ভাষাশহিদ জগন-জিশুকে স্মরণ করল করিমগঞ্জ
করিমগঞ্জ, ২২ জুলাই (হি.স.) : ১৯৮৬ সালের ভাষা সার্কুলারের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে করিমগঞ্জে জগন-জিশু শহিদ হয়েছিলেন আজ থেকে ৩৩ বছর আগে। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজের অভিমত তুলে ধরে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের করিমগঞ্জ জেলা সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অরবিন্দ পাল বলেন, আমরা শুধু জগন-জিশুকেই স্মরণ করি না, আমরা ১৯ মে, ২১ ফেব্রয়ারি-সহ বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষা শহিদ সুদেষ্ণাকেও স্মরণ করি। আমরা সকল ভাষাকে সম্মান করি। কারণ মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের সমান।
বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের শহর সমিতির সভানেত্রী সুলেখা দত্তচৌধুরীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে মিশনরঞ্জন দাস বলেন, আমরা যদি নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা বা শ্রদ্ধা করতে পারি তা হলে কোনও শক্তিই আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে পারবে না। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নবায়নের কাজ সুপ্রিমকোর্টের পরিচলনায় চলছে। তাই আইনের উপর ভরসা রাখতে বাংলাভাষীদের প্রতি আহ্বান জানান মিশনবাবু। রাহুল চক্রবর্তী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সাতটি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু সেখানে বাংলা ভাষায় কথা বলা প্রায় ২৪ কোটি জনগণের ভাষা উপেক্ষিত। নিজের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যোক্ত করেন রাহুল চক্রবর্তী।
এদিনের আলোচনাসভায় অন্যান্য দের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন মিহির দেবনাথ, অমরেশ রায়, মাশুক আহমেদ, আশুতোষ ভট্টাচার্য, সুখেন্দু বিকাশ পাল, কামলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, শৈলেন দাস, অঞ্জনা রায়, পম্পা দাস, রজত চক্রবর্তী প্রমুখ।
বরাক উপত্যপকা বঙ্গ সাহিত্য্ ও সংস্কৃতি সম্মেলনের করিমগঞ্জ শহর সমিতি আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানটি সকাল আটটায় শুরু হয়। শম্ভুসাগর পার্কে অবস্থিত স্থায়ী শহিদ বেদিতে তর্পণ ও মাল্যেদানের মাধ্যামে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ৮-টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় আলোচনা সভা। সকাল ১০-টায় শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও সাংস্কৃতিক সংস্থার ব্য বস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শম্ভুসাগর পার্কে শহিদ বেদিতে রোটারি ক্লাব, ইনার হুইল ক্লাব, নেতাজি ব্যায়াম সংস্থা, বালিকা সংস্থা, করিমগঞ্জ জেলা বিজেপি, করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সরস্বতী বিদ্যানিকেতন, ভিখমচাঁদ বিদ্যানিকেতন, প্রেস ক্লাব করিমগঞ্জের পক্ষ থেকে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অন্যবদিকে বরাক উপত্যিকা মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতি প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন কার্যসূচির মাধ্য্মে মহান ২১শে জুলাই দিনটি স্মরণ করেছে। এ-উপলক্ষে জেলাশাসকের বাংলোর সামনে শহিদ জগন-জিশু স্মারক বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এখানেও ভাষা শহিদদের জীবনীর ওপর এক আলোচনাসভা-সহ সঙ্গীত ও নৃত্যাজনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহিদ জগন-জিশু স্মারক প্রাঙ্গণে বসেআঁকো প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। শহরের নলিনীকান্ত দাস শতবর্ষ উদযাপন সমিতি ও বঙ্গশ্রী ক্লাব শহিদ স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্য্মে দিনটি পালন করে।








কোন মন্তব্য নেই