অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কি দেখা যাবে , সাহাবাড়ির গণহত্যার বিচার , হবে না, শুধু রক্তাত্ব স্মৃতি বেঁচে থাকবে
(১)
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনি যখন হঠাৎ করেই বাঁশিয়া গ্রামের সাহাবাড়িতে হামলা চালায়, বাড়ির অধিকাংশ মানুষই সেটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। সাহাবাড়ি এলাকার প্রতিষ্ঠিত একান্নবর্তী হিন্দু পরিবার। স্থানীয় রাজাকারেরা পাকিস্তানি বাহিনিকে বাড়িটি চিনিয়ে দেয়। হানাদার বাহিনি বাড়িটির দিকে এগিয়ে আসছে এটা জানতে পেরে বাড়ির অর্ধশতাধিক সদস্য নিজের প্রাণ বাঁচাতে যে যার মত পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাড়ির এক অসুস্থ এবং বৃদ্ধ বয়োজ্যেষ্ঠ আটকা পড়ে যান।
পাকিস্তানিরা আর তাদের দোসর রাজাকারেরা পুরো বাড়িতে লুটপাট চালানোর পর অর্ধশতাধিক মানুষের বাসভূমি পুড়িয়ে দেয়। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় সেই পালাতে না পারা বৃদ্ধকে।
(২)
নিজের স্ত্রী আর শিশুপুত্রকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় লঞ্চে করে রওনা দিয়েছেন এক হিন্দু সাংবাদিক। কিছুদিন আগেই পুরান ঢাকার মালাকারটোলায় তাঁদের যে বাড়িটি ছিল সেটা জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে পাকিস্তানিরা। সেই হত্যাযজ্ঞে কাছের মানুষদের হারাবার শোক কাটার আগেই নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে তাঁর জন্য। নদীপথে কিছুদূর যাবার পরেই টহলে থাকা পাকিস্তানি বাহিনী লঞ্চটি থামিয়ে সেই লঞ্চের সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে ধরে নিয়ে যায়।
নদীঘাটে থেমে থাকা লঞ্চ থেকেই সেই স্ত্রী রাতে শুনতে পান ব্রাশ ফায়ারের শব্দ।
(৩)
নড়াইলের এক হিন্দু পরিবারে তিনটি কন্যা সন্তান, সবচেয়ে ছোট মেয়েটির বয়স মাত্র এক বছর। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই প্রচণ্ড আতংকের মাঝে দিন কাটাচ্ছে এলাকার মানুষগুলো। নিজের মেয়েদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করা পরিবারটি আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলার মাঝে পালাচ্ছে। সেই পালানোর চেষ্টার মাঝে নিজের স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে যান নিজের ছোট মেয়েদের আগলে রাখা মা।
সেই ভিড় আর অনিশ্চয়তার মাঝে নিখোঁজ হওয়া বাবাকে আর কখনো দেখার সৌভাগ্য হয়নি সেই মেয়েগুলোর।
(৪)
সাহাবাড়িতে পুড়ে মরা সেই বৃদ্ধ লোকটি আমার বাবার জেঠু।
লঞ্চে স্বামী হারানো নারীটি আমার পিসি।
বাবা নিখোঁজ হওয়া এক বছর বয়সী মেয়েটি আমার মা।
একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তাই আমার খুব দরকার ছিল।
--লিখেছেন অভীক রায়।
--------------------
--








কোন মন্তব্য নেই