গোটা দেশে অসমই প্রথম রাজ্য যেখানকার মানুষদের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়ত্বের
লিখেছেন বাসব রায়: ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অসমের নগাঁও জেলার নেলি-তে ১৪টি গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরিণামে অগ্নিদগ্ধ এবং মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ২১৯২। বেসরকারি হিসেবে মৃত ৩০০০-এর উপরে। গ্রামগুলির নাম : আলিসিঙ্গা, খুলাপথার, বসুন্ধরী, বাগডুবা বিল, বাগডুবা হাবি, বরজোলা, ভূতুনী, ডোঙ্গাবরী, ইন্দুরমারী, মাতি পর্বত, মূলাধারী, মাটি পর্বত নং ৮, শিলভেটা, বরবুরি ও নেলি। সেদিন সকালে টানা ছয় ঘণ্টা জ্বলেছিল আগুন, আর প্রশাসন ছিল নির্বাক, স্তব্ধ, মূক, পাথর।
আমি অসমে এসেছি ১৯৯২ সালে। নেলি গণহত্যার বিবরণ পড়েছি সংবাদপত্রে। হোজাই-লামডিং থাকাকালীন বারবার নেলি-নগাঁওবান্ধা-ডবকা-শিলাপথার দেখতে গেছি, নিছক কৌতূহলে। মজার ব্যাপার হল এই যে ওই ঘটনার পর অসমে যে সরকারই এসেছে, নেলির ঘটনা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। আর এর ফলে যাঁদের জন্ম নেলি গণহত্যার পরে, তাঁরা নেলি সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না বা জেনেও উদাসীন। যেন নেলি-হত্যা ঘটেনি, ঘটতে পারে না। ওইসব গ্রাম ছিল না কখনো।
কয়েক বছর আগে অসমে শুরু হয়েছে নাগরিকপঞ্জি নবায়ন প্রক্রিয়া, ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনশিপ (এনআরসি)। এবং গোটা দেশে অসমই প্রথম রাজ্য যেখানকার মানুষদের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়ত্বের। কারণ অসম চুক্তি বা আসাম অ্যাকর্ড। বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ) থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রচুর মানুষ এসেছেন ভারতে এবং অবশ্যই অসমে। এনিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। অসম চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর বিদেশ থেকে (বাংলাদেশ থেকে) যাঁরা এসেছেন তাঁরা বিদেশি। এর ভিত্তিতে চলছে এনআরসি প্রক্রিয়া। এনআরসি নিয়ে এখানে বলার কিছু নেই, তবে অসম আন্দোলন না হলে অসম চুক্তি হত না আর অসম চুক্তি না থাকলে এনআরসি নিয়ে এত কথা বলারও দরকার পড়ত না। অসমের ক্ষেত্রে অসম আন্দোলনের প্রভাব যে কতটা ব্যাপক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অসম আন্দোলন কেমন ছিল, তার স্বরূপ, প্রভাব... অসমিয়াদের দৃষ্টিতে এবং বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের দৃষ্টিতে কেমন, সেই নিয়েই নাইনথ কলাম-এর এবারের সংখ্যা। আন্দোলনের মুখ, পরে মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লকুমার মহন্ত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোলাপ বরবরার সাক্ষাৎকার রয়েছে পত্রিকায়। আন্দোলনে বামপন্থীদের ভূমিকা কী ছিল সে নিয়ে লিখেছেন হেমেন