Header Ads

শিলচর বিমান বন্দরে তৃণমূল কংগ্ৰেসের প্ৰতিনিধি দলের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি


অসম পুলিশ যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিয়েছেঃ ডিজিপি কুলধর শইকিয়া 
দেশ জুড়ে প্ৰতিক্ৰিয়া, মমতার অভিযোগ দেশে সুপার ইমারজেন্সি চলছে

গুয়াহাটিঃ অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ায় আশঙ্খা করা হয়েছিল অসমে অপ্ৰীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংন্থা অসমের এন আর সি বিরোধী অহরহ নানা অপ্ৰচারের পরেও রাজ্যের শান্তিপ্ৰিয় মানুষ কোনও ধরণের অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে নি, বরঞ্চ সবাই সংযম রক্ষা করেছে। কিন্তু দূৰ্ভাগ্যের কথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪০ লক্ষ মানুষকে বাংলাদেশী তকমা সেটে দেওয়া হল। অসমে গৃহযুদ্ধের মতো পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করায় সংসদেও তার বিরূপ প্ৰভাব পরে। অসমের পুলিশ প্ৰশাসন শান্তি শৃঙ্খলা পরিবেশ অটুট রাখার লক্ষ্যে সৰ্তকতামূলক ব্যবস্থা গ্ৰহণের জন্য রাজ্যের কয়েকটি স্পৰ্শকাতর জেলায় ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। কিন্তু একটিও অপ্ৰীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায় নি। এই সুষ্ঠু পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্ৰী তাদের প্ৰতিনিধি দল অসমে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পরেই রাজ্য সরকার তা ভালো চোখে দেখে নি। মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়ালের প্ৰথম থেকেই কড়া নিৰ্দেশ ছিল রাজ্যে কোনও ধরণের শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্ন হতে দেওয়া হবে না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই শিলচরের মতো স্পৰ্শকাতর জেলায় ১৪৪ ধারা লাগু ছিল। পশ্চিমবাংলার তৃণমূল কংগ্ৰেসের মন্ত্ৰী সাংসদদের প্ৰতিনিধিরা যখন আজ দুপুুরে শিলচর কুম্ভির গ্ৰাম বিমান বন্দরে অবতরণ করে তখনই  কাছাড় জেলার পুলিশ প্ৰতিনিধি দলকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বিমান বন্দর থেকে কলকাতা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্ৰতিনিধি দলটি শহরে প্ৰবেশের জন্য গোঁ ধরে বসেন। শিলচরের বিভিন্ন সূত্ৰ থেকে জানা গেছে পুলিশ অত্যন্ত সংযমের পরিচয় দিয়েছিল, কিন্তু প্ৰতিনিধি দলের অনেকে বিমান বন্দরের বাইরে যাওয়ার জন্য চেষ্টা শুরু করে তখনই পুলিশের সঙ্গে প্ৰতিনিধি দলের ধস্তাধস্তি হয়। ডিজিপি কুলধর শইকিয়া বলেন, ‘‘শিলচরের মতো স্পৰ্শকাতর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা আছে, সেখানে গেলে অপ্ৰীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। তাই সতৰ্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে বিমান বন্দরে প্ৰতিনিধি দলকে বুঝিয় সুঝিয়ে রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা করে পরের দিন পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু কাউকে গ্ৰেফতার করা হয় নি। তার পরেও প্ৰতিনিধি দলটি পুলিশের সঙ্গে কোনও সহযোগিতা করে নি, বরঞ্চ পুলিশের সঙ্গে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে তার ফলে ২ জন পুলিশ কনষ্টেবল সহ প্ৰশাসনের এক কৰ্মচারি আহত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্ৰীর বিরুদ্ধে উত্তর লখিমপুর, বশিষ্ঠ এবং গুয়াহাটি পানবাজার থানায় বিভিন্ন অভিযোগে এজাহার দাখিল করা হয়েছে।''
কিন্তু প্ৰতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য সুখেন্দ্ৰ শেখর রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্ৰমুখ অভিযোগ করেছেন, ‘‘তাদের উপর পুলিশ নিৰ্যাতন চালিয়েছে। সংবিধান উপেক্ষা অসম পুলিশ মুখ্যমন্ত্ৰীর বিরুদ্ধে থানাগুলিতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা কোনও সভা করতে যায় নি, এন আর সির তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে তাদের অভিযোগ জানতে চেয়েছিলাম। সুখেন্দ্ৰ শেখর রায় বলেন, আমরা কেবল বাইরে গিয়ে সাৰ্কিট হাউসে স্নান, খাওয়ার জন্য যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সেই অনুমতিও দেওয়া হয় নি।'' এই প্ৰতিনিধি দলের সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেন, ‘‘তাদের বাইরে বেরোতে দেওয়া হয় নি। কিন্তু আদালতের কোনও আদেশ নেই, তাদের জোর করে ক্যামেরাম্যান ছবি তুলছিল।'' আজ সন্ধ্যার সময় প্ৰতিনিধি দলকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে এক অতিথিশালায় নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছে। আগামী কাল দুপুরে বিমানেকলকাতা পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। শিলচরের সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরের অব্যবহিত পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় পথ অবরোধ রেল অবরোধ শুরু হয়। দমদম, চাকদা, বোলপুর প্ৰভৃতি অঞ্চলে রেল সড়ক অবরোধ শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্ৰী তীব্ৰ প্ৰতিবাদে ফেটে পরে বলেন, ‘‘কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰী রাজনাথের সিংয়ের সঙ্গে দেখা করে অসমে প্ৰতিনিধি দল পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। আমাদের এই প্ৰতিনিধি দল অসমে পরিস্থিতি বুঝতে গিয়েছিল কোনও সভা করতে যায় নি। বিজেপি সাংসদ, মন্ত্ৰীদের আটকাতে পারেন না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দেশে সুপার ইমারজেন্সি চলছে।'' বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘অসমে পরিস্থিতি শান্তিপূৰ্ণ সেখানে অশান্তির সৃষ্টি করতে গিয়েছেন তৃণমূল প্ৰতিনিধি দল। সেখানে গিয়ে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।'' অসম কংগ্ৰেসের বিরোধী দলনেতা দেবব্ৰত শইকিয়া বলেন, ‘‘তৃণমূল প্ৰতিনিধি দলকে সভা করতে না দিলেও বিভিন্ন লোকের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। অসম সম্পৰ্কে ভুল ধারণা নিয়ে ফিরে যাবেন।'' রাজ্য বিজেপির নেতারা তৃণমূল কংগ্ৰেসের  প্ৰতিনিধি দলের কড়া নিন্দা করেছেন। শিলচরের ঘটনার পরেও রাজ্যের পরিস্থিতি শান্তিপূৰ্ণ কোনও ধরণের অপ্ৰীতিকর ঘটনার খবর নেই।আজ রাজ্য তৃণমূল কংগ্ৰেসের সভাপতি দ্বীপেন পাঠক হঠাৎই পদত্যাগ করে বসেন।দলের সাধারণ সম্পাদক সোনারুল শাহ মোস্তাফা জনান, সভাপতি পদত্যাগের ফলে দলে কোনও বিরুপ প্ৰভাব পড়বে
না।

No comments

Powered by Blogger.