Header Ads

১ থেকে ৭ আগস্ট স্তন্যপান সপ্তাহ

আশিসকুমার দে , বেঙ্গালুরু : স্তন্যপান একটি বিনিয়োগ  যা শিশুর প্রাণ রক্ষা করে, স্বাস্থ্য, সমাজ এবং অর্থনৈতিক  উন্নয়নের  দ্বারা  ব্যক্তি ও রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এই সপ্তাহের শুরু হয় ১-৭ আগস্ট। এ বছরের মূল ভাবনা,  "পিতা -মাতার শক্তিকরনের মাধ্যমে স্তন্যপানকে সমর্থন  করা”, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য। যদিও বিশ্বব্যাপী স্তন্যপান  শুরু করার হার যথেষ্ট বেশী, এতসত্বেও মাত্র ৪০ শতাংশ শিশু ছয় মাস পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পান করার সুযোগ পায় যা চব্বিশ মাস পাওয়ার কথা। এরপরে আঞ্চলিক ও দেশ অনুসারে এর তারতম্য হয়। অনুকূল স্তন্যপান বৃদ্ধি হলে বিশ্বে 8,23000 শিশু এবং 20,000 মাতৃ মৃত্যু প্রতি বছর হ্রাস করা সম্ভব হতো। স্তন্যপান না করানোর ফলে শিশুর মন্দবুদ্ধি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে,  যার ফলে বছরে ৩০২ বিলিয়ন ডলার আর্থিক  ক্ষতি হচ্ছে। ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সভা’ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ছয়মাসের ৫০ শতাংশ শিশুদের শুধু মাতৃদুগ্ধ পান করাতে সচেষ্ট হয়েছেন।
পর্যাপ্ত স্তন্যপান করানোর পথে সবচেয়ে বড় বাধা কর্মরত পিতা-মাতার কর্মক্ষেত্রে সমর্থনের অভাব। যদিও স্তন্যদান  মায়ের একান্ত পরিসর, কিন্তু আসলে এটি একটি দলগত প্রয়াস, বাবা, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজ একে সুনিশ্চিত করতে পারে। অভিনব উপায়ে মা ও নিকটতম সমর্থকদের  নিয়ে সচেষ্ট হতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে স্তন্যপানকে লিঙ্গ সমতার স্তরে পৌঁছে দিতে হবে। একটি লিঙ্গ সমতা কেন্দ্রিক পিতৃ- মাতৃক সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে থাকবে সবেতন মাতৃত্ব ছুটি, কর্মক্ষেত্রের সমর্থন ও সমতার পরিবেশ তৈরি করা যা প্রথাগত ও অপচারিক (ইনফরম্যাল ও ফরম্যাল সেক্টর) ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য হবে।
গবেষণার  ফলে উঠে এসেছে, মাতৃত্ব  ছুটি নীতির ফলে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি মাস পিছু ১৩ শতাংশ কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত  মাতৃত্ব ছুটি মায়েদের প্রসবোত্তর অসুবিধাগুলিকে সহজেই  অতিক্রম করতে পারে ও তারা সহজেই নিজেদের শারিরীক, মানসিক আবেগিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে সক্ষম হন।
নীতিগত ভাবে পিতৃত্ব ছুটিকে মাতৃত্ব ছুটির সাথে মিলিয়ে না দিয়ে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। পিতৃত্ব ছুটি নীতি পরিবারের প্রয়োজনে ব্যবহার করা গেলে পিতা তার দায়িত্ব পালনের প্রাথমিকতা নির্দিষ্ট করে নিজস্ব আর্থিক ও ব্যক্তিগত উন্নতি করতে সক্ষম হবে। সীমিত এবং  পিতৃত্ব  ছুটির অভাবে পিতার পক্ষে পরিবার ও শিশুর সঙ্গে আবেগিক সম্পর্কে  দূরত্ব তৈরি হয়। বিপরীতে  যে পিতা পর্যাপ্ত পিতৃত্ব ছুটি পান তিনি মা ও শিশুর স্তন্যপানকে সুনিশ্চিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের মতে, ৮৩০ মিলিয়ন মহিলা  শ্রমিক পর্যাপ্ত মাতৃত্ব সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। ১৭০ টি দেশের  তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারা যায় মাত্র ৭৮ টি দেশে মাতৃত্ব  ও পিতৃত্ব কালীন ছুটি পাওয়া যায়। এবং ৬৬ টি দেশ শুধু  মাতৃত্ব ছুটি মঞ্জুর করে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কম বেশী  মাতৃত্ব ছুটি থাকলেও পিতৃত্ব  ছুটির নীতি নেই সব দেশে নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ( WHO)-র ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করেও ছয় মাস সবেতন মাতৃত্ব ছুটির নীতি প্রণয়ন সব দেশে সম্ভব হয়নি।
বিশ্বস্তরে মাতৃত্ব ছুটির পরিমাণ কি হবে তা প্রণয়ন করতে বিশ্ব  শ্রমিক সংগঠন, একটি কনভেনশন করে, যাকে ''ILO CI 83 Maternity Protection Convention 2000'' বলা হয়,  এখানে ১৪-১৮ সপ্তাহ সবেতন মাতৃত্ব ছুটির সুপারিশ করা হয়,  যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৪ সপ্তাহের সুপারিশের অনেক কম। ILO মনে করে মাতৃত্ব ছুটির পর পিতৃত্ব ছুটি দেওয়া হোক । 
আনুমানিক বিশ্বের অর্ধেক দেশ ILO দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ছুটি দেন। এর মধ্যে আছে ৪৭ শতাংশ নিম্ন আয়ের দেশ;  ৪৩ শতাংশ মধ্য  আয় ও ৭৭ শতাংশ উচ্চ আয়ের দেশ । এতে প্রমানিত হয় আর্থ সামাজিক অবস্থান সবেতন ছুটি দেওয়ার  পক্ষে কোন বাধা নয় অনেক দেশ ২৬ সপ্তাহ বা আরো বেশি ছুটি দেন। Parental Social Protection বা পিতা-মাতার  সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। এটি একটি পাবলিক ফান্ডেড সবেতন ছুটির নীতি, বিধেয় এবং পিতৃ-মাতৃ বান্ধব ও পরিবার বান্ধব কর্মক্ষেত্র তৈরির সহায়ক। পিতৃ-মাতৃকে শশক্তকরন করতে এবং তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আমরা সুপারিশ করি।  
১) পিতৃ -মাতৃ  সামাজিক সুরক্ষা  নীতি ও বিধেয়।
২) পিতৃ -মাতৃ  বান্ধব  কর্মক্ষেত্র যা প্রথাগত ও অপচারিক ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য।
৩) পিতৃ -মাতৃ বান্ধব মূল্যবোধ এবং লিঙ্গ ন্যায়পক্ষতা যুক্ত সামাজিক আদর্শ।
এই পদক্ষেপগুলি পর্যাপ্ত স্তন্যপানকে এগিয়ে নিয়ে  যাবে। মায়ের স্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর  করবে। লিঙ্গ ন্যায়পক্ষতা সহ পিতৃ- মাতৃ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা  Sustainable Development Goal (SDG) এর লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবে। আসুন আমরা সবাই একসাথে  কাজ করে একে বাস্তবে পরিণত করি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.