Header Ads

বিজেপি ১৯ টি আসনে জয়ী হয়ে পার্বত্য পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হয়ে পরিষদ গঠনের পথে


জয়ী বিজেপি প্ৰাৰ্থী দেবোলাল গাৰ্লোসা
আমেন্দু হোজাই
বিপ্লব দেব, হাফলং - উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি পরিষদ দখল করেছে। পরিষদের ২৮ টি আসনের মধ্যে ১৯ টি আসনই গেছে বিজেপির দখলে। তাছাড়া ৬ টি আসন দখল করে নির্দল প্রার্থীরা। কংগ্রেসের দখলে যায় হাফলং ও গরমপানি আসন এবং অসম গন পরিষদ দল একমাত্র বড়াইল আসনে জয়ী হয়। তবে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী করনাড সাংমাং-র ন্যাশনাল পিপোলস পার্টি (এনপিপি) খাতা খুলতেই সক্ষম হয়নি। দ্বাদশ উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদে শুধু গেরুয়া দলেরই জয়জয়কার। এই প্রথম একসঙ্গে এত আসনে বিজেপি জয়ী হয়। তাছাড়া পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী ৬ নির্দল প্রার্থী বিজেপিকে সমর্থন করার কথা ইতিমধ্যে ঘোষনা করে। এদিকে ডিমা হাসাও জেলার বিজেপি সভাপতি নিপোলাল হোজাই বলেন পরিষদের নির্বাচনে যে সব নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন তারা বিজেপির প্রার্থীত্ব না পেয়ে নির্দল হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাই এরা বিজেপি দলেরই অংশ তবে জয়ী ৬ নির্দল প্রার্থীকে নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি  রঞ্জিত কুমার দাসের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে দিহাঙ্গী আসন থেকে জয়ী হয়ে সিইএম দেবোলাল গার্লোসা বলেন এই জয় ডিমা হাসাও বাসীর। এই জয় উন্নয়নের জয়।  জনগন বিশ্বাস করেছে বিজেপিকে তারজন্য সবাইকে ধন্যবাদ তবে এবার উন্নয়নের নিরিখে জনগন বিজেপির পক্ষে জনমত দিয়েছে বলে উল্লেখ করে দেবোলাল গার্লোসা বলেন গত আড়াই বছরে যে কাজ করতে পারি নি তা আগামী পাঁচ বছরে এই সব কাজ করাই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য থাকবে। আগামী ৫ বছর জনগনের উন্নয়নে কাজ করে যাবার আশ্বাস দেন দেবোলাল গার্লোসা। দিহাঙ্গী আসনে দেবোলাল গার্লোসা ২৩৬৭ ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেস প্রার্থী লৌক্যমনি লাংথাসাকে পরাজিত করেন। তবে পরিষদের প্রাক্তন সিইএম অগপ-র হেভিওয়েট নেতা দেবজিৎ থাওসেন প্রাক্তন সিইএম তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ প্রকান্ত ওয়ারিশা ও প্রাক্তন সিইএম তথা প্রাক্তন বিধায়ক সমরজিৎ হাফলংবারকে এবারের নির্বাচনে পরাজয় বরন করতে হয়। তাছাড়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নির্মল লাংথাসা ও অগপ-র জেলা সভাপতি বকুল বডো এবারের নির্বাচনে করুন বিপর্যের মধ্যে পড়েন। গেরুয়া ঝড়ে পার্বত্য পরিষদ এখন বিরোধি সদস্য বলতে ককংগ্রেসের দুইজন ও অগপ-র ১ জন। বিজেপি-র পর পরিষদে দ্বিতীয় বৃহত্তর হচ্ছে নির্দল প্রার্থীরা। এদিকে হাফলং আসনে কংগ্রেস নেতা প্রয়াত নিন্দু লাংথাসার পুত্র তথা কংগ্রেস প্রার্থী ডেনিয়েল লাংথাসা ৮২০ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি-র জীবরাজ দাওলাগাপুকে পরাজিত করেন। জাটিঙ্গা আসনে বিজয়ী হন নির্দল প্রার্থী ফ্ল্যামিং সাইলা রূপসী বড়াইল আসনে জয়ী হন গুলমিনলাল লিয়েনথাং জিনামভ্যালি আসন থেকে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী যৌশমথাং মার। হাংরুম আসন থেকে নির্দল প্রার্থী নওা দিয়ামে লাইসং আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী পাউদামিং নৃয়ামে জয়ী হয়েছেন। দাওটাহাজা আসনে ডিমা হাসাও জেলা বিজেপি-র সভাপতি তথা বিজেপি প্রার্থী নিপোলাল হোজাই কংগ্রেস প্রার্থী তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি নির্মল লাংথাসাকে ৩২৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। পূর্ব মাইবাং আসন থেকে বিজেপির মহিলা প্রার্থী নন্দিতা গার্লোসা জয়ী হয়েছেন। পার্বত্য পরিষদের ইতিহাসে এবারই প্রথম দুইজন মহিলা পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার আগে ১০ বছর শুধু রানু লাংথাসা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এদিকে পরিষদের কালাচান্দ আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী রতন জারামবুসা জয়ী হয়েছেন। ওয়াজাও আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ লাংথাসা পরিষদ সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। পরিষদের লাংটিং আসনে অগপ-র হেভিওয়েট নেতা দেবজিৎ  থাওসেন বিজেপি প্রার্থী গলোঞ্জ থাওসেনের কাছে ১০৪১ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। গরমপানি আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী জয়সিং দুরং ও খারতং আসন থেকে লালরেমসিয়ামা ডারনে জয়ী হয়েছেন। তবে পরিষদের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় মার্জিনে জয়ী হয়েছেন হারাঙ্গাজাও আসনের বিজেপি প্রার্থী আমেন্দু হোজাই। হারাঙ্গাজাও আসনে কংগ্রেসের বিশ্বজিৎ হোজাইকে ২৪৫৪ ভোটের ব্যবধানে ধরাশায়ী করেন বিজেপি-র আমেন্দু হোজাই। এদিকে দ্বাদশ পরিষদ গঠন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বিজেপি দল। বুধবার বিজেপি বিধায়নী দলের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র তথা ডিমা হাসাও জেলার প্রভারী রামকৃষ্ণ ঘোষ সহ  বিজেপির সব বিজয়ী প্রার্থীরা। ওই বৈঠকে আগামী পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। বিজেপি সুত্রে জানা গিয়েছে শীঘ্রই পার্বত্য পরিষদ গঠন করা হবে। তবে প্রথমে পরিষদের অধ্যক্ষের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা হবে তারপর সিইএম নির্বাচন করা হবে। সিইএম নির্বাচনের পরই ইএমদের তালিকা রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তবে ফেব্রুয়ারি প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই পার্বত্য পরিষদের অধক্ষ্য ও সিইএম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.