Header Ads

১৯-এর একুশে কি ছাপিয়ে যেতে পারবে ১৮-কে, চোরাস্রোত বইছে তৃণমূলের অন্দরে

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : ২৬তম একুশে জুলাই আদতে তৃণমূলের কামব্যাক সমাবেশ। এই সমাবেশের আগে তৃণমূলের অন্দরে চোরাস্রোত বইছে। তৃণমূল ধন্দে জমায়েতের ভিড় নিয়ে। এতদিন মমতা মানেই ক্রাউড পুলার। চোখ বুজিয়ে ভিড়ের বন্যা বয়েছে। কিন্তু লোকসভা ভোটের পর হঠাৎ উল্টো স্রোত বইতে শুরু করেছে। তাতেই আশঙ্কা বেড়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ট্রেন কমিয়ে লোক আটকানোর চেষ্টা চলছে। যদিও রবিবার এমনিতেই লোকাল ট্রেন বেশ কম-ই চলাচল করে। 
তারপর দিলীপ ঘোষ আবার হুমকি দিয়েছেন, নেতাদের আটকে রাখার। যতক্ষণ না কাটমানি ফেরত দিচ্ছেন ততক্ষণ একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে যেতে দেওয়া হবে না। এমনই নানা চোরাস্রোতে জেরবার তৃণমূল। উত্তরের নেতারা এবারে বৃষ্টি-ধানরোয়া-গরম ইত্যাদি’র অজুহাত খাড়া করে ১২ আনা কম লোক আসার কারণ ব্যাখ্যা করছেন। শনিবার সারাদিন ধরেই শিয়ালদহ চত্বরে গতবারের মতো থিকথিকে ভিড়ের কোনরকম চিহ্নই চোখে পড়েনি।  
ফলে শক্তি প্রদর্শনের এই একুশে-তে কি ছাপিয়ে যাওয়া যাবে ২০১৮-কে--তা নিয়েই ধন্দে পড়েছে তৃণমূল। কারণ শনিবার রাত পর্যন্ত যাঁরা এসেছেন, সেই ভিড় দেখে মোটেও সন্তুষ্ট নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার চোখেমুখেই স্পষ্ট ধরা পড়ছে অসন্তুষ্টির ছাপ। উত্তরবঙ্গ থেকে আশাতীত তো দূরের কথা ন্যূনতম প্রত্যাশিত লোকও আসেনি। এখন ভরসা শুধু দক্ষিণবঙ্গ।
দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূলীরা কি পারবেন উত্তরের ঘাটতি পূরণ করে তৃণমূলকে অক্সিজেন জোগাতে? মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও করা হয়েছে আঁটোসাঁটো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘুরে গিয়েছেন একুশের মঞ্চ থেকে।
এদিকে  বিজেপির রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তারপরও প্রচ্ছন্ন হুঙ্কার ছাড়লেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি সাফ জানালেন, তিন গন্ডগোল করতেন না, কিন্তু এফআইআর যখন হয়েছে গন্ডগোল করব। একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসে রাজ্যে ফের অশান্তির বাতাবরণ দিলীপ-ভাষ্যে।
তৃণমূলের অভিযোগ, একুশে জুলাই শহিদ দিবসের আগে অশান্তি হলে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দায়ী থাকবেন। এই মর্মে দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কিন্তু তিনি যে দমে যাওয়া পাত্র নন, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন এফআইআর যখন হয়েছে তিনি গন্ডগোল করবেন। হিম্মত থাকলে আটকে দেখান বলে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন তিনি। 
শনিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি হুঙ্কার ছাড়েন, তৃণমূলের শহিদ সমাবেশ ফ্লপ শো হবে। এই সমাবেশকে সার্কাসের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। বলেন কেউ আসবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনতে। ধর্মতলা এবার ফাঁকা থাকবে। তৃণমূল বুঝতে পারবে, তাঁদের বিদায় নেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। 
এরপর তিনি বলেন, একজন নেতাকেও ধর্মতলায় আসতে দেওয়া হবে না। তিনি নির্দেশ দেন জেলায় জেলায় প্রতিবাদে সামিল হন। কাটমানির টাকা না দিলে কাউকে ছাড়বেন না। 
তাঁর এই মন্তব্যের জেরে তৃণমূল কংগ্রেস কড়া বিবৃতি দিয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, দিলীপবাবুদের উদ্দেশ্যই হল অশান্তি বাধানো। সেই কারণেই এ ধরনের কথা বলছেন। অশান্তি বাধানো ছাড়া ওদের কোনও কাজ নেই। আমরা ওসব ধর্তব্যের মধ্যে ধরি না।
এসব সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর প্রথম সমাবেশ ঘিরে সাজো সাজো রব। একুশে জুলাইয়ের এই মঞ্চ থেকে রবিবার একুশের বার্তা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯-এর ২১শে জুলাই থেকেই নয়া স্লোগান তুলবেন তিনি। স্লোগান উঠবে ব্যালট ছাড়া ভোট নয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.