Header Ads

প্ৰণাম-এ শ্ৰদ্ধা নেইঃ নগাঁওয়ে রক্ত মাংসের মাকে কলং নদীতে বিসৰ্জন, শিবসাগরে পুত্ৰেরা মাকে পুড়িয়ে হত্যা করে


গুয়াহাটিঃ অসমে মানবাধিকার লঙঘনের ঘটনা ক্ৰমাবৰ্ধমান। রাজ্যের অৰ্থ বিভাগের ভারপ্ৰাপ্ত স্বাস্থ্য মন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মা বিধানসভায় ‘প্ৰণাম' কৰ্মসূচী কথা ঘোষণা করেছিলেন। বৰ্তমানে তা আইনে পরিণত হতে চলেছে। সরকারি কোনও কৰ্মচারি তার মা-বাবাকে অবজ্ঞা করলে মা-বাবা যদি তার পুত্ৰের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে অভিযোগ দায়ের করে তবে সরকার সশ্লিষ্ট কৰ্মচারির বেতনের টাকা থেকে ১০-১৫ শতাংশ কেটে নিয়ে মা-বাবার হাতে তুলে দেবেন। এই জন্য সরকার প্ৰণাম কমিশন গঠন করেছে। দেশ জুড়ে এই আইনের প্ৰশংসা করা হয়েছে। রাজ্যে কিন্তু সচেনতা গড়ে উঠে নি। মা-বাবাদের প্ৰতি তাদের সন্তানরা কোনও দায়িত্ব পালন করছে না। রাজ্যে থেকে প্ৰতিদিনই মানবাধিকারের লঙঘনের খবর আসছে। গত কাল রাতে নগাঁওযের হয়বর গাঁওয়ের মাড়োয়ারি পট্টির ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান প্ৰমোদ আগরওয়ালা তার অসুস্থ ৯০ বছরের বৃদ্ধা মা রত্না আগরওয়ালাকে কলং নদীতে ঠেলে ফেলে দেয়। সন্তান পুলিশের কাছে সে কথা স্বীকার করে বলেছে, আমি মাকে সঙ্গে নিয়েই আত্ম হত্যা করতে চেয়েছিলাম। মায়ের দূরারোগ্যতা ছাড়াও আৰ্থিক দূরবস্থা জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছিলাম। পুলিশ জানিয়েছে প্ৰমোদ আগরওয়ালা সুরাসক্ত, তার কথাবৰ্তার মধ্যে ভারসাম্য নেই। যে ই-রিক্সাই করে কলং নদীর পারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে ই-রিক্সাওয়ালা জানিয়েছে প্ৰমোদ জানিয়েছিলেন রোগাক্ৰান্ত মাকে ঝাড়ফুক করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। রত্না দেবীর বাড়ি হোজাইয়ের যমুনামুখে। এস ডি আর এফ ভরা বৰ্ষার কলং নদীতে অনুসন্ধান চালিয়ে মৃত দেহ আজ রাত পৰ্যন্ত খুঁজে পায় নি। অপরদিকে শিবসাগর জেলার ডিসিআল গ্ৰামে অনু বরুয়া নামে ৭০-৭৫ বছরের এক বৃদ্ধাকে তাদের পুত্ৰ এবং পুত্ৰ বধুরা যোগসাজস করে হত্যা করেছে বলে পুলিশের অভিযোগ। অগ্নিদগ্দ্ধ অবস্থায় অনু বরুয়ার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতার কাছে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মৃতের গলায় এক দাগ লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ দুই পুত্ৰ অংশুমান, নবজ্যোতি এবং তাদের পত্নীদেরকে গ্ৰেফতার করা হয়েছে। পুলিশি তদন্ত চলছে। পুলিশের অভিযোগ দীৰ্ঘদিন ধরে পুত্ৰরা পত্নীদের সাহায্য নিয়ে মায়ের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। এই শিবসাগর জেলাতেই খারঘরিয়া পরিবার মাস দুয়েক আগে একমাত্ৰ পুত্ৰের অত্যাচার সহ্য করতে না পেড়ে দীৰ্ঘ সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেন। যা দীৰ্ঘ সুইসাইড নোট হিসাবে দেশ জুড়ে চৰ্চা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.