দাস, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সবার নামোল্লেখ করছি না, সম্ভব নয় বলেই। প্রসঙ্গত, এটি পত্রিকার পঞ্চদশ সংখ্যা। দু’তিনটে তথ্য উল্লেখের প্রয়োজন বোধ করছি। আমার মতে যিনি গুয়াহাটির সিঁদুর সেই হীরেন গোহাঁই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক নিরুপমা বরগোহাঞিকে আন্দোলন চলাকালীন গুয়াহাটি ছেড়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল শিলঙে।
অসম আন্দোলন সম্পর্কে লিখেছেন : হীরেন গোহাঁই, সঞ্জীব বরুয়া, সমীরকুমার দাস, মাকিকো কিমুরা, দিগন্ত শর্মা, অপূর্ববল্লভ গোস্বামী, দেবর্ষি দাস, প্রার্থনা শইকিয়া, প্রফুল্লকুমার মহন্ত, পরমানন্দ রাজবংশী, আব্দুল হাই নাগরি, হেমেন দাস, অজয়কুমার দত্ত, শংকর দাস কলিতা, নিরুপমা বরগোহাঞি, সবিতা গোস্বামী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, পরেশ মালাকার, মৃন্ময় দেব, আলপনা সরকার ডেকা, দ্বিজেন্দ্রনাথ ভকত, গোলাপ বরবরা, অমলেন্দু গুহ। লেখকদের পরিচিতি সংগ্রহ করেছেন মৌমিতা পাল। আর হ্যাঁ, নেলির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন অন্তত তিনজন সাংবাদিক। নাইনথ কলাম-এর ‘অসম আন্দোলন’ সংখ্যায় রয়েছে নেলি গণহত্যার আদ্যোপান্ত। প্রসঙ্গত, অসম আন্দোলন শেষ হওয়ার পর ২৫ বছর অতিক্রান্ত। এখন মনে হয় নির্মোহ দৃষ্টিতে ওই আন্দোলন বিচার করা সম্ভব। এইরে, সম্পাদকের নাম লিখতেই তো ভুলে গেলাম! প্রসূন, আমাদের প্রিয়জন, প্রসূন বর্মন সম্পাদক। প্রকাশক হিসেবে তাপস পালের সঙ্গে কী করে যেন আমার নামটা ঢুকে গেছে! আনন্দই হচ্ছে একটু। মানুষের সঙ্গে যেমন ছায়া, আমাদের বইপত্রে নয়নজ্যোতি শর্মার প্রচ্ছদ, তেমনই।
(৩৩৬ পৃষ্ঠার পত্রিকা, দাম ৩০০ টাকা, সডাক ৩৭০ টাকা। পত্রিকার জন্য যোগাযোগ ৯৮৬৪০ ৭১০৬৭, ৯২০৭১ ৬৯৬৯৭, ৮৬৩৮৬ ৪১৬৯২)
আমি অসমে এসেছি ১৯৯২ সালে। নেলি গণহত্যার বিবরণ পড়েছি সংবাদপত্রে। হোজাই-লামডিং থাকাকালীন বারবার নেলি-নগাঁওবান্ধা-ডবকা-শিলাপথার দেখতে গেছি, নিছক কৌতূহলে। মজার ব্যাপার হল এই যে ওই ঘটনার পর অসমে যে সরকারই এসেছে, নেলির ঘটনা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। আর এর ফলে যাঁদের জন্ম নেলি গণহত্যার পরে, তাঁরা নেলি সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না বা জেনেও উদাসীন। যেন নেলি-হত্যা ঘটেনি, ঘটতে পারে না। ওইসব গ্রাম ছিল না কখনো।
কয়েক বছর আগে অসমে শুরু হয়েছে নাগরিকপঞ্জি নবায়ন প্রক্রিয়া, ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনশিপ (এনআরসি)। এবং গোটা দেশে অসমই প্রথম রাজ্য যেখানকার মানুষদের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়ত্বের। কারণ অসম চুক্তি বা আসাম অ্যাকর্ড। বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ) থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রচুর মানুষ এসেছেন ভারতে এবং অবশ্যই