Header Ads

এবার ফ্রন্টফুটে মমতা 'বেসুরো'দের মুখোমুখি, পিকে নয় !!

 বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়


আরও আগেই ফ্রন্টফুটে নামা দরকার ছিল মমতার। তাহলে পরিস্থিতি এতটা বিগড়ে যেত না। সবকিছু একবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরেই মমতা দলের বিগড়ে যাওয়া পরিস্থিতি সামলাবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুভেন্দুর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার জন্য প্রথমে নেমেছিলেন সৌগত রায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পরিস্থিতিতে বরফ কিছুটা গলার জল্পনার মধ্যেই পরের বৈঠকে শুভেন্দুর মুখোমুখি বসানো হয় প্রশান্ত কিশোর ও অভিষেককে। এতেই পরিস্থতি বিগড়ে যায় শুভেন্দু'র ক্ষোভের কারণে। বৈঠকের একদিনের মাথাতেই শুভেন্দু সৌগতদের জানান তাঁর পক্ষে আর 'একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়'! অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারিও সরাসরি মমতার সঙ্গে কথা বলতেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এমন অবস্থায় গোটা রাজ্যে তৃণমূলের একাধিক নেতা-নেত্রী 'বেসুরো' গাইতে শুরু করে দেন। আর সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মমতা এবার তাঁর স্ট্র্যাটেজি পাল্টাচ্ছেন।
তৃণমূলের মধ্যে একটা বড় অংশের ক্ষোভ বাড়ছে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে। এই নিয়ে মদন মিত্র থেকে শুরু করে একাধিক নেতা সরাসরি মিডিয়ায় মুখ খুলেছেন। অনেকই বলছেন, কীভাবে কোথায় মিটিং হবে, কোন জামা পরে কোথায় যাওয়া হবে তা 'বহিরাগত' প্রশান্ত কিশোর কেন ঠিক করবে। আর তৃণমূলের ভেতরের এই কোন্দল তিলে তিলে উপভোগ করছে বিজেপি ! যে কোন্দলের জেরে বহু তৃণমূল নেতা 'বেসুরো' গাইতে শুরু করেছেন। তাঁদের দলের দিকেই মুখ ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন মমতা।
সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন রাজীব। তারপর তাঁরই এলাকায় রাজীবের নামে 'দাদার ভক্ত' দের পোস্টার পড়তে শুরু করে। পোস্টারে তৃণমূলের প্রতীক ছিল না। জল্পনা শুরু হতেই রাজীবের সঙ্গে ইতিমধ্যেই দু'বার আলোচনায় বসেন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে তাতে পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া ডায় নি। এখনও নেত্রী এবং রাজীবের বৈঠক সরাসরি হয়নি। অবশ্য রাজীব জানান, দলের সঙ্গে তাঁর 'দূরত্ব নেই !
জানা যাচ্ছে, হুগলির বেসুরো এক বিধায়কের সঙ্গে ইতিমধ্যেই মমতার একটি বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এর আগে , মমতা শুভেন্দুকে আটকাতে মুখোমুখি না বসলেও, অধিকারী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনও শোনা যাচ্ছে, মমতা শুভেন্দুকে ফোন করলেও তিনি নাকি ফোন ধরেন নি। যদিও এ ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউই মুখ খোলেননি। অন্যদিকে, শুভেন্দুকে আটকাতে তাঁদের কাঁথির বাড়ি পর্যন্ত যান প্রশান্ত কিশোর। তবে তিনি কাজের কাজ কিছুই করতে পারেন নি ! এমন এক পরিস্থিতিতে এবার মমতা নিজেই নামছেন ময়দানে।
এদিকে, ইতিমধ্যেই বিধানসভায় প্রার্থী তালিকার ক্ষেত্রেও প্রশান্ত কিশোর বিশেষ ভূমিকা নিতে শুরু করেছিলেন। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ছিল তাঁর কিছু জোরালো পরামর্শ। এমন পরিস্থিতিতে দলের ভোট স্ট্র্যাটেজিস্টের ক্ষমতা খর্ব করে, মমতা সম্ভবত প্রার্থী বাছাইয়ের রাশও নিজের হাতে রাখতে চলেছেন। সূত্রের খবর এমনটাই !
