অযোধ্যার নবনির্মিত রাম মন্দিরে ২২ জানুয়ারি রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানটির প্রস্তুতিতে অযোধ্যা শহর সেজে উঠেছে, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরাও সেখানে পৌঁছতে শুরু করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত অযোধ্যার রাম জন্মভূমিতে নির্মিত মন্দিরে রামলালার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার এই অনুষ্ঠান ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রাণ প্রতিষ্ঠাকে ঘিরে অযোধ্যায় প্রস্তুতি

অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে অযোধ্যার মন্দির চত্বর এবং সংলগ্ন অঞ্চলে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তা, মন্দির এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ সাজানো হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধর্মীয় প্রতিনিধি, সাধু-সন্ত, অতিথি এবং ভক্তদের উপস্থিতিকে ঘিরে নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাতেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। ধর্মীয় আচার ও নির্ধারিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রামলালার বিগ্রহ মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত হবে।

অযোধ্যাকে ঘিরে মানুষের ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে নানা সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে।

রাম মন্দির নির্মাণের দীর্ঘ পথ

অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে বহু দশক ধরে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলেছে। ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাম মন্দির নির্মাণের পথ পরিষ্কার হয়।

এরপর ২০২০ সালের আগস্টে অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের ভূমিপূজন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে মন্দিরের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলে।

দেশের নানা প্রান্তে আয়োজন

২২ জানুয়ারির অনুষ্ঠানকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং দেশের অন্যান্য রাজ্যেও মন্দির, আশ্রম ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে পূজা, ভজন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কোথাও কোথাও অনুষ্ঠানটির সরাসরি সম্প্রচার দেখানোরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে অযোধ্যায় উপস্থিত হতে না পারা মানুষও অনুষ্ঠান দেখতে পারেন।

বাংলাতেও আগ্রহ

অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের সঙ্গে বাংলার শিল্পী ও কারিগরদের নামও বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। মন্দিরকে ঘিরে দেশের নানা অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে একটি সর্বভারতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি অযোধ্যার অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়েও বিস্তর আলোচনা চলছে।

সম্পাদকের নোট: এই প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে সাজানো হয়েছে।