বিজেপি আগাগোড়াই ছিল আসাম আন্দোলনের সমর্থনে : জে পি নাড্ডা, জগৎ প্রকাশ নাড্ডার বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত বিডিএফ-এর সদস্যের
নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, গুয়াহাটিঃ বিজেপির বাঙালি তথা বরাক বিরোধী অবস্থান জনসমক্ষে
স্পষ্ট করলেন সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি - প্রতিক্রিয়া বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট
এর।
গতকাল
স্থানীয় ইন্ডিয়া ক্লাব ময়দানে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি
জগৎ প্রকাশ নাড্ডার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন
বিডিএফ এর সদস্যরা।
জে পি নাড্ডা এই সম্মেলনে বলেন যে বিজেপি নেতা
স্বর্গীয় অটল বিহারী বাজপেয়ীই প্রথম আসাম আন্দোলনের কথা দেশের কাছে তুলে
ধরেছিলেন। সঙ্গে এও বলেন, বিজেপি আগাগোড়াই ছিল আসাম আন্দোলনের সমর্থনে।
এই
প্রসঙ্গে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর
আহ্বায়ক পার্থ দাস ও জহর তারণ এক প্রেস বার্তায় বলেন, আসাম
আন্দোলনের লক্ষ্য কারা ছিলেন এবং কারা এর
কুফল এখনো ভোগ করে চলেছেন তা এই উপত্যাকার বাঙালিরা হাঁড়ে হাঁড়ে
জানেন। শুধুমাত্র বাঙালি ,যারা প্রকৃত নাগরিক, তাদের '
বাংলাদেশী' আখ্যায়িত করে নিপীড়ন, নির্যাতনই
আসাম আন্দোলনের নেতাদের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল। এবং এসব করে এই আন্দোলনের
নেতারা রাজনৈতিক ফায়দা উঠিয়েছেন, হোমরা চোমরা ,মন্ত্রী
হয়েছেন, কিন্তু এখন অব্দি কতজন প্রকৃত বাংলাদেশী শনাক্ত
করতে পেরেছেন ইতিহাসই তার তথ্য দিচ্ছে । তাঁরা বলেন আসুর সাথে প্রয়াত
প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল ,আসাম
আন্দোলনের সময় আসু নেতাদের সাথে বৈঠকও করেছিলেন
এবং সেটা আসু একশো শতাংশ এই রাজ্যের সব হিন্দু
বাঙালি বিরোধী জেনেও। তিনি বলেন বিজেপির স্থানীয় সাংসদ বা বিধায়করা এইসব কথা
এড়িয়ে চলেন ,কারণ এসব বললে আগামী নির্বাচনে তাঁরা টিকিট নাও
পেতে পারেন ,সেই ভয়ে। কিন্তু জে পি নাড্ডা প্রকাশ্য সভায় হাঁটে
হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন। যে বাংলা বিদ্বেষ আসাম আন্দোলনের মূলে,যার
জন্য বরাকের ছাত্রছাত্রীদের দু দুটো শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হল , বরাকের
মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকেই ভূয়সী প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন তিনি। যে আসাম চুক্তির
সময় সরকারি ভাবে বরাকের কারুর মতামতের তোয়াক্কা করেননি তৎকালীন নেতারা, যে
চুক্তির ধুয়ো তুলে আজোও অনৈতিক ভাবে বাঙালিদের ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠেলে দেওয়া
হচ্ছে, বরাকের বাঙালিদের সব নাগরিক অধিকার কেড়ে নেবার
চেষ্টা করা হচ্ছে সেই চুক্তির সপক্ষে খোদ বরাকে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখলেন জে পি
নাড্ডা অথচ বরাক বিজেপির স্থানীয় সাংসদ, বিধায়করা
একবারও প্রতিবাদ করলেন না।
এরপর কি বলবেন তাঁরা?
বি ডি এফ এর যুব সদস্য কল্পার্ণব গুপ্ত বলেন যে
শিলচর রেলস্টেশন একাদশ শহীদের বধ্যভূমি, যার
বুড়ি ছোঁওয়া দুরত্বে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখলেন নাড্ডা, একবারও
বরাকের ভাষা শহীদদের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলনা তার কথায়! বিজেপির বাঙালি
বিরোধী মানসিকতার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হতে পারে ? তিনি
বলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী যেরকম তার দলকে হিন্দুদের ত্রাণকর্তা দেখাতে চাইছেন,
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এনে হিন্দু বাঙালিদের সমস্যা
মুক্তির কথা বলছেন এগুলো সবটাই নাটক। নাহলে বিল পাস হবার এতদিন পরও তার বিধিনিয়ম তৈরী না করা ,তার
জন্য কোভিড পরিস্থিতির দোহাই দেওয়া - এসব
কখনই হতোনা। তিনি বলেন আদ্যন্ত বরাক তথা বাঙালি বিরোধী না হলে মিথ্যে অজুহাতে এই
সরকার এখনো ' ভাষা শহীদ স্টেশন' নামকরণ
ঝুলিয়ে রাখত না, কিম্বা শিলচর মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন বা মহাসড়ক,
করিমগঞ্জ মেডিকেল কলেজ - এইসব প্রকল্পকেও বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখত
না।
বি বি এফ সদস্যরা বরাকের নাগরিকদের আগামী
নির্বাচনে এসবের যোগ্য প্রতিদান দেবার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।









কোন মন্তব্য নেই