অসমে। এনিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। অসম চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর বিদেশ থেকে (বাংলাদেশ থেকে) যাঁরা এসেছেন তাঁরা বিদেশি। এর ভিত্তিতে চলছে এনআরসি প্রক্রিয়া। এনআরসি নিয়ে এখানে বলার কিছু নেই, তবে অসম আন্দোলন না হলে অসম চুক্তি হত না আর অসম চুক্তি না থাকলে এনআরসি নিয়ে এত কথা বলারও দরকার পড়ত না। অসমের ক্ষেত্রে অসম আন্দোলনের প্রভাব যে কতটা ব্যাপক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অসম আন্দোলন কেমন ছিল, তার স্বরূপ, প্রভাব... অসমিয়াদের দৃষ্টিতে এবং বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের দৃষ্টিতে কেমন, সেই নিয়েই নাইনথ কলাম-এর এবারের সংখ্যা। আন্দোলনের মুখ, পরে মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লকুমার মহন্ত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোলাপ বরবরার সাক্ষাৎকার রয়েছে পত্রিকায়। আন্দোলনে বামপন্থীদের ভূমিকা কী ছিল সে নিয়ে লিখেছেন হেমেন দাস, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সবার নামোল্লেখ করছি না, সম্ভব নয় বলেই। প্রসঙ্গত, এটি পত্রিকার পঞ্চদশ সংখ্যা। দু’তিনটে তথ্য উল্লেখের প্রয়োজন বোধ করছি। আমার মতে যিনি গুয়াহাটির সিঁদুর সেই হীরেন গোহাঁই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক নিরুপমা বরগোহাঞিকে আন্দোলন চলাকালীন গুয়াহাটি ছেড়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল শিলঙে।
অসম আন্দোলন সম্পর্কে লিখেছেন : হীরেন গোহাঁই, সঞ্জীব বরুয়া, সমীরকুমার দাস, মাকিকো কিমুরা, দিগন্ত শর্মা, অপূর্ববল্লভ গোস্বামী, দেবর্ষি দাস, প্রার্থনা শইকিয়া, প্রফুল্লকুমার মহন্ত, পরমানন্দ রাজবংশী, আব্দুল হাই নাগরি, হেমেন দাস, অজয়কুমার দত্ত, শংকর দাস কলিতা, নিরুপমা বরগোহাঞি, সবিতা গোস্বামী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, পরেশ মালাকার, মৃন্ময় দেব, আলপনা সরকার ডেকা, দ্বিজেন্দ্রনাথ ভকত, গোলাপ বরবরা, অমলেন্দু গুহ। লেখকদের পরিচিতি সংগ্রহ করেছেন মৌমিতা পাল। আর হ্যাঁ, নেলির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন অন্তত তিনজন সাংবাদিক। নাইনথ কলাম-এর ‘অসম আন্দোলন’ সংখ্যায় রয়েছে নেলি গণহত্যার আদ্যোপান্ত। প্রসঙ্গত, অসম আন্দোলন শেষ হওয়ার পর ২৫ বছর অতিক্রান্ত। এখন মনে হয় নির্মোহ দৃষ্টিতে ওই আন্দোলন বিচার করা সম্ভব। এইরে, সম্পাদকের নাম লিখতেই তো ভুলে গেলাম! প্রসূন, আমাদের প্রিয়জন, প্রসূন বর্মন সম্পাদক। প্রকাশক হিসেবে তাপস পালের সঙ্গে কী করে যেন আমার নামটা ঢুকে গেছে! আনন্দই হচ্ছে একটু। মানুষের সঙ্গে যেমন ছায়া, আমাদের বইপত্রে নয়নজ্যোতি শর্মার প্রচ্ছদ, তেমনই।
(৩৩৬ পৃষ্ঠার পত্রিকা, দাম ৩০০ টাকা, সডাক ৩৭০ টাকা। পত্রিকার জন্য যোগাযোগ ৯৮৬৪০ ৭১০৬৭, ৯২০৭১ ৬৯৬৯৭, ৮৬৩৮৬ ৪১৬৯২)









কোন মন্তব্য নেই