টাকা সম্পত্তির লোভে, গণ সম্মোহন-এর নাটক করে গ্রেফতার ভণ্ড তান্ত্রিক রমেশ
নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, গুয়াহাটিঃ
অসমের ওদালগুড়ি জেলার টংলার গ্রামের শহরিয়া পরিবারের পৈশাচিক, অস্বাভাবিক ঘটনার প্রধান নায়ক ভণ্ড তান্ত্রিক রমেশ শহরিয়াকে মঙ্গলবার দরং পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
ছবি, সৌঃ আন্তর্জাল
যার প্ররোচনায় বাড়ির মালিক বিজ্ঞান শিক্ষক যাদব শহরিয়া তাদের পরিবারের এক শিশু পুত্রকে বলি দেবার জন্যে চেষ্টা করছিলেন, এক অস্বাভাবিক আচরণ, পুত্র পুলকেশ কাজল ভূঁইয়া নামে একজন সহ কয়েকজন মিলে নিজেদের আসবাবপত্র,বাইক, প্রভৃতি নিজ সম্পত্তিতে আগুন লাগিয়ে সব তছনচ করে ঘন্টা চারেক ধরে সম্পূৰ্ণ উলঙ্গ অবস্থায় এই ঘটনার খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছবি, সৌঃ আন্তর্জাল
এই ভয়ংকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি চালায় তিনজনের পায়ে, গুলি লাগে, দুঃখজনক পুত্র পুলকেশ রবিবার গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। বাবা যাদব শহরিয়া আজও চিকিৎসাধীন। এই সামগ্রিক ঘটনা গণ সম্মোহন বা মাস হিস্টিরিয়া বলার চেষ্টা হলেও এই ঘটনার পেছনে লাগামছাড়া টাকার সম্পত্তির লোভ, সেইসঙ্গে সুন্দরী মহিলার লালসা, পুলিশের এক সূত্র এইভাবে ঘটনার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। বিগত ৮, ১০ বছর থেকে ভণ্ড তান্ত্রিক রমেশ শিব পুজোর নামে, তন্ত্রমন্ত্রের নামে যাদব শহরিয়া পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন, তার একমাত্র সুন্দরী কন্যা এবং যাদব পত্নীকে কব্জা করার জন্যে নানা ছলনার আশ্রয় নেয়। ২০১৫ সালে একমাত্র কন্যার রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়। তার আগে তাকে ওই তান্ত্ৰিক কয়েকদিন ধরে ধর্ষণ করে, পরে পরিস্থিতির চাপে পড়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন, এমন কি তার মায়ের ও অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয়। তুকতাক করা, নানা ধরনের ওষুধ খাইয়ে, মা এবং কন্যাকে পুরোপরি বস করে ফেলেছিল ওই তান্ত্ৰিক। এমনকি বাড়ির কর্তা যাদবকে রৌতার হাইস্কুলে চাকরি দেওয়ার নামে দু’ লাখ টাকা ওই ভণ্ড তান্ত্রিক নিয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। একমাত্র কন্যার অস্বাভাবাবিক মৃত্যর ফলে কুলসিপাড়ার বাড়ীতে তন্ত্র মন্ত্র পূজা অচর্না করতে হবে, তন্ত্র সাধনার জন্যে নর বলি দিতেই হবে। তান্ত্রিকের প্রধান লক্ষ্য যাদব পরিবারের সম্পত্তি, জমিজমা দখল করা।
আগে থেকে তন্ত্র সাধনার প্রস্তুতি শুরু হয় ৬ জুলাই শনিবারের বারবেলার দিন ভণ্ড রমেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এই তাণ্ডবের ছক তৈরি করে। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে যাদব শহরিয়া এই কথা গুলি বলেন। অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে বলেন, তাকে এক সুগন্ধ তরল পর্দাথ খেতে দেন রমেশ, তার আগে শুকুরের দাঁত বাঁধানো একটি আঙটি দেন, তার জন্যে ২১ হাজার টাকা নিয়েছে। তার মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করার জন্য ওই তান্ত্রিককে দায়ী করেন যাদব। রমেশ তাদের বলেন কয়েক লাখ টাকার গুপ্ত ধন পাওয়া গেছে।
কামাখ্যা ধামে পুজো করলে গুপ্তধন পাওয়া যাবে তার বাড়িতে শান্তি আসবে। ভণ্ড তান্ত্রিকের নানা প্রলোভনে পড়ে একমাত্র মেয়েটার মৃত্যু শোক ভুলতে এবং বাড়িতে শান্তি আনতে যাদব শহরিয়া ভাবেননি এর জন্য এত মূল্য দিয়ে হবে। যার জন্যে এত কাণ্ড সেই ভণ্ড তান্ত্রিক রমেশকে যখন দরং পুলিশ কুড়ুয়ার এক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে তখন মনে হয়নি লোকটি এত ঘৃণ্য অপরাধ করতে পারে । পুরো ঘটনা তিনি অস্বীকার করেন এবং বল ঠেলে দেন যাদব পরিবারের ঘাড়ে। অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারের বলি ডাইনী হত্যা অসমে বন্ধ হয়নি। তাই আজও গণ সম্মোহনের মত অস্বাভাবিক বা আদি ভৌতিক ঘটনার জন্ম দিয়ে একাংশ চরিত্রহীন লোভী মানুষ ওদালগুড়ির মতো ঘটনা ঘটিয়ে ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করে।










কোন মন্তব্য নেই