লকডাউনে নৃত্যশিল্পীদের জীবনশৈলী...
-তাপস দেবনাথ-
দুই হাজার কুড়ি সালের, ২২ শে মার্চ, লকডাউন আমাদের শিল্পী জীবনে এক অন্ধকার নিয়ে আসে। মানুষের কর্ম জীবন বিপন্ন হয়, কাজ না থাকায় মানুষ শিল্পের কথা ভুলতে থাকে। কল্পনাপ্রবণ শিল্পী মন বাস্তবের সম্মুখীন হয়। বহু সাধারণ শিল্পী নিজের কর্ম জীবনের রাস্তা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। বেঁচে থাকার জন্য তারা যে কি কি কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা, তা ভাষায় অবর্ণনীয়। কেউবা শাড়ির ব্যবসা, কেউবা বাজারের তরকারির ব্যবসা, কিংবা সেলাই মেশিন নিয়ে সমাজের বিভিন্ন প্রান্তে শুধুমাত্র নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ছড়িয়ে পড়েছেন। অগণিত গুণী শিল্পী তাদের প্রাণ ত্যাগ করেছেন। শহরের, গ্ৰামের, বিভিন্ন প্রান্তের সব শিল্প প্রতিষ্ঠান আজ বন্ধ। তাদের সাহায্য করার জন্য কোন সংস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি বা যদিও গড়ে উঠেছে তা খুবই সামান্য।
শিল্পীদের জন্য আসলে ভাববার কেউ নেই। শিল্পীরা একান্তভাবে একা। সারা জীবন ধরে সাধনার এই ফল কি হল? নৃত্যশিল্পী ও তাদের পরিবার কোন পথে হাঁটবে তা তারা ভাবতেও পারছেন না। ঈশ্বর তাদের এ কি পরীক্ষা নিচ্ছেন?
অথচ সুন্দর সংস্কৃতি ছাড়া সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই আগামী দিনের কথা ভেবে শিল্পীরা ভীত। কি হবে তাদের বেঁচে থেকে?সমাজ গঠনের মূলে শিল্পীদের ভূমিকা অপরিহার্য। এইভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে ভারতবর্ষ তার নিজস্বতা হারাবে এবং সংস্কৃতি বিপন্ন হবে। তাই যদি কোন সংস্থা এই সাধক শিল্পীদের কথা ভেবে তাদের পাশে এসে দাঁড়ান, একটু তাদের কথা ভাবেন তবে এই নৃত্য শিল্পীরা যথার্থ উপকৃত হবেন। স্রোত থেকে হারিয়ে যাওয়া এই শিল্পীরা হয়তো বা ফিরে আসতে পারেন তাদের শিল্পকর্ম নিয়ে আবারো এই জীবনে।
[লেখক কলকাতার বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যশিল্পী।]









কোন মন্তব্য নেই