Header Ads

'বডি ডাবল', ছবি-ভিডিওতে নকল কিমকে দেখানো হয়েছে !!

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়
জোসেফ স্ট্যালিন কিংবা সাদ্দাম হোসেনের 'বডি ডাবল' থাকার কথা অনেকেই হয়তো শুনেছেন। এবার একই কথা শোনা গেল উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উন সম্পর্কে। রহস্যময় এই রাষ্ট্রনায়ক সবশেষ আলোচনায় এসেছেন প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জনসম্মুখে না এসে। হার্ট অ্যাটাক অথবা করোনায় মারা গেছেন এমন গুজবও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

এসব গুজবের পেছনে নাকি ছিলেন স্বয়ং কিম নিজেই। সরকারের মধ্যে থাকা বিশ্বাসঘাতকদের চিহ্নিত করতে কিম নিজের মৃত্যুর গুজব নিজেই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

মৃত্যুর গুজবকে উড়িয়ে দিয়ে গত শুক্রবার প্রায় ২০ দিন পর জনসম্মুখে আসেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ওইদিন রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সানচিয়নে একটি সার কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হন কিম। সে দেশের সরকারি টিভি চ্যানেলের পর্দায় ভেসে উঠল সেই দৃশ্য। তবে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অজ্ঞাতবাসে থাকার পর কিম জং উনের হঠাৎ করে প্রকাশ্যে আসা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
এই প্রশ্নের মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি করেছেন এক চীনা মানবাধিকার কর্মী ও ব্লগার। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ব্লগার জেনিফার জেং প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কিম জং উন--নাকি তার বডি ডাবল!’ অর্থাৎ, কিমের মতোই দেখতে একজনকে তার জায়গায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকী দাবির স্বপক্ষে ছবি পোস্ট করে প্রমাণও দিয়েছেন ওই ব্লগার।
কিমের পূর্বের ছবিগুলোর সঙ্গে সার কারখানা উদ্বোধনের ছবির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। যেগুলো এই সন্দেহকে আরো উসকে দিয়েছে। নতুন ছবিতে কিমকে বেশ স্থুল দেখায়। এছাড়া তার মুখের আকৃতি, হেয়ারস্টাইল ও দাঁতের মাঝেও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস (আইবিটি) বলেছে যে, কিম জং উনের বডি ডাবলের খবর এর আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। এটি একটি সুপরিচিত বিষয়। ২০১৩ সালে দ্য সান এমন একটি ভিডিও পোস্ট করেছিল যেখানে কিমের মতোই দেখতে একজনকে তাঁর সাথে চ্যাট করতে দেখা যায়।
যদিও ওই চীনা ব্লগারের মন্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি পিয়ংইয়ং। মন্তব্য করেনি দক্ষিণ কোরিয়াও। কিমের অজ্ঞাতবাসের সময়ই ৫০ জনের চিকিৎসক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল চীন। তবে সেই প্রসঙ্গে পরবর্তীতে কোনো রিপোর্ট আর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অত্যধিক ধূমপান, স্থূলতা-সহ বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন কিম জং উন। তার উপর ছিল মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ। এর জেরেই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার এবং তারপর থেকেই গুরুতর অসুস্থ কিম জং উন। কিম মারা গেছেন বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জল্পনা-আলোচনা চলে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর আশঙ্কাও করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা বারবারই বলছেন, কিম বেঁচে আছেন, ভালো আছেন।
(তথ্য সূত্র--নিউইয়র্ক পোস্ট)

No comments

Powered by Blogger.