মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথের গাড়ি আটকাল বিজেপি কর্মীরা, উঠল 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ যখন জেলা সভাপতি ছিলেন (লোকসভা নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই) তখনও মাঝে মাঝেই তাঁর গাড়ি ঘিরে তাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হত, শ্লোগান উঠত--‘‘রবি ঘোষের চামড়া তুলে নেব আমরা।’’ যারা এসব বলত এবং বিক্ষোভ দেখাতো তাদের হাতে থাকত তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা এবং তাদের পিছনে থাকত রবি-বিরোধীদের প্ররোচনা। এখনও সেই প্ররোচনাই কাজ করছে এবং তারাই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে--তাদের হাতের পতাকাটাই বদলে গেছে মাত্র ! বিজেপি’র পতাকা নিয়ে বিজেপি’র জয় শ্রীরাম ধ্বনি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ব্যাপারটা বেশ খানিকটা সহজ হয়ে গিয়েছে। বিজেপিও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছে--এইসব বিক্ষোভের সঙ্গে বিজেপি’র কোন সম্পর্ক নেই। আর একটা লক্ষণীয় বিষয় হল--রবি ঘোষের বিরুদ্ধেই এ ধরণের বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে ঘন ঘন--কখনও তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে--কখনো বিজেপি’র পতাকা হাতে নিয়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপি কর্মীরা মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গাড়ি আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার ১ নং ব্লকের ধলুয়াবাড়ি বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকায়। ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিজেপি কর্মীরা জয় শ্রীরাম স্লোগানও দেন বলে খবর।
পুলিশ এসে বিজেপি কর্মীদের সরাতে গেলে বিজেপি কর্মীরা পথ আটকে রাখে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সেখানে আটকে পড়েন। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের জনসংযোগ যাত্রা ছিল ৪নং বাজার এলাকায়। সেই জনসংযোগ যাত্রায় যোগ দেওয়ার জন্য চার নং বাজারে যাচ্ছিলেন
তিনি।
সেই সময় বিডিও অফিসের সামনে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। এই ঘটনায় পর পুলিশ গিয়ে বিজেপি কর্মীদের সরিয়ে দেয়। এই ঘটনার পর ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকায়। উত্তেজিত বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙচুর করে। শুরু হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি।
ঘটনার খবর পেয়ে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি সৌমজিৎ রায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এই বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ পুরোপুরি রাজনৈতিক লাইনে থেকেই বলেন, বিজেপি কর্মীরা নোংরা রাজনীতি করছে। তাদের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা নিয়ে আসা দরকার। আমরা সিপিএমের সময়েও রাজনীতি করেছি। এদের মতো এতটা নোংরা ছিল না।









কোন মন্তব্য নেই