Header Ads

বিলটি পাশ হলেও নিৰ্যাতনের প্ৰমাণ সাপেক্ষে নথি-পত্ৰ দাখিল করতে হবে, তার পরেই আসবে আশ্ৰয় দানের প্ৰশ্নঃ সৰ্বানন্দ সনোয়াল


গুয়াহাটিঃ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্ৰতিবাদে গত ১৭ দিন ধরে রাজ্য জুড়ে প্ৰতিবাদ আন্দোলন চলছে। শেষ পৰ্যন্ত রাজ্যের সারা অসম কৰ্মচারী পরিষদের প্ৰায় ৫ লক্ষ কৰ্মচারী আগামী ৩০ জানুয়ারি একদিনের কৰ্ম বিরতির ডাক দিয়েছে। আজ তামুলপুরে পরিষদের কাৰ্যনিৰ্বাহক সভায় এই আন্দোলন কৰ্মসূচী গ্ৰহণ করেছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্ৰ বসুর জন্মদিনে আসু লতাশিল ময়দানে বিলটির বিরুদ্ধে প্ৰতিবাদ সভা আয়োজন করেছে। সেখানেও কৰ্মচারী পরিষদও অংশ গ্ৰহণ করবে। এতদিন মুখ্যমন্ত্ৰীকেও কালো পতাকা দেখানো হচ্ছিল দূর থেকে। আজ লখিমপুরে আউনিআটি বান্দরদেওয়া সত্ৰের নব নিৰ্মিত সাংস্কৃতিক কলা ক্ষেত্ৰ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সত্ৰাধিকার পিতাম্বর দেব গোস্বামী মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়ালকে পাশে বসিয়েই বিলটির প্ৰতিবাদ করে বলেন, কেন্দ্ৰীয় সরকার অসমের মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে জোর জবরদস্তি করে বিলটি চাপিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্ৰীর উচিত তার প্ৰতিবাদ করা। মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল পুনরায় রাজ্যেবাসীকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘বিলটি একটি রাষ্ট্ৰীয় বিল এটা কোনও রাজ্যের নয়। অসমবাসী চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, অসমের জাতি-মাটি-ভেটি রক্ষার দায়িত্ব আমি নিয়েছি। বিলটি পাশ হলেও ২০১৪ সালের আগে অসমে আসা ব্যক্তিদেরই সংশ্লিষ্ট জেলার ডেপুটি কমিশনারদের কাছে নথি-পত্ৰ সহ প্ৰমাণ করতে হবে যে তারা নিৰ্যাতিত হয়ে অন্য রাষ্ট্ৰ থেকে এসেছে। তার পর সেই নথি-পত্ৰের বৈধত ডেপুটি কমিশনাররা পরীক্ষা করবেন, তার পরেই সিদ্ধান্ত হবে তাদেরকে পুৰ্নবাসন দেওয়া হবে কি হবে না।' গতকাল মুখ্যমন্তী মরিগাঁওয়ে জোনবিল মেলার সমাপ্তি দিবসে বিলটির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে বলেছিলেন, সমালোচনা করতে গিয়ে মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলা হচ্ছে, অশ্লীল শব্দ প্ৰয়োগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দু, খিষ্ট্ৰান, বৌদ্ধ প্ৰভৃতির জনসংখ্যা প্ৰায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ। তাই এই রাজ্যে ১ কোটি ৯০ লক্ষ বিদেশী আসবে বলে দাবি করার মধ্যে কোনও সত্যতা নেই। তারা এই রাজ্যে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। মুখ্যমন্ত্ৰী আজ অসম চুক্তির ৬ নম্বর ধরা কাৰ্যকরী করে অসমীয়া মানুষের সাংবিধানিক রক্ষা কবচ সুনিশ্চিত করার জন্য আসু, বুদ্ধিজীবি, শিল্পী সাহিতি্যক প্ৰমুখদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অসম চুক্তির ৬ নম্বর ধারা কাৰ্যকরী করার জন্য কেন্দ্ৰীয় সরকারের নিৰ্দেশে রাজ্য মন্ত্ৰীসভার সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির প্ৰথম বৈঠক আজ অধ্যক্ষ তথা অৰ্থমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মার পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৫ ফেব্ৰুয়ারি কেন্দ্ৰীয় সরকারের কাছে প্ৰতিবেদন করবে বলে হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মা জানান। তিনি জানান আগামী ২৭ জানুয়ারি বিভিন্ন উপজাতি সংস্থা, ২৯ জানুয়ারি বিটিসি এবং ৩০ জানুয়ারি ৬টি স্বশাসিত পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.