

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি: চলতি অসম বিধানসভায় কম্পেট্ৰালার অ্যান্ড অডিটর জেনােরল (ক্যাগ)-এর প্ৰতিবেদনে অৰ্থমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্বশৰ্মার ২০১৮-১৯ বাজেটের কড়া সমালোচনা করা হয়। সেই প্ৰতিবেদনে অৰ্থমন্ত্ৰী বাজেটকে অবাস্তব বলেও মন্তব্য করা হয়। আজ ২৯ জুলাই বিধানসভা অধিবেশনে প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী প্ৰফুল্ল কুমার মহন্তও বাজেটকে সমালোচনা করে বলেন, কোটি কোটি টাকার কাজের ইউটিলাইজেশন সাৰ্টিফিকেট দাখিল করতে পারেননি। আজ সেইসব সমালোচনার জবাবে অৰ্থমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্বশৰ্মা পুংখানুপুংখভাবে তাঁর পেশ করা বাজেটে বিস্তারিত জানিয়ে ১৮-১৯ অৰ্থবছরে তাঁর পেশ করা বাজেটের এক উজ্জ্বল প্ৰতিচ্ছবি তুলে ধরলেন। তিনি তাঁর আঠারটি প্ৰধান উন্নয়নমূলক প্ৰকল্প তুলে ধরে জানান, সংখ্যালঘু ছাত্ৰদের বৃত্তি দানের কৰ্মসূচি-সহ আরও দু’টি প্ৰকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। বাকি আঠেরটি প্ৰকল্পের অগ্ৰগতির কথা তিনি তুলে ধরেন। অৰ্থমন্ত্ৰী বলেন, মোদী সরকারের ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’কে অনুসরণ করে তিনি তাঁর বাজেট প্ৰস্তুত করেছিলেন। তিনি প্ৰথম দেশে ‘ই-বাজেট’ পেশ করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে গুণোৎসব উৎসবের সূচনা করে শিক্ষার মানদন্ড বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই খাতে তিনি ৯০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন। মহিলাদের সার্বিক কল্যাণে আত্ম-সহায়ক গোষ্ঠিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আৰ্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। এই টাকায় ডিব্রুগড় এবং কাছাড়ের সোনাইয়ের মহিলা আত্ম-সহায়ক গোষ্ঠির প্ৰশংসা করে বলেন, তারা বিভিন্ন সামগ্ৰী তৈরী করে বিনিয়োগ করে অৰ্থ উপাৰ্জন করছে। 
কৃষকদের উন্নয়নে বিভিন্ন কৰ্মসূচির কথা উল্লেখ করে ব্যাংকের ভৰ্তুকির ফলে ৬৮ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছে। ক্ষুদ্ৰ ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগে প্ৰশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। ৩৪ হাজার যুবক-যুবতী প্ৰশিক্ষণ নিয়েছেন সেখানে। তার মধ্যে ১২ হাজারের চাকরি হয়েছে। রাজ্যে ৬০০ টি সেতু এবং ১৯ হাজার কিলোমিটার সড়ক নিৰ্মাণ করা হয়েছে। প্ৰধানমন্ত্ৰীর আবাস যোজনায় (২০১৫-১৬ অৰ্থবছরে) প্ৰতিদিন ১৯৬টি গৃহ নিৰ্মাণ করা হত। বৰ্তমানে ৩৯৭ টি করা হচ্ছে। ১২৬ টি বিধানসভা কেন্দ্ৰের মধ্যে ১২০টিতে ইতিমধ্যে ১০ কোটি টাকা করে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। অসমের তেলে রয়্যালটি বাবদ বকেয়া পুরো টাকাটাই কেন্দ্ৰীয় সরকার দিয়ে দিয়েছে। তার জন্য অৰ্থমন্ত্ৰী প্ৰধানমন্ত্ৰীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সরকারি কৰ্মচারীদের বেতন এবং পেনশন খাতের খরচা ক্ৰমশঃ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্ৰকাশ করে অৰ্থমন্ত্ৰী বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে বলেন, বিগত সরকার ৫৫৮টি প্ৰকল্পের ইউটিলাইজেশন সাৰ্টিফিকেট পেশ করতে পারেনি। কিন্তু তাদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হচ্ছে। পরিশেষে তিনি বলেন, আৰ্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকার প্ৰতিশ্ৰতি সংকল্পবদ্ধ।
