বরাক, ব্রহ্মপুত্রের সেতু হিসাবে কাজ করার অংগীকার উপাধ্যক্ষ আমিনুল হক লস্করের
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ
বরাক উপত্যকা এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মাঝে ভৌগলিক দূরত্ব তো আছেই, কিন্তু বরাক উপত্যকায় উন্নয়ন সেভাবে হয়নি, যে ভাবে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় হয়েছে। তাই দুই উপত্যকার মানুষের মধ্যে মনের দূরত্ব থেকে গেছে। এই দূরত্ব থেকে কিছু হলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতার জন্ম হয়েছে। সর্বানন্দ সোনোয়াল নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বরাকে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে সেই দূরত্ব অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। আরও উন্নয়নের প্রয়োজন আছে আমি সেই দূরত্ব কমিয়ে দুই উপত্যাকার মাঝে সেতু বন্ধনের কাজ করবো।
ছবি, সৌঃ আন্তর্জাল
হিন্দু, মুসলিম, অসমিয়া বাঙালি সহ বিভিন্ন ভাষাভাষী ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে সেতু হিসাবে কাজ করবো। আজ অৰ্থাৎ শুক্ৰবার অসম বিধানসভার নিজ চেম্বারে বসে বিধানসভার নব নির্বাচিত উপাধ্যক্ষ আমিনুল হক লস্কর এই অঙ্গীকার করেন। বরাকের কাছাড় জেলার সোনাই বিধানসভা কেন্দ্রের এক মাত্র বিজেপি বিধায়ক, বিজেপির ৬১ জন বিধায়কের মধ্যে তিনি একাই বিধানসভা গিয়েছেন তাই দল তাঁকে এক মৰ্যাদাসম্পন্ন পদ দিয়ে পুরস্কৃত করেছে, তা তাঁর প্রাপ্য ছিল।
একদিন আসু, অগপ-র মতো দল সংগঠনের সঙ্গে আন্দোলন করা মূল স্রোতের প্রতিনিধি স্বাভাবিকভাবেই বরাক, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার আর্থ সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে ভালোভাবেই অবহিত, তাই তিনি এদিন একান্ত সাক্ষাৎকারে বরাকের অনগ্রসরতার নানা দিক তুলে ধরে জানালেন, তার বিজেপি সরকার আসার পর বরাকের উন্নয়ন শুরু হয়েছে তবে এখনও অনেক পথ বাকি আছে। সড়ক যোগাযোগ সম্পর্কে বলেন, নেলি থেকে হারাঙ্গাজাও পৰ্যন্ত ২০০ কিলোমিটার সমতল এলাকা সমীক্ষা হয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে গুয়াহাটি থেকে বরাক প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস পাবে।
লঙ্কা থেকে চন্দ্রনাথপুর শিলচর এই রুটেও ১৯৮৪ সালে সমীক্ষা হয়েছে রেলওয়ের পক্ষ থেকে এই পথও সমতল রেল বিভাগ বৈদ্যুতিক লাইনে জন্যে সমীক্ষা করেছে। সমতল কোনও পাহাড় পড়বে না বলে উপাধ্যক্ষ জানান। ইস্টওয়েস্ট মেগা সড়ক সম্পর্কে বলেন, বালাসরা থেকে হারাঙাজাও পৰ্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজ আটকে আছে, বন বিভাগের সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বারবার ধস নামছে, সেই জন্য কাজে বিলম্ব ঘটছে। তিনি বলেন, বরাক এর তিন জেলার মধ্যে প্রধান রাস্তাটি ফোরলেন হবে, তিন জেলার মধ্যে ফোরলেন রাস্তার মিলন ঘটবে। বলেন বরাক এর ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী, তাই সেখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব দরকার। তা সম্ভব না হলে যোরহাট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ক্যাম্পাস আপাতত করা যেতে পারে।









কোন মন্তব্য নেই