সান্ত্বনার মৃত্যু ,নতুন করে মানুষ, অমানুষদের চিনলাম
অমল গুপ্ত, বহরমপুর ,মুর্শিদাবাদ :সান্ত্বনাকে নিয়ে ভুগলাম, অনেক যন্ত্রনা ,ভালবাসাও পেলাম। গত 5 ফেব্রুয়ারি থেকে 29 এপ্রিল টানা তিনমাস পাঁচ পাঁচটি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে পত্নী সান্ত্বনার পাশে থাকার সময় বহু মানুষ পেলাম, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের ঋণ কোনো দিন পরিশোধ করতে পারবো না। পত্নী গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় অসমীয়া প্রতিদিন এর সাংবাদিক দ্রুব জ্যোতি পাঠক ফেসবুকে আমার মানসিক যন্ত্রনা নিয়ে এক কলাম লেখেন। তাতে সাড়া ফেলে অসমে। বহু মানুষ আমার পত্নীর খবর নেয়, অসমীয়া প্রতিদিন কাগজের সিনিয়র সাংবাদিক পরম প্রকাশ গগৈ আমার আর্থিক সমস্যার চিকিৎসার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সনওয়াল কে জানান। পরদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সনওয়াল সোজাসুজি আমাকে ফোন করে বলেন পত্নীর অসুস্থতার কথা জানান নি কেন। আসুর নেতা থাকার সময় থেকে আপনাকে জানি। আশ্বাস দিলেন কোনো চিন্তা নেই ঋষিকেশ গোস্বামী যাবে সব ব্যবস্থা করবে। পরদিন ঋষিকেশ আমার পত্নী কে হাসপাতাল এসে দেখা করেন 50 হাজার টাকা হাতে দিতে আসেন ,আমি জানায় টাকা নয় চিকিৎসা টা যেন ভালো হয়।আরো বলি নিজের পত্নীর চিকিৎসা খরচ অন্তত অন্য কারও কাছ থেকে নেবো না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথা রাখতে পারিনি টাকাটা নিয়েছিলাম। পরে কলকাতা এন এইচ রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর হাসপাতালে ভর্তির সময় কেন্দ্রীয় জাহাজ ,জলপথ , আয়ুস বিভাগের মন্ত্রী সর্বানন্দ সনওয়াল কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট কে নির্দেশ দিয়েছিল সাংবাদিক অমল গুপ্তের পত্নীর যাবতীয় সুবিধা দেওয়ার জন্যে। 23 ফেব্রুয়ারি কলকাতা বিমান বন্দরে গাড়ি ,পোর্ট ট্রাস্টের গেস্ট হাউস রেডি ছিল। পোর্ট ট্রাস্টের পদস্থ অফিসার সঞ্জয় মুখার্জী বার বার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে খবর নিচ্ছিলেন। দুদফায় আরো এক লাখ টাকা বিল মিটিয়ে দেয়। অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ দুবার কলকাতা আসেম আমার পত্নীর খবর নেন। ফেসবুকে আমার কথা পরে মন্ত্রী রঞ্জিত দাস আমাকে ফোন করে রুগীর খবর নেন।মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মহন্ত প্রাক্তন সাংসদ পত্নী জয়শ্রী গোস্বামী মহন্ত মেডিক্যাল সুপার কে ফোনে ভালো বেডের ব্যবস্থা করে দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী কেশব মহন্ত আমার পত্নীর খবর নেন। সাংবাদিক বন্ধু বিপ্লব ধরের পত্নী মনিকা প্রতিদিন টিফিন বক্সে নানা পদ রান্না করে পাঠাতেন। বন্ধু বিক্রম দে তার পত্নী সাংবাদিক পিয়ালী ঘোষ দে সন্ধ্যার খাবার প্রতিদিন টিফিন বক্সে পাঠাতেন। শিক্ষিকা মুক্তা রায় চৌধুরী রক্তের যোগাড় করে দেন। গুয়াহাটিতে বরফ পড়ার দিন প্রচণ্ড শীতে সাংবাদিক বিরেস্বর দাস এবং অরূপ চক্রবর্তী দোকান থেকে ঔষধের বক্স গুলো এনে তা ভেঙে তা দিয়ে ঠান্ডা আটকানোর জন্যে মেঝেতে বিছানার ব্যবস্থা করে দেন রাতে। আমি আর ভাই অরূপ গুপ্ত বেশ কয়েকদিন সেই বিছানায় রাত কাটায়। বঙ্গ অসমের বহু মানুষ পত্নীর মৃত্যুর তে শোক প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক মানস মহন্ত, সাংবাদিক রাজীবাক্ষ, সাংবাদিক বিকাশ সরকার, অরুণ গোস্বামী ,পিন্টু রায়, তুহিন হাজারিকা, সাংসদ অধীর চৌধুরী, বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাক্টর সুভাষ সরকার, মুর্শিদাবাদ জেলার মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার পার্থ প্রতিম গুপ্ত, স্টার আনন্দের সাংবাদিক রাজীব চৌধুরী, মৌসুমী বৈরাগী প্রমুখ কিডনি রোগে আক্রান্ত সান্তনাকে নানা ভাবে সাহার্য্য করেছেন।অসমের মুখ্য মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অসমের তথ্য ও জনসংযোগ অধিকর্তা আর্থিক সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সব ভালো কিন্তু বড় দুঃখের সঙ্গে লিখতে বাধ্য হচ্ছি বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রাইভেট নার্সিং হোমের আকাশ সমান লালসা ,দুনাম্বার ব্যবসা মানুষের সেবা গৌন মুখ্য যেন যেন টাকা কামানো।অসমের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক ভালো । লাখ লাখ টাকা খরচ করেও সান্তনা কে ফিরিয়ে আনতে পারলাম না। সৎ অসৎ সব ডাক্তার , নার্সিং হোম কে কুর্নিশ জানালাম। স্বাস্থ্য বিভাগের কঙ্কালসার চেহারাটা দেখার সুযোগ করে দিল গুয়াহাটি দিসপুর কিশলয় বিদ্যাপীঠের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সান্ত্বনা গুপ্ত।








কোন মন্তব্য নেই