Header Ads

প্রয়াত বরাকের বিশিষ্ট সাংবাদিক মলিন শর্মা

জপমালা চক্রবর্তী, শিলচর : ভয়ংকর এক পথ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন শিলচর তথা বরাক উপত্যকার সবার প্রিয়  সাংবাদিক তথা চিত্র সাংবাদিক মলিন শর্মা।  জানা গেছে, গত রবিবার রাত এগারোটা নাগাদ ইনার হুইল ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি নিজের কর্তব্য সম্পাদন করে স্কুটি চালিয়ে বাড়ী ফেরার পথে তারাপুর ফায়ার ব্রিগেডের সামনে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।  আচমকা একটি ট্রিপার তাঁকে পিষে চলে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনা স্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই গোটা শহর তথা উপত্যকা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে বেশ কিছুসময় রাস্তা অবরোধ করেন। ঘাতক ট্রীপারটিকে ধরার জন্য শহর জুড়ে তারা দাবি করেন যে, এভাবে অনেক মানুষ এর আগেও  ট্রীপার এর বেপরোয়া চালনার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এদের ঠেকাতে পুলিশের ব্যার্থতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহরবাসী। সত্যিই সদা হাস্য ব্যাক্তি ছিলেন মলিন। আমিও ব্যাক্তিগত ভাবে খুবই মর্মাহত। একজন নাট্যাভিনেত্রী হবার সুবাদে মলিনের সঙ্গে অনেক অনুষ্ঠানেই আমার দেখা হয়েছে। মনে আছে একবার বরাক কমিউনিকেশন( বিটিএন) এর স্টুডিওতে  একটি হাস্য কৌতুকের ধারাবাহিকের অভিনয়ে ছিলাম আমি। সঙ্গে আরও কয়েকজন  অভিনেতাও ছিলেন। অনুষ্ঠানটির রেকর্ডিং এর দায়িত্বে ছিলেন মলিন। রেকর্ডিং এর অবসরে তিনি আমার পাশে এসে বসে বললেন, "বৌদি এখন ক্যামেরা ছাড়া কয়েকটা কৌতুক করে দেখবেন? খুব ভালো আর প্রাণ খুলে হাসবো। আপনি ভীষণ হাসাতে পারেন।"  এমন করে বলতেন যে আমিও না বলতে পারতাম না। একটার পর একটা বলতাম আর উনি ভীষণভাবে উপভোগ করতেন। আমারও হাসাতে ভালো লাগতো। এরপরও যখন যেখানে দেখা হতো, উনি আমাকে ডেকে বলতেন "বৌদি একটা কৌতুক হয়ে যাক"। সত্যিই এভাবে সদা হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিটিকে চিরতরে হারাবো তা মেনে নিতে পারছিনা। শুধু আমিই নই, কেউই মেনে নিতে পারছেন না। স্ত্রী, এক কন্যাসহ অসংখ্য প্রিয়জনদের রেখে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে অকালে চলে যেতে হলো তাঁকে।  আমি ব্যাক্তিগতভাবে তথা পুরো নয়া ঠাহর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.