প্ৰশ্নের মুখে পাক প্ৰধানমন্ত্ৰী ইমরান খানের দুৰ্নীতিবিরোধী জিহাদ
নয়া ঠাহর ওয়েবডেস্কঃ ‘নয়া পাকিস্তান’ গড়ার শ্লোগান তুলে দেশের প্ৰধানমন্ত্ৰী নিৰ্বাচিত হয়েছিলেন প্ৰাক্তন পাক ক্ৰিকেটার ইমরান খান। নয়া পাকিস্তান গড়তে নানা পদক্ষেপের মধ্যে দুৰ্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদের কথা বলেছিলেন তিনি। বৰ্তমানে পাকিস্তানের একজন প্ৰাক্তন প্ৰেসিডেন্ট ও দুই প্ৰাক্তন প্ৰধানমন্ত্ৰী জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে প্ৰাক্তন প্ৰেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি পাৰ্লামেন্টের তৃতীয় বৃহত্তম দল পাকিস্তান পিপলস পাৰ্টির (পিপিপি)র কো চেয়ারম্যান। প্ৰাক্তন দুই প্ৰধানমন্ত্ৰী হলেন নওয়াজ শরিফ এবং শহীদ খাকান আব্বাসি।
ছবি, সৌঃ আন্তৰ্জাল
নওয়াজ শরিফ ৩ বার পাকিস্তানের প্ৰধানমন্ত্ৰী হিসেবে নিৰ্বাচিত হয়েছেন। ৩ বারই মেয়াদ ফুরনোর আগেই বিদায় নিতে হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগের এই নেতাকে। শহীদ খাকান আব্বাসি নেওয়াজের দলের নেতা। নওয়াজ সৰ্বশেষ মেয়াদে (২০১৩-২০১৭) প্ৰধানমন্ত্ৰী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আদালতের নিৰ্দেশে অযোগ্য ঘোষিত হলে তাঁর দল প্ৰধানমন্ত্ৰী নিৰ্বাচিত করে শহীদ খাকান আব্বাসিকে। তাঁকে ১৮ জুলাই তরলীকৃত প্ৰাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দুৰ্নীতি মামলায় গ্ৰেফতার করা হয়।
পাকিস্তানের প্ৰয়াত প্ৰধানমন্ত্ৰী বেনজির ভুট্টোর স্বামী আসিফ আলি জারদারিকে গত ১০ জুন ইসলামাবাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্ৰেফতার করা হয়। পাকিস্তানের ডন পত্ৰিকার খবর অনুযায়ী, আসিফ জারদারিকে ভুয়ো ব্যাঙ্ক হিসেবের মাধ্যমে অৰ্থ পাচারের মামলায় গ্ৰেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্ৰণোদিত এমন মামলা দেওয়া হয়েছে।
প্ৰাক্তন প্ৰধানমন্ত্ৰী নওয়াজ আয়বহিৰ্ভূত সম্পদ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনায় ৭ বছর দণ্ডিত হন। প্ৰাক্তন এই প্ৰধানমন্ত্ৰীর বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
পাকিস্তানে বৰ্তমান সংসদে প্ৰধান দুটি রাজনৈতিক দল হচ্ছে পিএমএল-এন ও পিপিপি। দুটি দলেরই শীৰ্ষ পৰ্যায়ের নেতা ছাড়াও প্ৰথম সারির বহু নেতার বিরুদ্ধে দুৰ্নীতির মামলা রয়েছে। তাঁদের ধরতে গ্ৰেফতার অভিযান চালাচ্ছে পাক সরকার।
পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলো ইমরানকে সেনাবাহিনীর ‘হাতের পুতুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর আশীৰ্বাদপুষ্ট হয়ে ইমরান প্ৰধানমন্ত্ৰী হয়েছেন বলে যথেষ্ট সমালোচিতও হয়েছেন পাক ক্ৰিকেটার তথা প্ৰধানমন্ত্ৰী ইমরান খান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বৰ্তমানে ইমরানকে প্ৰমাণ করতে হবে সামরিক বাহিনীর মতো উদ্দেশ্যপ্ৰণোদিত হয়ে নয়, সত্যিকার অৰ্থেই দুৰ্নীতির মূলোৎপাটন অভিযান চালাতে হবে তাঁকে। তা করতে ব্যৰ্থ হলে নওয়াজ-জারদারির অভিযোগ খণ্ডাতে পারবেন না ইমরান। তাহলে পাকিস্তানের ইতিহাসে আরেকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্ৰণোদিতভাবে দুৰ্নীতিবিরোধী অভিযান যুক্ত হবে।









কোন মন্তব্য নেই