ওদিকে মমতা-শুভেন্দু'র রাজনৈতিক সম্পর্কের শুরুর দিকে নন্দীগ্রাম একটা বড় ভূমি পালন করে, আর আজ যখন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মমতার সম্পর্ক আপাততঃ ছিন্ন হল রাজনৈতিকভাবে, তখনও সেই নন্দীগ্রামই উঠে আসছে প্রেক্ষাপটে ! বাংলা রাজনীতিতে তৃণমূল বনাম বিজেপির যে সংঘাত দেখা গিয়েছে এতদিন তা ১৯ ডিসেম্বরের পর থেকে ধীরে ধীরে শুভেন্দু বনাম মমতায় পর্যবসিত হতে শুরু করেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে দুই নেতা নেত্রীর সম্মুখ সমর বড় খবর হতে চলেছে।
শান্তিকুঞ্জের অন্দরমহলে ঠিক কী চলছে তার জল মাপতে বহু চেষ্টা করে চলেছে রাজনৈতিক মহল। এক অধিকারী হাত ছাড়লেও বাকি তিন অধিকারীর হাত তৃণমূলের পতাকাতেই রয়েছে কি না , তা নিয়ে জল্পনাও রয়েছে। এরমধ্যে শুভেন্দুর বিজেপি যোগের পর কার্যত কাঁথির অধিকারী দুর্গের মাটিতে তৃণমূলের সভা এক তাৎপর্যবাহী বার্তা দিয়ে গিয়েছে জেলার রাজনীতিতে। যার পর এবার মমতা-শুভেন্দু সম্মুখ সমর জোরদার হতে চলেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
মূলত বিজেপির যদি থাকে শুভেন্দু , তাহলে তৃণমূলের প্রশান্ত কিশোর রয়েছেন বলে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও মেদিনীপুরের বুকে প্রেস্টিজ ফাইটে মমতার প্রতিপক্ষ হিসাবে শুভেন্দুর নামই বারবার উঠছে। এদিকে, তৃণমূল বারবার শুভেন্দুকে টার্গেট করেই আক্রমণ শানাচ্ছে। আর তা আরও স্পষ্ট হয়েছে সৌমিত্র খাঁয়ের স্ত্রী সুজাতার তৃণমূলের যোগের পর। যিনি শুরু থেকেই তৃণমূলে যোগ দিয়ে শুভেন্দু বিরোধিতায় সরব।
জানা গিয়েছে ৭ জানুয়ারি যেখানে নন্দীগ্রামে মমতার হাইভোল্টেজ সভা করার কথা রয়েছে, সেই নন্দীগ্রামেই সেদিন শুভেন্দুরও একটি সভার কর্মসূচি ছিল। পরে শুভেন্দু নিজেই জানান যে, ৭ তারিখ মমতার সভার পর দিন ৮ তারিখ তিনি নন্দীগ্রামে সভা করবেন এবং মমতা ৭ তারিখে যা বলে যাবেন তার প্রতিটি কথার উত্তর তিনি দিয়ে দেবেন।
একদিকে নন্দীগ্রামের ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে নন্দীগ্রামে ২০০৭ সালের দাপুটে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে মমতাকে ২০১১ , ২০১৬ সাফল্যের ঝুলি ভরিয়ে দেয় নন্দীগ্রাম তথা মেদিনীপুর। এদিকে, ঘরের ছেলে শুভেন্দু ততদিনে নন্দীগ্রামের তৃণমূলের বিধায়ক ও পরে মন্ত্রী। এমন দুই ব্যক্তিত্ব আজ বিপরীত মঞ্চে। ফলে ৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রামের শক্তি পরীক্ষার লিটমাস টেস্ট আসন্ন বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে দু'দিন আগেই কাঁথিতে শুভেন্দুর মহামিছিল ও জনসভায় জনসুনামি লক্ষ্য করে অনেকেই মনে করছেন মেদিনীপুর এবারে তৃণমূলের হাত ছাড়া হতে চলেছে। কারণ, গত লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬-টি আসনের মধ্যে ১৪-টিতেই বিজেপি এগিয়ে গেছে। এরপর যদি শুভেন্দুর সৌজন্যে বিজেপি'র দিকে ৪-৫% ভোটও স্যুইং করে তাহলে তৃণমূলকে মেদিনীপুর থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। শুভেন্দুও ঘোষণা করে দিয়েছেন ৩৫-টি আসনের মধ্যে অবিভক্ত মেদিনীপুরে বিজেপি ফলাফল হবে ৩৫-০ !

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.