শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইষ্ট-ওয়েষ্ট করিডরের বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত অংশে সমস্যা জর্জরিত রাস্তার কাজ থমকে পড়েছে
বিপ্লব দেব, হাফলংঃ প্রায় দু-দশক থেকে শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইষ্ট-ওয়েষ্ট করিডর নির্মাণ কাজ মুখ থুবড়ে পড়ার পর কাজে গতি আনতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (নাহাই)-র কাছ থেকে শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েষ্ট করিডর (মহাসড়ক)-য়ের বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার চারলেন সড়ক নির্মাণের কাজ কেন্দ্রের সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রক দিল্লির এনএইচআইডিসিএলের হাতে তুলে দিলে ও এখন আবার নতুন টালবাহনায় রাস্তার কাজ আটকে পড়েছে। দীর্ঘদিন থেকে বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার অংশে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্রের গেরোয় আটকে ছিল চারলেন রাস্তা নির্মানের কাজ। কারন ওই অংশ বড়াইল সংরক্ষিত বনাঞ্চল হওয়ার দরুন এতদিন বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও অংশে চারলেন রাস্তা নির্মানের কাজে বাধার সৃষ্টি হয়। তবে বর্তমানে ওই অংশে বনবিভাগের ছাড়পত্রের কোনও সমস্যা নেই। ওই ৩১ কিলোমিটার অংশে বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র মেলার পরই এনএইচআইডিসিএল বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার অংশে চারলেন রাস্তা নির্মানের জন্য টেন্ডারের ডাক দেয়। এবং বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার অংশে চারলেন রাস্তা নির্মাণের জন্য কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় শশী ইনফ্রা নির্মাণ সংস্থাকে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে শশী ইনফ্রা এই চারলেন রাস্তা নির্মাণের দায়িত্ব পায় এবং এই রাস্তা তৈরির কাজ আড়াই বছরের মধ্যে মানে ২০২১-য়ের মে মাসের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার কথা রয়েছে। কিন্তু এবার শশী ইনফ্রা নির্মান সংস্থার অভিযোগ কাজে হাত দিয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। সংস্থার আরও অভিযোগ, বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত বড়াইল সংরক্ষিত অভয়ারন্যের মধ্যে পাট্টা ল্যান্ড থাকার দরুন ক্ষতিপূরণের সমস্যায় এবং বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশে এখনও বনবিভাগের ছাড়পত্রের সমস্যায় এবার কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই আড়াই বছরের মধ্যে বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার অংশে চারলেন রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব নয় এমনই দাবি করেছেন শশী ইনফ্রা নির্মান সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার ইমরান হায়দর। তবে ইতিমধ্যে রাজ্যসরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার অংশে বন বিভাগের ছাড়পত্রের কোনও সমস্যা নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বড়াইল সংরক্ষিত অভায়ারন্যের মধ্যে কি ভাবে পাট্টা ল্যান্ড রয়েছে। বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত অংশে সব জটিলতা দূর হওয়ার পরই কেন্দ্রের সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রক ওই অংশের চারলেন রাস্তা নির্মানের দায়িত্ব দিল্লির এনএইচআইডিসিএলকে তুলে দেয়। কিন্তু এবার শশী ইনফ্রা নির্মাণ সংস্থা বিভিন্ন অজুহাত তুলে বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার অংশে রাস্তা তৈরির কাজ পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। একমাত্র প্রজেক্টভ্যালু বাড়ানোর জন্যই শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইষ্ট-ওয়েষ্ট করিডর নির্মাণের কাজে যুক্ত সংস্থা গুলি বিভিন্ন সমস্যার অজুহাতে কাজ পিছিয়ে দিতে চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।








কোন মন্তব্য নেই