Header Ads

কেরলের কলেজ নির্বাচনী প্রচারে উড়ল পাকিস্তানের পতাকা, গ্রেফতার ৩০ জন পড়ুয়া

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সর্বদা শিরোনামে থাকে কমিউনিস্ট শাসিত রাজ্য কেরল। প্রায় দিনই শোনা যায় যে, কেরালা থেকে পালিয়ে গিয়ে আইসিস এ যোগ দিচ্ছে বহু মানুষ। এমনকি আইসিসে যোগ দিয়ে কেরলের বহু মানুষ আমেরিকার হামলায় মারাও গেছে। এমন কি ৫-৬ বছরের বাচ্চাকে নিয়েও অনেকে আইসিস এ যোগ দিতে সিরিয়া চলে যায়। আবার অনেক সময় কেরল থেকে আইসিস এর জঙ্গি, মডিউলদের গ্রেফতারির ঘটনাও সামনে আসে।
কমিউনিস্টরা বরাবরই নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ এবং মানবতাবাদী আখ্যা দিয়ে থাকেন। তাই তাঁরা গণতন্ত্র আর সংবিধানের দোহাই দিয়ে ভারতের দুর্নাম করে পাকিস্তানের গুণগান করে। এমনকি  কমিউনিস্টরা ভারত থেকে কাশ্মীর, কেরলকে আলাদা করে আলাদা রাষ্ট্র ঘোষণা করার জন্য আন্দোলনও করে। এছাড়াও মাওবাদী জঙ্গিদের সমর্থনেও কমিউনিস্টরা বরাবরই সোচ্চার হয়। অনেক কমিউনিস্টকে দেশ আর দেশের পতাকার অসন্মান করতেও দেখা যায়।
এবার সেই কমিউনিস্ট শাসিত কেরল থেকে আবারও বিতর্কের ঝড় উঠলো। জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার পর ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে দিনদিন উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।  পাকিস্তান থেকে বারবার ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে। আর এই অবস্থায় কেরল থেকে পাকিস্তানের সমর্থনে পাকিস্তানের পতাকা তুলে গ্রেফতার হল কয়েকজন যুবক।
ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের কোঝিকোর জেলায় অবস্থিত প্রেমব্রা সিলভার কলেজ ক্যাম্পাসে। খবর অনুযায়ী, কলেজে  ছাত্র সংসদের নির্বাচনী প্রচারে গত বৃহস্পতিবার কলেজের মধ্যেই এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করে মুসলিম স্টুডেন্ট ফ্রন্ট নামক এক ছাত্র সংগঠন। আর সেই মিছিলের জন্য বানানো হয়েছিল একটি বিশাল সবুজ পতাকা। যার মাঝখানে একটি চাঁদও আঁকা ছিল। স্বভাবতই অনেকেই পাকিস্তানের পতাকা এবং মুসলিমদের পতাকার মধ্যে নিজেকে গুলিয়ে ফেলে। দুটো পতাকা অনেকটা এক হওয়ার কারণে অনেকেই মুসলিমদের পতাকাকে পাকিস্তানি পতাকা বলে ভেবে নেয়। কিন্তু সেদিন যে পতাকা ওড়ানো হয়েছিল, সেটি পাকিস্তানের পতাকাই ছিল।
এমনকি কলেজের নির্বাচনী প্রচারে যে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানো হয়েছে, সেটা স্বীকার করে নিয়েছে মুসলিম স্টুডেন্ট ফ্রন্টের সদস্যেরা। এই ঘটনায় ৩০ জন পড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৫৩ এবং ১৪৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সমগ্র ঘটনার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.