গ্রামীন লোক সংস্কৃতির মাঝে কিংবদন্তি ইতিহাস লুকিয়ে আছে
সায়ন গুপ্ত, আন্দুলিয়া,কান্দি: অনেককাল আগের কথা। কান্দি মহকুমার চাঁদনগর গ্রাম প্রধানত মাছ চাষীদের গ্রাম। আজ থেকে প্রায় তিনশ বছর আগে কোন এক ভোরে মাছ চাষীদের মাঝ ধরার জালে উঠে আসে এক শিবলিঙ্গ। সেইসময় আন্দুলিয়া, চাঁদনগর ,কোটাল ডিহি গ্রামে ডাকাতি বেড়ে যায়। এই তিনটি গ্রামের মধ্যে সবথেকে বেশি ডাকাতি হত আন্দুলিয়া গ্রামে। আন্দুলিয়া গ্রামের রাজপুরোহিত শ্রী খিরোদা মোহন ব্যানার্জি। তিনি চাঁদনগর থেকে সেই শিবলিঙ্গ কে আন্দুলিয়া গ্রামে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিদিন রাত্রে বেলা মাথায় করে সেই শিবলিঙ্গ কে নিয়ে গোটা গ্রাম পাহারা দিতেন ডাকাতির হাত থেকে যাতে গ্রামবাসীরা বাঁচে। জাগরণের সাথে সাথে গোটা গ্রাম পাহারা দেওয়া এই বিষয়টি অদ্ভুতভাবে চৈত্র মাসের গাজনের সঙ্গে মিল রেখেই শুরু করা হয়েছিল।
আজকের এই দুই হাজার কুড়ি সালে ডাকাত নেই। নেই ক্ষীরোদা মোহন ব্যানার্জি। কিন্তু থেকে গেছে সেই শিবলিঙ্গ ,রাত্রে বেলায় জাগরণের মাধ্যমে পাট কাঠি জ্বালিয়ে মশাল জ্বালিয়ে গোটা গ্রাম পাহারা দেওয়ার ঐতিহ্য।
গ্রামের মানুষ সরল মনে আজও বিশ্বাস রাখে বুড়োশিব চৈত্র মাসের সংক্রান্তির 5 দিন আগে থেকে তাদের গ্রাম পাহারা দেয়। লোকসংস্কৃতি এভাবেই বেঁচে আছে কিংবদন্তি হয়ে ইতিহাসকে লুকিয়ে রেখে। প্রতিটা ধর্মীয় লোকসংস্কৃতির পেছনে এরকম করে হাজার হাজার ডাকাত প্রতিরোধ সর্বোপরি বিপদ কাটিয়ে ওঠার অদম্য স্পৃহার গল্প লুকিয়ে আছে








কোন মন্তব্য নেই