লোমহর্ষক শ্বেতা আগরওয়ালের হত্যাকারী গোবিন্দ সিংহলকে ফাঁসির রায় দিল আদালত
দেবযানী পাটিকর,গুয়াহাটি। অবশেষে শ্বেতা হত্যাকান্ডে অভিযুক্তর শাস্তি ঘোষণা করা হলো। হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত গোবিন্দ সিংহলকে ফাঁসি ও মাতৃ ও ভগ্নিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিল আদালত। কামরূপ মহানগর সত্ৰ ন্যায়ধীশের আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় দান। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। প্রেমিককে নিজের ঘরেই হত্যা করেছিল গোবিন্দ সিংহাল আর এতে সহযোগিতা করেছিল তার মাতৃ ও ভগ্নী। উল্লেখ্য যে ১ আগস্ট এই শাস্তির ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে শুনানি সম্পূর্ণ করে ৩ আগস্ট পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।হত্যা অপরাধ মূলক কার্যকলাপ ও প্রমাণ নষ্ট করার জন্য তিনটা ধারা যথাক্রমে।৩০২, ২০১, এবং ১২০(খ) তে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তিন জনকে। আদালতে তিন জনকে দোষী সাব্যস্ত করার পরে ফাঁসির দাবি তুলেছিল শ্বেতার বাবা।
রাজ্যের ভিতরে শীর্ষ মেধাবী ছাত্রী শ্বেতা আগারওয়ালের জীবনে প্রেম এসেছিল স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু প্রেমের পরিণতি এতটাই ভয়ানক হতে পারে সেটা হয়তো শ্বেতা কখনো ভাবতে পারেনি।কখনো সে হয়তো ভাবেনি যে যাকে সে সবচেয়ে বেশী ভালোবেসেছিল সেই তাঁর মৃত্যু দূত হয়ে আসবে।বিকমের পঞ্চম ষান্মাসিকের পরীক্ষা শেষ করে প্রেমিকের সাথেই কেসি দাস কমার্স কলেজ থেকে ভরলুমুখ স্থিত তার বাড়িতে যায় শ্বেতা। সেখানেই গোবিন্দ শ্বেতাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। গোবিন্দ বলে যে বিয়ের পরে তারা গুয়াহাটি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে তার বাবার সাথে থাকবে। কিন্তু প্রেমিক গোবিন্দের বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে শ্বেতা বলে তার বিকম পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা ।এই কথাতে রাগ করে গোবিন্দ শ্বেতার মাথা দেওয়ালে ধাক্কা মারে। ফলে মাথায় খুব জোরে আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে শ্বেতা।এই ঘটনাকে লুকিয়ে রাখার জন্য গোবিন্দ শ্বেতার অচেতন দেহকে ভারলু নদীতে ফেলে দিয়ে আত্মহত্যার রূপ দিতে চায় ।কিন্তু রাস্তায় অনেক লোক থাকাতে তার পরিকল্পনা সফল হয়নি ।সে পুনরায় তার নিজের ঘরে ফিরে আসে এবং কেরোসিন ঢেলে বাথরুমের ভিতরে তার শ্বেতার দেহকে জ্বালিয়ে দেয়। তবে পুলিশ তদন্তে প্রমাণ হয়েছে জ্বালানোর সময় শ্বেতা জীবিত ছিল ।এই কাজে সহায়তা করে তার মা কমলা দেবী সিংহল (২৩)ও বোন ভবানী সিংহল (২৩)।বাথরুম থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ও আধ পোড়া অবস্থায় শ্বেতার দেহকে উদ্ধার করে। সেদিনই ভরলুমুখ পুলিশ গোবিন্দকে গ্রেফতার করে জেলা চলায়।পুলিশের জেরাতে গোবিন্দ স্বীকার করে হত্যার কথা। এই ঘটনার প্রায় সাতের মাস পরে শ্বেতার পরিবার শান্তি পায়। সামান্য একটু ভুলের জন্য একটা পরিবার সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে গেল আর একটি মেধাবী ছাত্রী এভাবে হারিয়ে গেল। শ্বেতার পরিবারের লোকেরা এই রায় নিয়ে খুশি ,তাদের মতে যেমনটি সাজা তারা চেয়েছিল ঠিক তেমনটি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে ৩১জুলাই ৩ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।










কোন মন্তব্য নেই