ডি এস এস কে নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে প্রদীপ দত্ত রায়
নয়া ঠাহর. শিলচর ডিএসএরি :এসএর গেরুয়াকরণের চেষ্টা চলছে, আগামী নির্বাচনে সদস্যদের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বদের বয়কট করার আহ্বান জানালেন প্রদীপ দত্তরায়।
কাছাড় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। একে লক্ষ্য রেখে স্থানীয় সাংসদ, বিধায়ক সহ বিজেপির নেতারা ডিএসএর কতৃত্ব নিজেদের অধীনে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই ব্যাপারে এবার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায়।
এক প্রেস বার্তায় প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে জাতীয় ব্যায়াম বিদ্যালয় এই উপত্যকার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এবং সারা ভারতে চ্যাম্পিয়ান পঙ্কজ পুরকায়স্থ তথা আসাম চ্যাম্পিয়ান ভাস্কর দত্ত এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে ডিএসএর সদস্যপদে বৃত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি শিলচরের সাংসদ রাজদীপ রায় ও বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী এই প্রতিষ্ঠান থেকে ডিএসএর সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রদীপ বাবুর প্রশ্ন ডিএসএ নিয়ে তাদের এত আগ্রহ কেন ? একই ভাবে ইটখোলা এ্যথলেটিক ক্লাব যার একবছর সভাপতি পদে তিনি নিজে বৃত ছিলেন সেখান থেকেও বিজেপির নেতাদের সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। প্রদীপবাবুর বক্তব্য - এইভাবে ডিএসএর গেরুয়া করণের যে নগ্ন প্রচেষ্টা চলছে এর পেছনে ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়ন নয়, ব্যাক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করাই মূল বিষয়। কারণ যাদের এইভাবে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে তাদের খেলাধুলার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তিনি আরো বলেন যে এইসব নেতারা কতটা এই ব্যাপারে সময় দিতে পারবেন তাতেও প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন যে শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ সন্তোষ মোহন দেব নিজে হকি ও টেবল টেনিস খেলোয়াড় ছিলেন। ছিলেন আন্তর্জাতিক রেফারি। একক প্রচেষ্টায় তিনি আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম তৈরি করিয়েছিলেন ,ফ্লাডলাইটের ব্যাবস্থা সহ। কিন্তু ডিএসএর আভ্যন্তরীন ব্যাপারে তিনি কখনো নাক গলাননি। প্রদীপবাবু আরো বলেন যে তিনি নিজেও ফুটবল পাগল এবং তাঁকে সম্মান জানিয়ে কোলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনিও কখনো ডিএসএর আভ্যন্তরীন ব্যাপারে যুক্ত হননি। কারণ এতো সময় তাঁর নেই। সময় দিতে পারবেন না বলে রূপম সংস্থায় দশবছর সভাপতি থাকার পরও তিনি এই পদ স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছেন কারণ প্রত্যেক পদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া অবশ্যকর্তব্য বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন ক্রীড়া প্রশাসনে তাদেরই থাকা উচিত যারা এসবের সাথে যুক্ত। বাবুল হোড় ও বিজেন্দ্র প্রসাদ সিং এর সুযোগ্য পরিচালনায় বিগত বছরে ডিএসএর যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অনেক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন যে এর আগেও একবার এইভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার গেরুয়া করণের চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু তাদের প্রতিবাদের জন্য তা বানচাল হয়েছে। এবারেও আবার বিজেপি শিবির থেকে ডিএসএ দখলের মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
প্রদীপ দত্তরায় এদিন বলেন যে শোনা যাচ্ছে শিলচরের বিধায়ক এবার ডিএসএর সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন। তিনি বলেন যে এই ব্যাপারে তার আপত্তি রয়েছে। কারণ জেলা রেডক্রস সোসাইটির সম্পাদক হিসেবে শিলচরের বিধায়কের কাজকর্মে কেউ খুশি নন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং রেডক্রসের নতুন ভবন নির্মাণকল্পে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু সিংহভাগ কাজ হবার পর মাত্র ৫ লক্ষ টাকার জন্য এটির কাজ আজও সম্পুর্ন হয়নি। এই সামান্য টাকারও বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন রেডক্রসের বর্তমান সম্পাদক তথা বিজেপি বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী। এছাড়া ডিএসএর সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও বিজেপি নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে প্রদীপ বাবু বলেন যে রূপম সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল একজন প্রকৃত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক যার সুযোগ্য নেতৃত্বে এই সংস্থা শুধু এই উপত্যকা নয় জাতীয় স্তরে সম্মানিত। বিশেষতঃ বিগত বন্যায় তাঁদের ব্যাপক সহায়তা কর্মসূচি বহুল সমাদৃত। তিনি বলেন যে নিখিল পালকে এই পদের যোগ্য দাবিদার বলে তিনি মনে করেন এবং রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে তাঁকে মনোনীত করলে ডিএসএ উপকৃত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
প্রদীপবাবু এদিন বলেন যে শিলচর তথা বরাকের সমস্ত উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে বিগত চার বছরে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন শিলচরের সাংসদ তথা বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। মাল্টিমডেল লজিস্টিক পার্ক, মহাসড়ক, মিনি সেক্রেটারিয়েট, বিবেকানন্দ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, মাস্টার ড্রেনেজ প্রকল্প, উড়ালপুল ইত্যাদি একটি প্রকল্পও সাফল্যের মুখ দেখেনি। এমনকি বিগত ভয়াবহ বন্যার পরও শহরের খাল ও নালা নর্দমার সংস্কারে হাত দেওয়া হয়নি যার জন্য আবার শহরবাসী নাকাল হচ্ছেন। অথচ এতসব কিছুর পরও সাংসদ রাজদীপ রায় ও স্থানীয় বিজেপি নেতারা ডিএসএর ব্যাপারে কেন এত আগ্রহী তা রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রদীপ দত্তরায় এদিন ডিএসএর মাননীয় সদস্যদের আহ্বান জানিয়েছেন যে তাঁরা যেন আগামী নির্বাচনে খেলাধুলার সাথে যুক্ত এবং ক্রীড়াক্ষেত্রের প্রকৃত উন্নয়নে আগ্রহী প্রতিনিধিদের বিবেক ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বদের এই ব্যাপারে বয়কট করার জন্য এদিন তিনি সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে।








কোন মন্তব্য নেই