Header Ads

অস্তাচলগামী সূর্যকে অর্ঘ্য প্রদান করলেন ব্রতধারীরা

দেবযানী পাটিকর, গুয়াহাটিঃ ছট পুজো উপলক্ষে মহানগরের সমস্ত ঘাটে পুণ্যার্থীদের ভিড়। সূর্য উপাসনার উৎসব ছট। মঙ্গলবার বিকেলে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য প্রদান করলেন ভক্তেরা। সুখ-সমৃদ্ধি, সন্তানের মঙ্গল তথা মনোবাঞ্ছিত ফল প্রাপ্তির আশায় এই উৎসব পালন করেন অসংখ্য ভক্ত। এখন আর এই উৎসব শুধু হিন্দী ভাষী সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভাষার সীমানা ছাড়িয়ে এই উৎসব এখন বাঙালি, অসমিয়া, নেপালীদের মধ্যেও ছাড়িয়ে পড়েছে। প্ৰসঙ্গত, ছট উৎসব উপলক্ষ্যে মহানগরের পাণ্ডুঘাট, কাছমারীঘাট, সুনসালী ঘাট, শুক্ৰেশ্বর ঘাট, ভূতনাথ, নুনমাটি সমেত বিভিন্ন ঘাটগুলি তো সাজিয়ে তোলা হয়েছেই। সেইসঙ্গে শহরের সমস্ত পুকুরগুলিকেও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এই উৎসব উপলক্ষে মহানগরের সমস্ত ঘাটগুলিকে সুন্দর করে পরিষ্কার করে বেরিকেড লাগানো হয়েছে। মহিলাদের কাপড় বদলানোর জন্য চেনজিং রুম ও বানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘাটে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, লাইটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, করা হয়েছে। রয়েছে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরাও। এদিন বিকেল থেকেই ভক্তরা ঘটে আসতে শুরু করে। সমস্ত ঘাটগুলিতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্ৰসঙ্গত, ছট উৎসব চারদিন ধরে পালন করা হয় এবং তৃতীয় দিনে অস্তগামী সূর্যকে জল অর্পণ করা হয় শেষ দিনে সূর্যের শক্তির মুখ্য স্রোত সূর্য পত্নি  উষা ও প্রত্যুষা এই দুই শক্তির সংযুক্ত আরাধনা করা হয়। সন্ধ্যা বেলা সূর্যের শেষ কিরণে প্রত্যুষাকে অর্ঘ্য প্রদান করা হয় ও ভোর বেলায় সূর্যের প্রথম কিরণে ঊষাকে অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। ছট পূজা মূলত সূর্য আরাধানার পর্ব এবং হিন্দু ধর্মে এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে। তার কারণ সূর্য সব শক্তির মূল উৎস। ভারতে সূর্যের উপাসনা প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসছে। ছটপূজার সবচেয়ে গুরুত্বপূৰ্ণ দিক হলো এর পবিত্রতা ভক্তিভাব এবং আধ্যাত্মিকতা। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে মাটির তৈরি বাসন, আখের গুড়, চাল গমের তৈরি প্রসাদ। জীবনের মাহাত্ম্যপূর্ণ তত্ত্বের মধ্যে সূর্য এবং জলের মহত্ব মেনে নিয়ে সূর্যের আরাধনা করার জন্যই নদীর তীরে পূজা করা হয়। সাধারণ মানুষ তাদের নিজের দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত কষ্ট দুঃখ ভুলে গিয়ে ভক্তিভরে এই চারদিন ছটের উৎসব পালন করেন। এদিন বিকেলে অস্তাচলগামী সূর্যকে অর্ঘ্য প্রদান করলেন পুণ্যার্থীরা


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.