বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবেই অসমের চার কেন্দ্রে ভোট সম্পন্ন
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ দেশের বৃহত্তম গণতন্ত্রের উৎসবের শেষ পৰ্যায়ের চারটে লোকসভা কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার মধ্যে ভোটগ্ৰহণ প্ৰক্ৰিয়া সম্পূর্ণ হল। অসমের এই চারটে কেন্দ্রের রাজধানী মহানগর গুয়াহাটিও আছে। এছাড়া ধুবড়ি, বরপেটা এবং কোকরাঝাড় কেন্দ্র। মোট ৭৪লক্ষ ৭৭ হাজার ০৬২ জন ভোটার ৫৪ জনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ৯৫৭৭ টি পোলিং স্টেশনে এই ভোট হল। সবেচেয়ে বেশি ভোটার গুয়াহাটি কেন্দ্রে। গুয়াহাটিতে ভোটারের সংখ্যা হচ্ছে ২১লক্ষ ৭৮হাজার ৬১৭ জন। ইভিএম, ভিভিপ্যাট বিকল, আমিনগাঁওয়ে প্রিসাইডিং অফিসার হেমেন্দ্র শইকিয়ার মৃত্য, এক ভোটারের মৃত্যু, কয়েক জায়গায় ভোট বর্জন সহ বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার মধ্যেই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং ও মঙ্গলবার দিসপুর কেন্দ্রে ভোট দিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়ার বাড়িতে ভাড়াটে হিসাবে থেকে মনোমোহন সিং অসমে রাজ্যসভা থেকে জয়লাভ করে দু বার দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছিলেন। স্ত্ৰীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভোট দেন দিসপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালায়ে। এই প্রতিবেদন লেখা পৰ্যন্ত গুয়াহাটি কেন্দ্রে ৬০ শতাংশ, ধুবড়িতে ৬৭, কোকরাঝাড় ৬৪ এবং বরপেটা শতাংশ ভোট পড়েছে। গুয়াহাটি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী কুইন ওঝা, কংগ্রেস প্রার্থী ববিতা শর্মা এবং নির্দল প্রার্থী সুপ্রিম কোটের আইনজীবী উপমন্যু হাজরিকার মধ্যে লড়াই হয়। এই তিনজনের ভাগ্য এখন ইভিএমে বন্দী আছে। ২৩ মে ফলাফল। এআইইউডিএফ প্রাৰ্থী না থাকায় কংগ্রেস লাভবান হবে বলে পৰ্যবেক্ষকদের ধারণা। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ শর্মা র নাম নিতেও কাউকে দেখা গেল না। এই প্রতিবেদক এদিন সিজুবাড়ি হাতিগাঁও এলপি স্কুল ভোট দেই, সেখানেও ইভিএম বিকল হয়েছিল। কিছুক্ষণ ভোটদান প্ৰক্ৰিয়া বন্ধ ছিল। ধুবড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নুরুল ইসলাম চৌধুরী, বরপেটা আশাক আলি দেওয়ান ধুবরী কেন্দ্রের প্রার্থীর পক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং এসে প্রচার চালান। অসমে ৯ জন তৃণমূল প্রার্থীর কোনও প্রচার ছিলনা, আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যে ছিলেন। বাঙালির আবেগ, মমতা দিদি আর ঈশ্বরই ভরসার ওপর তাঁরা লড়েছেন। ধুবড়ি এবং বরপেটা সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটাররা প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ণয় করবেন। ধুবড়ি কেন্দ্রে এআইইউডিএফ প্রধান তথা সাংসদ বদরুদ্দিন আজমলকে এবার চাপে ফেলেছেন কংগ্রেসের আবু তাহের ব্যাপারি এবং অগপ জাভেদ ইসলাম। জয় সহজ হবে না। বরপেটা কংগ্রেসের আব্দুল খালেক অগপর কুমার দীপক দাসের মধ্যে লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে। কোকরাঝাড়ে সাংসদ তথা প্রাক্তন আলফা নেতা নব শরনিয়াকে চাপে ফেলেছেন বিপিএফ প্রার্থী তথা মন্ত্রী প্রমীলা রানী ব্রহ্ম। তবে শব্দরাম রাভা ও কম যান না। মজার কথা কোখরাঝাড় সংরক্ষিত কেন্দ্র হলেও সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটার নির্ণায়ক শক্তি। চারটে কেন্দ্রে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত গড়ে ৭১.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ধুবড়ি কেন্দ্রে সব চেয়ে বেশি ৭৮.৮৪, কোকরাঝাড় ৭০.৩১, বরপেটাতে ৭২.৪৭ এবং গুয়াহাটিতে ভোট পড়েছে ৬৫.২৮। শেষ দিকে খবর পাওয়া গেছে এদিন ধুবড়ি কেন্দ্রের গৌরীপুড়ে বাণী বিদ্যা মন্দির বিদ্যালয়ে পোলিং স্টেশন প্রিসাইডিং অফিসার গৌর প্রসন্ন বর্মনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে, প্ৰাক্তন ডিজিপি হরেকৃষ্ণ ডেকার অভিযোগ লাচিত নগরের এক ভোট কেন্দ্ৰে ভোট দেওয়ার পর অভিযোগ করেছেন, ভোগ দিয়েছেন একজনকে ভোট পেয়েছে অন্যজন। তিনি নিৰ্বাচন কমিশনে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন। গুয়াহাটির কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থী ববিতা শৰ্মা ভিভিপ্যাট এবং ইভিএমে বিকলের অভিযোগ করেছেন। সন্ধ্যে ৭ টা পৰ্যন্ত ভোটের হার ধুবড়ি ৮১.২৯ শতাংশ, কোকরাঝাড় (এসটি) ৭৬.১৬ শতাংশ, বরপেটা ৭৭.৬৫ শতাংশ, গুয়াহাটি ৭৮.৭৫ শতাংশ। চার কেন্দ্ৰে গড়ে ভোট পড়েছে ৭৮.৫২ শতাশ।









কোন মন্তব্য নেই