প্রথমবার ইন্দো-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটে পর্যটক নিয়ে যাত্রা শুরু বিলাসী এমভি মহাবাহু'র
দেবযানী পাটিকর গুয়াহাটি: রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ প্রয়াসে প্রথমবার ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটে যাত্রা শুরু করলো এমবি মহাবাহু নামের বিলাসী জাহাজটি। সোমবার দুপুর পাণ্ডু পোর্ট থেকে এই বিলাসী জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। গুয়াহাটি থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা পৌঁছবে জাহাজটি।
উল্লেখ্য, ব্রহ্মপুত্র নদ "আসামের লাইফ" লাইন হিসাবে চিহ্নিত। ব্রহ্মপুত্র নদকে নিয়ে রাজ্যের নদী পর্যটনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারত সরকারের ভারতীয় আভ্যন্তরীণ জল প্রাধিকরন এবং আসাম সরকারের গুয়াহাটি উন্নয়ন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই যাত্রা। এর সাথে সংগতি রেখে সোমবার যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। ৬ জন ব্রিটিশ পর্যটক এবং দুইজন ভারতীয় সহ মোট ৮ জন পর্যটককে নিয়ে যাত্রা শুরু করা পঞ্চ তারকা যুক্ত এই জাহাজটি ১৬ রাত্রি ও ১৭দিনের পর কলকাতা পৌছবে। কলকাতার হুগলিতে এই যাত্রা শেষ হবে ।
এই জাহাজটি তিনটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট স্পর্শ করে গন্তব্যস্থলে যাবে । এই তিনটি হেরিটেজ সাইট হল মানস, রাষ্ট্রীয় উদ্যান, বাগেরহাট ও সুন্দরবন। মোট ১২৫০ কিলোমিটার জল পথ ভ্রমণ করবে এই জাহাজটি । যাত্রা পথে অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও নান্দনিক শোভা উপভোগ করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারবেন পর্যটকরা। এই যাত্রাপথে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ,যমুনাকে নিয়ে মোট ২০২টি নদী ও শাখা নদী পার হবে জাহাজটি।
বর্তমানে কম সংখ্যক যাত্রী নিয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে যাত্রা শুরু করা হয়েছে। পরে এর যাত্রী সংখ্যা বাড়ানো হবে। এই যাত্রার আগে জাহাজের মাঝেই হিন্দু শাস্ত্র মতে গণেশ পূজার সহিত অন্যান্য দেব-দেবীর পূজা করা হয়। ২৩ কেবিন যুক্ত জাহাজটিতে ৪৮ জন পর্যটক এবং ২৬ জন কেবিন ক্রু ও কর্মচারীরা একসাথে যেতে পারবে। এই জাহাজটি আসামের পর্যটন ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এদিন জাহাজের ফ্ল্যাগ অফ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল আসাম সরকারের গুয়াহাটি উন্নয়ন বিভাগের প্রধান সচিব মনিন্দর সিংহ, পরিবহন বিভাগের সঞ্চালক রাহুল দাস, ক্রুইস ডিরেক্টর নীনা মোরাদা, গুয়াহাটি মহানগর উন্নয়নের কর্তৃপক্ষর মুখ্য কার্যকরী অধিকারী মলয় বরা, কেন্দ্রীয় আবগারী শুল্ক বিভাগের গুয়াহাটি কার্যালয়ের সহকারী আয়ুক্ত সঞ্জীব কুমার অধীক্ষক গৌতম কাকতির সাথে অনেক গন্যমান্য লোকেরা উপস্থিত ছিলেন।










কোন মন্তব্য নেই