Header Ads

মানস অভয়ারণ্য বিশ্ব পর্যটকদের হাতছানি দেয়, কিন্তু পরিকাঠামো কোথায়?

অমল গুপ্ত, মানস অভয়ারণ্য থেকে ফিরে-


মানস অভয়ারণ্যে সোনালী সূর্যাস্ত দেখলাম, নারায়ণগুড়ির বেকি নদীতে ভোরের রুপালি সূর্যোদয়ের সাক্ষী হয়ে থাকলাম আমরা। গুয়াহাটি মহানগর থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরবর্তী ৫০০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি দূরবর্তী মানস জাতীয় উদ্যান, বড়োল‍্যাণ্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়নের  অন্তগত বাক্সা এবং  চিরাং  জেলার  মধ্যে পড়ে মানস। বেকি, মানস নদীর ওপারে ভুটানের অভয়ারণ্য রয়েল  মানস রাষ্ট্রীয় 

উদ্যান, অসমের বেকি ও মানস নদী দুটি রাষ্ট্র দুটিকে পৃথক করে রেখেছে। ভুটানের  জন্তু জানোয়ার   নদী পার হয়ে এপারে আসে, মানসের জন্তু জানোয়ার ভুটান জঙ্গলে যায়। মানস অভ্যায়ারণ্যের চারদিক কাঁটা তারের  বেড়া, এই তারে সোলার বিদ্যুৎ প্রবাহের ব‍্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষ বা জন্তু জানোয়ার কেউ ভয়ে তারের বেড়া  অতিক্রম করে না। এত বড় নিরাপত্তার পর 

মানসের কোর এলাকা যেখানে বাঘ গন্ডারের প্রধান আস্তানা, সেই  জঙ্গল এলাকার ২১ কিলোমিটারের  মধ্যে প্রাইভেট রোড, যে কেউ  গাড়ি নিয়ে যেতে পারে। কোনো বাধা নেই। এছাড়াও ১৩০টি সাফারি আছে। তা বন বিভাগের অনুমোদনপ্রাপ্ত। গত ৫ জানুয়ারি মানসে সাফারি করার সময় দেখলাম  যাত্রী ভর্তি বহু গাড়ি  বিনা অনুমতিতে যাতায়াত করছে। গত ২৫ ডিসেম্বরে ও ১ জানুয়ারিতে কয়েকশ বাইরের গাড়ি জঙ্গলের মধ্যে প্রাইভেট রাস্তাটি ব্যাবহার করেছে। মানস এভার 

ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এই বেআইনি জঙ্গল সড়ক বন্ধ করতে চেষ্টা করছেন। সোসাইটির সভাপতি হিরণ্য ডেকা, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব ওরাং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি বীর বাহাদুর লামা এই সড়ক বন্ধে বি টি আর কর্তৃপক্ষকে  অবহিত করেছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এই মানস অভয়ারণ্যে একদিন কালেন বাসুমতারি, রুস্তম বাসুমতারিরা বন্য জন্তু নিধন করতো বলে অভিযোগ উঠেছিলো আজ তারা কমিটি গড়ে বন্যজন্তু শিকার বন্ধে  উল্লেখযোগ্য ভূমিকা  গ্রহণ করেছেন। বন বিভাগ তাদের পুরস্কৃত করেছে। তাদের জন্যে গত ১০ 

বছরে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ থেকে 32 অতিক্রম করেছে। চিতার সংখ্যা ৬০ পার করেছে। গন্ডার এর সংখ্যা ৪০ পেরিয়ে গেছে। হাতি হাজারের কাছে, ৪০০  প্রজাতির পাখি আছে, বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ, গোল্ডেন লেঙ্গুর, ওয়াটার বাফেলো বা জলে থাকা বুনো মহিষ, আই ইউ সিএন-এর লাল তালিকা ভুক্ত গৌড়, তাকে বাইসনও বলা হয়। রাষ্ট্র সংঘর ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জৈববৈচিত্রের অন্যতম স্থান হিসেবে  টাইগার প্রজেক্ট, এলিফ্যান্ট রিজার্ভ মানস জাতীয় উদ্যান বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। চাবাগান, বেকি, মানস 

নদীর শাখা প্রশাখার মাঝে মানস, বাঁশবাড়ি, পানবাড়ি সহ তিনটি রেঞ্জকে নিয়ে মানস জাতীয় উদ্যানের আকর্ষণ পর্যটকদের হাতছানি দেয়। নারণগুড়ি বেকি নদীর তীরে পিকনিক পার্টির ভিড় জমেছে,  মানস 

অভয়ারণ্যের গেটে চাবাগান, তিতা চাঁপ আকাশ ছুঁয়েছে, সোনালী আকাশ, গাছের আলো আঁধারীতে শয়ে শয়ে ময়ূর, ময়ূরীর পেখম মেলার ছবি তুলতে পর্যটকদের ভিভ জমেছে। বেকি নদীতে নৌকা বিহারে উৎসাহের খামতি নেই। মোবাইলে সেলফি তোলা, গভীর অরণ্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলা যেতে পারে। সব নিয়ে নতুন বছরের শুরুতে, করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক সুন্দর স্মৃতি 

তৈরি হয়ে গেল। যা বহুদিন মনের গহন  অরণ্যে  উজ্জ্বল হয়ে  থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.