Header Ads

হাতি ও ট্রেনের সংঘাত হ্রাস করতে কর্মশালা

আশিষ কুমার দে, বেঙ্গালুরু

নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, গুয়াহাটি : দ্রুতগতিতে একের পর এক বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার ফলে বন্য প্রাণীরা হারাচ্ছেন তাদের নিরাপদ বাসস্থান খাদ্য সুরক্ষা, বেঁচে থাকার তাগিদে খাদ্যের সন্ধানে চলে আসছেন লোকালয়ে বাড়ছে মানব-বন্যপ্রানীর সংঘাত, প্রান হারাচ্ছেন নিরীহ দুপক্ষই।  

লামডিং মূলত  সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে ছোট্ট একুটি রেলওয়ে শহর, তার বুকে চিড়ে বেড়িয়ে গেছে উত্তর পুর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এযাবৎ একমাত্র যোগাযোগের রেল লাইন লিডু পর্যন্ত লামডিং স্টেষন থেকে আর একটি লাইন বেড়িয়ে গেছে বদরপুর হোয়ে বর্তমানে আগরতলা।  লামডিং  রেলওয়ে ডিভিশনের এই মেইন লাইনে আছে তিনটি গুরুত্বপুর্ণ বনাঞ্চল এর মধ্যে সর্বাধিক হাতীর বাসস্থান লামডিং Elephant Reserve এর আওতায় পরে বেশ কিছু করিডোর( স্থায়ী চলাচলের পথ) যা শতাব্দী প্রাচীন।

 একটি পুর্ণবয়স্ক হাতীর প্রতিদিন প্রয়োজন ৭০-১৫০ কেজি খাদ্য ৮০-১০০ লিটার পানীয়জল, এবং প্রতিদিন ৪০-৫০ মাইল ( ৬৫-৮০ কিমি) বিচরন খাদ্যের সন্ধানে এরা দল বেঁধে ডবকা লামডিঙ্গের সংরক্ষিত এলাকে ছেড়ে পাড়ি দেন কার্বি-আংলং পাহাড়ে এবং দুই-তিনদিন পরে আবার একই পথে  ফিরে আসেন। এদের আসা যাওয়ার পথে উন্নয়নের নামে রেলওয়ে ১৯০৩ সালে পাতেন প্রথমে মিটার গেজ, ১৯৯৪ সাল থেকে ব্রড গেজ ২০১৯ এর থেকে ডাবল লাইন, বর্তমানে আধুনিক দ্রুতগামী রেল ইঞ্জিন ১১৫ কিমি বেগে ছুটে চলছে। সাধারণত হাতিদের মাইগ্রেশনের সময় সন্ধ্যা নামার পরে শুরু হয় চলে মাঝ রাত পর্যন্ত   এই সময়ে রেলওয়ের মালবাহী গাড়ী চলাচল বেশি করায় সংঘাতের  সম্ভাবনা বেশি ২০১৪ সালের মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিভিন্ন হাতীর যাতায়তের পথে স্পীড কমানোর কথা বলা হলেও তার যথাযোগ্য পালন হয়না ২০১৬ সালে হাওয়াইপুর লামাচাখাং এর মাঝে গৌহাটিশিলচর প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় ৫টি হাতীর মৃত্যুর পর রাতের বেলায় একটি যৌথ প্যাট্রলিং এর ব্যবস্থা করা হয়, এই করিডোর গুলিতে পার্মানেন্ট স্পীড রেস্ট্রিকসন দেওয়া হোলেও অনেক ক্ষেত্রে লোকো পাইলটদের ভুলের জন্য দুর্ঘটনা হচ্ছে।


     এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮শে আগস্ট শনিবার রেলওয়ে অফির্সাস গেস্ট হাউসের সভা কক্ষে একটি যৌথ কর্মশালার আয়োজন করেন WWF-India (World Wildlife Fund), GHAROA, Railway Department and Forest Department Hojai Division. এই কর্মশালার মুখ্য বক্তা ছিলেন  পদ্মশ্রী ডাঃ কুশল কোঁয়র শর্মাআসাম ভেটেরিনারির কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান, যিনি হাতীর চিকিৎসক  রুপে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে লোকো পাইলট, গার্ডদের ট্রেন চালানোর সময় আরও সংবেদনশীল হতে, বিশেষ করে হাতীর যাতায়তের পথে সবসময় সতর্ক থাকা। তিনি প্রশংসা করেন সেসকল লোকো পাইলটদের যাদের উপস্থিত বুদ্ধির জন্য এযাবৎ প্রায় ১৩৫টি হাতিকে    বাঁচানো  সম্ভব হোয়েছে। তিনি হাতীদের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত বোঝান, হাতীদের দলগত ব্যবহার এবং শিশু হাতীদের রক্ষায় কি ধরনের আগ্রাসী হন মা-হাতী মাসিরা এবং তার ফলেই তারা ওনেক   সময়য়েই ইঞ্জিন কেও আক্রমন করে বসেন। এছাড়াও আজকের কর্মশালায় WWF এর তরফে বক্তব্য রাখেন ডাঃ প্রনব জ্যোতি বরা, ডাঃ হিতেন কুমার বৈশ্য, সুশ্রী  তেজস্বনি নাগেশ, ডেভিড স্মিথ ; রেলওয়ের  হয়ে বক্তব্য রাখেন শ্রী বিজয় প্রকাশ, Sr.DME, শ্রী পার্থ সারথি সরকার DSO, শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান AOM,  ঘরোয়া WWF এর তরফে ৬জন লোকো পাইলট কে ফুলাম গামোছা দিয়ে সম্মানিত করেন শ্রী রনয় কুমার দাস, শ্রী সমরজিত নাথ, ধন্যবাদ জানান  শ্রী দিলিপ চন্দ্র দে, ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শ্রী সঞ্জয় শর্মা, সুজিত দে ওঃ মধুমিতা দে পাল। হোজাই বন বিভাগের রেঞ্জার সুশ্রী ব্রিটি ইংতিপি, ডেপুটি রেঞ্জার শ্রী বিজিত ভট্টাচার্য, শ্রী হিরালাল পাল প্রমুখ

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.