Header Ads

সরবরাহ চেইন খুলে দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ, দীর্ঘসময় থাকছে করোনা, নগদ নোট ছাপানো উচিত !!

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়
সরবরাহ চেইন খুলে দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ। টীকা না আসা পর্যন্ত দীর্ঘসময় থাকছে করোনা সংক্রমণ। দ্রুত বেড়েছে বেকারত্ব। এ অবস্থায় নগদ অর্থ ছাপানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অভিজিত ব্যানার্জী। তিনি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, গরিবের জন্য যথেষ্ট করছে না ভারত সরকার। তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাস ইস্যুতে লকডাউনে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত যে লাখ লাখ মানুষ তাদেরকে ত্রাণ দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে আরো উদার হওয়া উচিত।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন শিক্ষাবিদ সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, আমরা যা করেছি, তা পর্যাপ্ততার কাছাকাছিও নয়। উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করে ভারত। এরপর ২৩০০ কোটি ডলারের ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে গরিবদের নগদ অর্থ দেয়া হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যয় করা হচ্ছে।
২০১৯ সালে সহ-গবেষক এস্থার ডাফলো ও মাইকেল ক্রেমারের সঙ্গে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান প্রফেসর অভিজিত। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে অর্থনীতির প্রফেসর।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার যথার্থই পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু লকডাউনই এই কাহিনীর শেষ নয়। যতদিন এই ভাইরাসের টীকা না আসছে ততদিন, হয়তো দীর্ঘ সময় আমাদের সংক্রমিত করে যাবে তা। এই টীকা সহসাই আসছে বলে মনে হয় না। তাই আগামীতে পদক্ষেপ কি হওয়া উচিত তা পরিষ্কারভাবে, সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে ভারতকে। অর্থনীতি এরই মধ্যে মন্দায় পড়েছে, যেখানে শুধু চাহিদা বাড়ছে। করোনা ভাইরাস মহামারি মানুষকে ডাবল সঙ্কটে ফেলেছে। বহু মানুষ উপার্জনের সক্ষমতা হারিয়েছেন। উপরন্তু বেড়েছে
চাহিদা।
অভিজিত ব্যানার্জী আরো বলেন, আয় বন্ধ হওয়ার কারণে যেসব মানুষ দারিদ্র্যের মুখোমুখি হচ্ছেন তাদেরকে উদ্ধারে আরো বেশি অর্থ খরচে ভারত সরকারকে উদার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমি জানি যে, যখন মার্কেটগুলো বন্ধ তখন মানুষদের অর্থ দেয়া হচ্ছে। এই অর্থের ব্যবহার কি, এ নিয়ে উদ্বেগ আছে আমি জানি। কিন্তু শুরুতেই জনগণকে বলতে হবে যে, অর্থ আসছে, তা দিয়ে কি করবে তার একটি চাহিদা তৈরি করতে। জনগণ নিশ্চয়তা চায়। তাদেরকে নিশ্চয়তা দিতে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে সরকারকে। যখন পণ্য ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্র সহজ করা হবে, এগুলো খুলে দেয়া হবে তখন
যখন জনগণের হাতে অর্থ যাওয়া দরকার এবং সেই অর্থ ব্যয় হওয়া দরকার।
অভিজিত বলেন, এরই মধ্যে ভারতে কেন্দ্রীয় অনেক কল্যাণমুলক স্কিমের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে লাখ লাখ বাড়ি। এসব বাড়ি এমন সরাসরি আর্থিক সহায়তার সুযোগ পেতে পারে। এই সুবিধার বাইরে যে বৃহৎ জনগোষ্ঠী থাকবেন তাদেরকে শনাক্ত করতে হবে স্থানীয় রিপোর্টিং ম্যাকানিজমের মাধ্যমে এবং তাদের পকেটে যাতে অর্থ যায় এটা নিশ্চিত করতে হবে। এসবই হলো সঙ্কট সমাধানের উপায়। সব সময় এটা যর্থার্থ নয় যে, কে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য আর কে যোগ্য নয় তা নির্ধারণ করা। তবে এই সময়ে আমরা শতভাগ খাঁটি কাজ করার চেষ্টা করছি না। জরুরি অবস্থা চলছে।
তিনি মনে করেন, কল্যাণমুলক সুবিধা বিস্তৃত করতে বড় তহবিল বানানোর জন্য নতুন করে রুপি ছাপানোর বিষয়ে ভীত হওয়া উচিত নয় ভারতের। যুক্তরাষ্ট্র এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে যে, তারা ডলার ছাপতে পারে এবং তা ব্যয় করবে। আমি জানি না ভারত কেন সেটা করছে না। সম্ভবত এক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির আতঙ্ক আছে। কারণ, যখন পর্যাপ্ত পণ্য ও সেবা সরবরাহ নেই তখন নগদ অর্থ এলে তাতে এই মুদ্রাস্ফীতি ঘটতে পারে। কিন্তু আয়ে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন গড়তে হবে ভারতকে।
তিনি বলেন, কিভাবে সরবরাহ চেইন খুলে দেয়া যায়, যাতে আর কোনো সংক্রমণ সৃষ্টি না হয়, আর কোনো মৃত্যু না হয়, এমন সংক্রমণ ও মৃত্যু হলে তাতে আবার লকডাউন আসতে পারে--এসবই হওয়া উচিত এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিশ^ব্যাংকের মতে ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে শতকরা মাত্র ১.৫ ভাগ থেকে ২.৮৯ ভাগের মধ্যে। নিরপেক্ষ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এখানে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে দ্রুতগতিতে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.