বিনা কারণে বিধায়ক। kam lakhya দে Purakayastha র বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী vigilence সেল পাঠিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে
নয়া ঠাহর শিলচর
বরাকের স্বার্থে সরব থাকার জন্যই বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের বিরুদ্ধে অকারণ মুখ্যমন্ত্রী ভিজিল্যান্স সেলের তদন্ত - করিমগঞ্জবাসীকে ব্যালটের মাধ্যমে যোগ্য জবাব দেবার আহ্বান জানাল বিডিএফ।
গতকাল বিজয়া দশমী তথা দীপাবলির শুভেচ্ছা জানাতে করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের বাড়িতে গিয়ে সৌজন্যমুলক সাক্ষাত করেন বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর এক প্রতিনিধিদল। পরে সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর ভিজিল্যান্স সেল দ্বারা বিধায়কদের হেনস্থার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিডিএফ সদস্যরা।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিএফ মিডিয়া সেলের মুখ্য আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন যে কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ সম্পুর্ন নিয়মনীতি মেনে একটি চা বাগানের শেয়ার ক্রয় করেছেন। কিন্তু তারজন্য তাঁকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের মুখ্যমন্ত্রীর ভিজিল্যান্স সেলের পক্ষ থেকে যেভাবে বারবার তদন্তের নামে হেনস্থা করা হচ্ছে তা যে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও আক্রোশমুলক তাতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি বলেন কমলাক্ষই বরাকের একমাত্র বিধায়ক যিনি বরাক উপত্যকার প্রতি বৈষম্য এবং এখানকার জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে বিধানসভা তথা বাইরে সরব থাকেন। তাঁর গনতান্ত্রিক কন্ঠকে রোধ করার জন্যই কি এই ধরনের চক্রান্ত? তিনি বলেন এন আর সি, ডি ভোটার,ডিটেনশন সমস্যা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে বরাকের প্রার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চনা,ডিলিমিটেশন করে বিধানসভা আসন কর্তন, সরকারি প্রশ্রয়ে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় উগ্র জাতীয়তাবাদীদের তান্ডব, সবকিছুর বিরুদ্ধে বরাকের বিধায়কদের মধ্যে একমাত্র করিমগঞ্জের বিধায়ককেই সরব হতে দেখা গেছে। জয়দীপ বলেন এরাজ্যের প্রচুর বিধায়ক মন্ত্রীরা কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন। বিশেষতঃ বরাকের বিভিন্ন সিন্ডিকেটের অবৈধ টাকা লেনদেনের সাথে যুক্ত রয়েছেন বলে শাসকদলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সবাইকে বাদ দিয়ে শুধু করিমগঞ্জের বিধায়ককে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভিজিলেন্স সেলের এই তোড়জোড়ের একমাত্র উদ্দেশ্য যাতে ভয় দেখিয়ে এই বিধায়ককে দাবিয়ে রাখা ছাড়া অন্য কিছু নয়। জয়দীপ এদিন আরো বলেন যে যদি মুখ্যমন্ত্রীর ভিজিল্যান্স সেলকে তদন্ত করতেই হবে তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগ পরীক্ষায় কিকরে বরাকের শুধু এক শতাংশ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন তা নিয়ে তদন্ত হোক। কি উদ্দেশ্যে ডিলিমিটেশন করে বরাকের দুটি আসন অনৈতিক ভাবে কর্তন করা হল তা নিয়ে তদন্ত হোক। কেন কেন্দ্রীয় সরকার তথা রেল মন্ত্রকের সবুজ সংকেত স্বত্তেও ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণ আটকে আছে তা নিয়ে তদন্ত করুক মুখ্যমন্ত্রীর ভিজিলেন্স সেল। জয়দীপ এদিন বলেন যে করিমগঞ্জের বিধায়কের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে মোটেই ভালোমনে মেনে নেননি করিমগঞ্জবাসী। এবং তাই আগামী নির্বাচনে তাঁরা এসবের যোগ্য জবাব দেবেন বলে এদিন মন্তব্য করেন জয়দীপ।
বিডিএফ এর আরেক আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এদিন বলেন যে বেকারত্বের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে কিছুদিন আগে আলফায় যোগ দেবেন বলে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন বরাকের এক যুবক। পরে অবশ্য এব্যাপারে ভুল স্বীকার করে নেন তিনি। হৃষীকেশ বলেন জীবিকার সংস্থান না থাকায় বরাকের যুবক যুবতীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। তিনি বলেন ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাংলা ব্যানার টেনে নামানো সহ সামাজিক মাধ্যমে বাঙালিদের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক প্রচার চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে সঙ্গত কারণেই সরব হয়েছিলেন করিমগঞ্জের এক যুব কংগ্রেস কর্মী। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইলাকান্দির জনৈক যুবক,যিনি নিজেকে লাচিত সেনার কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন, তাঁকে হুমকি দিয়েছেন। হৃষীকেশ বলেন বরাকের কেউ যে কোন দল সংগঠন করতেই পারেন কিন্তু তার জন্য নিজেদের মধ্যে এই ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া নেহাৎই দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকার জন্যই বরাকের যুবপ্রজন্ম যেনতেন প্রকারেন সামান্য লাভের আশায় এভাবে বিপথগামী হচ্ছেন। হৃষীকেশ এদিন বরাকের যুবপ্রজন্মকে এইসব ব্যাক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে সমষ্টিগত স্বার্থ ও নিজেদের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একজোট হবার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হারাধন দত্ত,বিশ্বজিৎ পাল প্রমুখ।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে দেবায়ন দেব এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।








কোন মন্তব্য নেই