সৰ্বানন্দ সনোয়ালের আমলে সিন্ডিকেট রাজ চলতে পারে না : চন্দ্ৰমোহন
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : বরাক উপত্যকার কয়লা, ইউরিয়া সার, বাৰ্মিজ সুপারি নিয়ে সিন্ডিকেট রাজ চরমে উঠেছে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। আজ বিধানসভায় বরাক উপত্যকার এক সংবাদপত্ৰে প্ৰকাশিত এক খবরের উপর ভিত্তি করে উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ চাঁচাছোলা ভাষায় সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপির শীৰ্ষ নেতারা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। বদরপুর থানার ওসি সরাসরি এই সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। সেই ওসি বলেন, ‘দিশপুর তাঁর হাতে—আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।’
একথা উল্লেখ কের কমলাক্ষ্য বলেন, মেঘালয়, অসমের মাৰ্ঘেরিটা ও লিডো থেকে কয়লা ভৰ্তি ট্ৰাক বরাক হয়ে বাংলাদেশে যায়। বৈধ নথিপত্ৰ থাকা স্বত্বেও সেই ট্ৰাকগুলিকে আটকে রেখে ট্ৰাক প্ৰতি এক-দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে পুলিশ টোকেন দিয়ে তবেই ছাড়ে। ট্ৰাকগুলির ক্ষমতার চেয়ে বিশি ওজনের কয়লা বহন করানো হয়। সুতারকান্দি থেকে বাংলাদেশ যেতে ট্ৰাকপ্ৰতি তিন হাজার থেকে তিন লক্ষ টাকা পৰ্যন্ত আদায় করা হয়।
মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল সিবিআই তদন্ত দেওয়ার কথা ঘোষণা করলে আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর অভিযোগে ট্রেজারি বেঞ্চ উত্তেজিত হয়ে প্ৰতিবাদে সরব হয়। বরাকের বিধায়ক দিলীপ পাল অভিযোগ করেন, কংগ্ৰেস আমলে সিন্ডিকেট শুরু হয়েছে। কমলাক্ষ্য ভিত্তিহীন ও অসত্য অভিযোগ করছেন। তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।
বিজেপি-র প্ৰশান্ত ফুকনও দাবি করেন যে, অসমে সিন্ডিকেট রাজ নেই। বিহার, পশ্চিমবঙ্গে এই রাজ চলছে। তিনি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে চেক গেট নিৰ্মাণের দাবি জানান। কংগ্ৰেসের ওয়াজেদ আলি চৌধুরী, রূপজ্যোতি কুৰ্মি, রেকিবুদ্দিন আহমেদ প্ৰমুখ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিন্ডিকেট রাজের কথা তুলে সরকারের সমালোচনা করেন। কমলাক্ষ্যের গুরুতর এই অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে খণ্ডন করে সংসদীয় পরিক্ৰমা মন্ত্ৰী চন্দ্ৰমোহন পাটোয়ারি বলেন, দায়িত্ব সহকারে বলছি—অসমে কোনও সিন্ডিকেট রাজ নেই। সৰ্বানন্দ সনোয়ালের নেতৃত্বে থাকা সরকারে সিন্ডিকেট রাজ চলতে পারে না।
আর মুখ্যমন্ত্ৰী বলেছেন, সিবিআই তদন্ত দেওয়া হয়েছে। তিনি সমস্ত তথ্য জানান, ২০১৬ সালের ১ জুন থেকে গত ২৬ জুলাই পৰ্যন্ত কাছাড়ে ৯৯ টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ৪৫ জনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। করিমগঞ্জে ৩৩টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ৩৪ জনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। হাইলাকান্দি জেলায় ৬ টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ৩ জনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। কাছাড় জেলায় ৮ টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ৪ জনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। হাইলাকান্দি জেলায় ১ টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ১ জনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। কাছাড় জেলায় ২২ টি অবৈধ ইউরিয়া সারের গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ১৬ জনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। এবং হাইলাকান্দি জেলায় ৬ টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ৬ জনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্ৰী আবারও বলেন, সিন্ডিকেট রাজে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। কারও হাতে কোনও নিৰ্দিষ্ট নথি থাকলে তাঁরা তা হাইকোৰ্টে জমা দিন।
রাজ্যে জাপানি এনকেফেলাইটিস রোগ মহামারির রূপ নিয়েছে। এই পৰ্যন্ত মোট ১২৫ জন মারা গিয়েছেন এবং প্ৰায় ৮০০ জন আক্ৰান্ত। অগপ-র রমেন্দ্ৰ নারায়ণ কলিতা দৃষ্টি আকৰ্ষণমূলক নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্বশৰ্মা জানান, এই রোগ সহজে নিরাময় সম্ভব নয়। ১ নভেম্বর বিধায়কদের সহযোগিতা নিয়ে সমস্ত রাজ্যে ভ্যাকসিন কৰ্মসূচি গ্ৰহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, বিশেষ এক ধরণের পাখির মল-মূত্ৰে মশা বসে। সেই মশার কামড় এবং শূকেরর সংস্পৰ্শে এলে জাপানি এনকেফেলাইসিসে মানুষ আক্ৰান্ত হন। এই ভ্যাকসিন নিলে গৰ্ভধারণ হবে বলে বিশেষ এক সম্প্ৰদায়ের মানুষ ভয় পাওয়ায় রাজ্যজুড়ে অবিশ্বাসের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়। সেই কাজেও বাধাপ্ৰাপ্ত হয়। ডা. ইলিয়াস আলির মতো ডাক্তারদের সহযোগিতা নিয়ে এই কাজ চালানো হয়। মানুষ যদি এখন থেকে সজাগ না হয় তবে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।










কোন মন্তব্য নেই