আজ বিধানসভায় শিক্ষা নিয়ে আলোচনা- কালে বিরোধীদলের সঙ্গে ট্ৰেজারি বেঞ্চর তীব্র বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, কংগ্ৰেসের রূপজ্যোতি কুৰ্মি, রেকিবুদ্দিন আহমেদ, কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ, রকিবুল হোসেন প্ৰমুখ ওই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। বিরোধী দলপতি দেবব্রত শইকিয়া অভিযোগ করেন, কোনও প্ৰশ্নেরই যথোচিত জবাব দিচ্ছে না সরকার। তার জন্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। শিক্ষামন্ত্ৰী সিদ্ধাৰ্থ ভট্টাচাৰ্য টেট শিক্ষক নিয়ে তাঁর দীৰ্ঘ বক্তব্যে নানা অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ করে কংগ্ৰেস, এআইইউডিএফ শীততাপ নিয়ন্ত্ৰিত বিধানসভাকে উত্তপ্ত করে তোলে। শিক্ষামন্ত্ৰী তাঁর জবাবে একসময় প্ৰায় নিজের ওপরই নিয়ন্ত্ৰণ হারিয়ে আবেগিক হয়ে উঠে বলেন, শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। তিনি বলেন, ২৭ জুন টেট শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে এক মীমাংসায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল। অথচ তাঁরা ২৯ জুন প্ৰতিবাদের পথে নামলেন। কোলে শিশু নিয়ে মহিলা শিক্ষকদের এই আন্দোলনের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্ৰী বলেন, শিশুদের কি মানবাধিকার নেই। শিক্ষামন্ত্ৰী স্পষ্টভােব জানিয়ে দেন, ২০০১ সালে ১২৪ টি পদের বিনিময়ে ৫০০টির বেশি পদ অনিয়মিতভাবে নিয়োগ করা হয়।
যা অবৈধ এবং বাড়তি, তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এবং তাদেরকে রেগুলার করা উচিত হবে না। নগাঁও, শোনিতপুর, শিবসাগর, ধেমাজি ও লখিমপুর—এই পাঁচটি জেলায় নিয়ম বহিৰ্ভূত নিয়োগপ্ৰাপ্ত প্ৰায় ৫০০টির বেশি শিক্ষককে আড়াই হাজার টাকার পারিশ্ৰমিক ঠিক করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে বিগত সরকার কেবিনেট কমিটির বৈঠকে তাঁদের বেতন বৃদ্ধি করে সাড়ে পনের হাজার টাকা করা হয়। বৰ্তমান সরকারের পক্ষে তা মেনে নেওয়া উচিত হেব না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সংগঠন হাইকোৰ্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। রাজ্য সরকারও বিষয়টি নিয়ে সুপ্ৰিম কোৰ্টে যেতে বাধ্য হবে। সোমবার সদনের পরিস্থিতির অবনতি হতে দেখে অৰ্থমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্বশৰ্মা অধ্যক্ষ হিতেন্দ্ৰনাথ গোস্বামীর দিকে আঙুল তুলে বলেন, তিনজন সদস্য বিধানসভাকে ‘ক্যাপচার’ করে রেখেছেন। তাঁর প্ৰশ্ন—তাঁদের প্ৰতি আপনার এতই দরদ কেন? আপনি যদি রক্ষণাবেক্ষণ দেন তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। কংগ্ৰেস তাদের ‘ভিশন ডকুমেন্ট’ নিয়ে আলোচনা করতে পারো না। বেলা দুটোয় বিধানসভা অধিবেশনের প্ৰাকমুহূৰ্তে হইচই-হুলস্থূল প্ৰায় নিয়ন্ত্ৰণের বাইরে চলে যায়। অধ্যক্ষ দশ মিনিটের জন্য বিধানসভা স্থগিত রাখতে বাধ্য হন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.