বৈশাখীকে নিয়ে সাপের ছুঁচো গেলা অবস্থা ! শোভনকে ধরে রাখাই দায় গেরুয়া শিবিরে
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : বৈশাখীকে নিয়ে গভীর বিপাকে পড়েছে বিজেপি। তাঁকে না পারছে ফেলছে, না পারছে রাখতে। একেবারে ছুঁচো গেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শোভন-বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। কলকাতা পুরসভা ভোটের আগে শোভকে দলে নিয়ে গিয়ে বৈশাখীকেও স্থান দিতে হয়েছে বিজেপিকে, সেই বৈশাখীই এখন সূঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোতে চাইছেন।
দু-সপ্তাহও হয়নি শোভন-বৈশাখী যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তার মধ্যেই কত নাটক ঘটে গেল। দেবশ্রী রায়কে দলে নেওয়া থেকে শুরু, তারপর একে একে শোভন-বৈশাখীকে সংবর্ধনায় কার্ডে নাম না ছাপানো, সংবর্ধনা মঞ্চে ডাল-ভাত রসিকতা, দেবশ্রী রায়ের যোগদান নিয়ে সমস্যা, তারপর বৈশাখীর পদ নিয়ে বিতর্ক।
মোট কথা বিজেপিতে গিয়ে সুখে নেই শোভন-বৈশাখী। বিজেপি শোভনকে চাইলেও, বৈশাখীকে সেভাবে চাইছে না। বিজেপি মনে করছে, বৈশাখী রাজনীতিতে একেবারেই আনকোরা। এখনও পদ সামলানোর মতো অভিজ্ঞতা তাঁর কোথায়। আগে নিজেকে প্রমাণ করুন বৈশাখী, তারপর তো তিনি দলের কোনও পদে আসবেন।
ভারতী ঘোষ রাস্তায় নেমে কাজ করছেন, তাঁর কাছে খুশি হয়েই না দল তাঁকে পদ দিয়েছে। তেমনইটাই হবে বৈশাখীর ক্ষেত্রে। কিন্তু আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন বৈশাখী তা মানতে নারাজ। তিনি এখনই কোনও সম্মানজনক পদ চান, তাতেই আপত্তি বিজেপির। এরপরই কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র বাড়িতে গিয়ে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করে আসেন শোভন-বৈশাখী।
এমতো অবস্থায় বিজেপি পড়েছে বিপাকে। কলকাতা পুরসভা ভোটের দিকে চেয়ে শোভনকে তাঁরা দলে নিয়েছিলেন। তাঁকে কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা দায়িত্ব দিতে চায় বিজেপি। এখন বৈশাখীকে নিয়ে এমনই সংকটে পড়েছে বিজেপি, তাঁদের শোভনকেও ছাড়তে হয়।
দেবশ্রী রায়কে দলে নেওয়া নিয়ে বৈশাখীর তীব্র আপত্তি রয়েছে। বিজেপির যুক্তি, দেবশ্রী রায় দুবারের বিধায়ক, তাঁর তবু দীর্ঘ রাজনৈতিক ব্যকগ্রাউন্ড রয়েছে, কিন্তু বৈশাখীর তো কিছু নেই। তারপর প্রথমদিন থেকে যেভাবে বৈশাখীকে নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বিজেপিকে, তাতে অনেকেই তাঁকে নিয়ে বীতশ্রদ্ধ।
তাই বৈশাখাকে দলে রাখতেও উৎসাহী নয় বিজেপি। কিন্তু বৈশাখীকে সরালে শোভন কি থাকবেন? শোভনের ইস্তফা বিজেপির কাছে হবে একটা মস্ত বড় আঘাত। যোগদানের দু-সপ্তাহের মধ্যে শোভনের মতো নেতার ইস্তফা, মোটেই রাজনৈতিকভাবে সুখকর নয়, তা বুঝতেই পারছে বিজেপি।









কোন মন্তব্য নেই