Header Ads

অসমের হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপির স্থিতির বিরূদ্ধাচরণ কংগ্ৰেসের

নগাঁওঃ  হিন্দু বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষের নাগরিকত্ব প্রদান করা তো দূরের কথা, শরণার্থীর মর্যাদাও দিতে চাইছে না বিজেপি সরকার ৷ পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফর ও জগৎ শেঠের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য সেদিন বাংলার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, ওই ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতার ২৬০ বছর পর বিজেপি সরকার বাঙালির সঙ্গে শতাব্দীসেরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে৷ অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন পাল শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকার যে হলফনামা দিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে একথা বলেন৷ প্রসঙ্গত, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দার ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক ঘোষিত বিদেশি ব্যাক্তিদের শরণার্থীর মর্যাদা দিতে আর্জি জানিয়েছেন৷ যদিও মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ও অর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মা হিন্দু বাঙালিদের শরণার্থীর মর্যাদা দিতেও নারাজ৷ তাই শীর্ষ আদালতে নানা ধরনের অজুহাত দেখিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৯১,৯০৬ জন ঘোষিত বিদেশি ব্যাক্তিদের শরণার্থীর মর্যাদা দিতে অপারগতার কথা হলফনামার মাধ্যমে জানানো হয়েছে৷ স্বাধীনতা আন্দোলনে যে জাতির সবচেয়ে বেশি অবদান, এমনকী, মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসিকাঠে ঝোলা ক্ষুদিরাম বসু, ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামে বৃটিশ অস্ত্রাগার লুন্ঠন করা মাষ্টার সূর্যসেন, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজি সুভাষ, বিপ্লবী রাসবিহারী বসু, বিনয় বাদল দীনেশের মতো ব্যাক্তিরা তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন৷ যদিও এই ঐতিহ্যসম্পন্ন ও সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির বাহক বাঙালি জাতিসত্ত্বাকে নিঃশেষ করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে সর্বা-হিমন্ত জুটি৷ স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই জনগোষ্ঠীর মানুষ যাঁরা অসমে এসেছেন, এমন ঘোষিত বিদেশি ব্যাক্তিদের গলায় জন্তু জানোয়ারের মতো ‘চিপ্স’ লাগিয়ে দেওয়ার কথা রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে৷ অথচ ঘোষিত এই বিদেশির অধিকাংশই প্রকৃত ভারতীয়৷ যারা টাকা পয়সার অভাবে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সুবিচার চাইতে পারেন নি৷ সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন পাল আরও বলেন, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেবছর আট মার্চ যোরহাট শহরে এক অনুষ্ঠানে ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মা অসম চুক্তির ভিত্তিবর্ষ ১৯৭১ সালের পরিবর্তে ১৯৫১ সাল নির্দ্ধারণ করার পক্ষপাতী এবং সরকার গঠনের পর প্রয়োজন সাপেক্ষে শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে ১৯৫১ সালকেই অসম চুক্তির ভিত্তিবর্ষ করবে বলে সদম্ভে ঘোষণা করেছেন৷ যদিও বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু বাঙালিরা মন্ত্রী শর্মার কথার গভীরতার তাৎপর্য বুঝতে ব্যর্থ হন৷ মুখ্যমন্ত্রী সোনোয়াল ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রক্ষাকবচ স্বরূপ আইএমডিটি আইন বাতিল করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বিপদে ফেলেছেন৷ অনুরূপভাবে, বর্তমানে ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালসন ফ্রম আসাম ) ১৯৫০ আইনটিও বাতিল করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন৷ পূর্বের আইএমডিটি আইন বাতিলের আদলে ১৯৫০ সালের ইমিগ্র্যান্টস আইনটি বাতিলের জন্য ২০১৪ সালে শীর্ষ আদালতের সংবিধান বেঞ্চে পাঁচটি মামলা চলছে৷ এর পেছনে কে বা কারা রয়েছেন, তা সহজেই অনুমেয়৷ এই আইনটি বাতিল হয়ে গেলে ১৯৫১ সালের পর থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আসা হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব থাকবে না৷ এমন কী, তাদের শরণার্থীর মর্যদাও থাকবে না৷  মুখে যতই বাঙালিপ্রীতি দেখাক না কেন, বিজেপি সরকার বাঙালি জাতিসত্ত্বার কফিনে শেষ পেরেক মারতে উদ্যত হয়েছে৷ বিজেপি’র নির্বাচনী প্রচারে গত পাঁচবছরের খতিয়ান তুলে ধরার পরিবর্তে হিন্দু-মুসলমান, পাকিস্তান, রাষ্ট্রদ্রোহী, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক ইত্যাদি ভাষণে স্থান দিয়েছে৷ ছ'শো বছরের মোঘল রাজত্ব, দু'শো বছরের বৃটিশ রাজত্বেও সনাতন হিন্দু ধর্ম বিপদাপন্ন হয়নি৷ যদিও যারা বৃটিশের দালালি করতো, তারা এখন মেকী হিন্দুত্বের আফিম খাইয়ে দেশবাসীকে সাম্প্রদায়িক ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শাসন ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে ৷

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.