Header Ads

রাশিয়ার কারাগারে সুভাষচন্দ্ৰ বসুকে কেজিবি ‘চেকা’ বিষ প্ৰয়োগ করেছিল

কলকাতাঃ ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট মিথ্যা প্লেন ক্ৰ্যাশের ঘটনার গুজব ছড়ানো হয়েছিল সুভাষ চন্দ্ৰ বসুকে নিয়ে। এই যুক্তি খণ্ডন করে কিছু গুরুত্বপূৰ্ণ বিস্ফোরক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরলেন অল ইন্ডিয়া লিগাল এড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, সুপ্ৰিম কোৰ্টের আইনজীবী জয়জীপ মুখাৰ্জি। তারঁ দাবি, স্টালিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্যারিস্টার ও জ্যাকোব মালিকের সহায়তায় ১৮ আগস্টের পর মাঞ্চুরিয়া হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাইবেরিয়ার ওমস শহরে প্ৰবেশ করেন সুভাষচন্দ্ৰ বসু এবং সোভিয়েত হেফাজতে চলে যান। সুভাষের সোভিয়েত ইউনিয়নে পৌঁছনোর সময় যে পাসপোৰ্ট ব্যবহার করা হয়েছিল সেটা ছিল ‘অথষোন্ডা মাজারথো’ নামের এক ব্যক্তির নামানুসারে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বৰ্তমানের রাশিয়ার মস্কো শহরের কাছে পান্ডোস নামক শহরে ‘গ্ৰু’ আৰ্কাইভ থেকে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, ১৯৪৫ সালে সপ্টেম্বর মাসে স্টালিন তার ক্যাবিনেট আলোচনা করছেন যে সুভাষকে কোথায় রাখা হবে ? পেরিজিনে কিনো নাকি সাইবেরিয়ার ওমস শহরে। ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে সোভিয়েত প্ৰবেশের পর প্ৰথম দিকে ওমস শহরে তাঁকে স্বাধীনভাবে রাখা হলেও পরের দিকে মিত্ৰ শক্তি অৰ্থাৎ ব্ৰিটিশ ও আমেরিকার চাপে স্টালিন সুভাষকে নজরবন্দি করতে বাধ্য হন। কারণ ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্ৰিকা প্ৰকাশ করে যে, সুভাষ চন্দ্ৰ বসু বৰ্তমানে রাশিয়ায় রয়েছেন। এই খবর প্ৰকাশিত হওয়ার পর সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরদিন সোভিয়েত পত্ৰিকা প্ৰাভদা নিউজ বার করে বলে সুভাষ চন্দ্ৰ যেখানেই থাকুন না কেন, তিনি মস্কোর আবহওয়ার থেকে অনেক দূরে আছেন। অৰ্থাৎ সুভাষ মস্কোতে নেই, আছেন মস্কো থেকে দূরে সাইবেরিয়াতে। জয়দীবপবাবু দাবি করেছেন যে, সুভাষকে সাইবেরিয়ার Yakutrk জেলে রাখার সময়টা আনুমানিক ১৯৪৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে। স্টালিন এই কাজটি করতে বাধ্য হয়েছিলেন মিত্ৰশক্তির চাপে। সে তথ্য উঠে আসছে সোভিয়েতের সঙ্গে ব্ৰিটেনের চুক্তির ভিত্তিতে। ব্ৰিটেনের এমআই-৫ ও এমআই-৬ সুভাষচন্দ্ৰ বসুকে ইন্টারোগেট করার জন্য কেজিবি-এর ওপর ক্ৰমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে, যার ফলে স্টালিন এমআই-৫ ও এমআই-৬ ও কেজিবি-কে সঙ্গে নিয়ে সুভাষচন্দ্ৰ বসুকে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে ইন্টারোগেট করার অনুমতি দেন। আইনজীবী জয়দীপ মুখাৰ্জির দাবি, এরপরই Yakutrk জেলে মিত্ৰশক্তির বাহিনী ও কেজিবি-এর অফিসাররা সুভাষচন্দ্ৰ বসুর ওপর অত্যাচার করে এবং তাঁর ওপর থাৰ্ড ডিগ্ৰি প্ৰয়োগ করা হয়। এমনকি সুভাষচন্দ্ৰ বসুর মুখের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ পৰ্যন্ত করা হয়। অনুমান করা হচ্ছে এই অত্যাচারে সুভাষ বসু দৃষ্টিশক্তি ও বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। সোভিয়েতে নিযুক্ত ভারতের প্ৰথম রাষ্য্ৰদূত নেহরুর বোন বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত রাশিয়াতে গেলে স্টালিন তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। তাঁকে জেলের একটি ফুটো দিয়ে দেখানো হয় সুভাষচন্দ্ৰ বসুকে। সেখানে বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতও দেখেন সুভাষচন্দ্ৰ বসুর করুণ পরিণতি। বিজয়লক্ষ্মী কিছু করতে পারেননি এক অদৃশ্য কারণে। কারণ তাঁর দাদা নেহরু তাঁকে মুখ খুলতে দেননি। কেজিবি (এনকেভিডি) এজেন্ট Kozlov -এর বক্তব্য ও তথ্য অনুযায়ী একজন যুদ্ধাপরাধী হিসাবে সুভাষচন্দ্ৰ বসুকে দেখা গিয়েছিল। তাঁকে ‘স্লেভ লেবারার’ হিসাবে কাজ করানো হয়েছিল সাইবেরিয়াতে অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের মত। জয়দীপবাবু তাঁর দাবির সমৰ্থনে বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ ড০ সত্যনারায়ণ সিনহাকে দেওয়ার এফিডেভিট, যেটা সত্যনারায়ণ সিনহা জিডি খোসলা কমিশনে দিয়েছিলেন, সেটা প্ৰকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন, কারণ সত্যনারায়ণ সিনহা প্ৰকাশ্যেই ঘোষণা করেছিলেন সুভাষচন্দ্ৰ বসুকে রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ওমস শহরের জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।
আইনজীবী জয়দীপ মুখাৰ্জি দাবি করেছেন, সোভিয়েত রাশিয়ার তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি সুভাষ চন্দ্ৰ বসুর ওপর ‘চেকা’ (এক ধরনের স্লো পয়জন) প্ৰয়োগ করেছিল যেটা কেজিবি-র কুখ্যাত অত্যাচারের পদ্ধতি। এই চেকা সারা পৃথিবীতে অত্যাচারের আরেক নাম বলে পরিচিত। আইনজীবী জয়দীপ মুখাৰ্জি আরও একটি তথ্য প্ৰকাশ্যে এনেছেন যে, সাইবেরিয়া শহরের কুখ্যাত রাস্তার নাম ‘রোড অব বোনস’ যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীকে মমাইনাস ৪০ ডিগ্ৰি ঠান্ডাতে শ্ৰমিক হিসেবে খাটিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হত। ওই রকম হাজার হাজার যুদ্ধাপরাধীদের মৃতদেহগুলিকে মাটিতে কবর দিয়ে তার ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি হয়েছিল তারই নাম ‘রোড অব বোনস’। তাহলে আমাদের প্ৰিয় নেতা সুভাষ চন্দ্ৰ বসুকে কি চেকা প্ৰয়োগ করে ওই Road of bones তলাতেই চির নিদ্ৰায় শায়িত করে দেওয়া হয়েছিল।    

2 comments:

  1. Is it true! Our Netajee is no more!India will then never forgive Congress and their evil leaders and Russia 😢

    ReplyDelete
  2. In that case USSR, Russia during the Soviet era, played in favour of the British colonial criminals. In other words, the Soviets came to be another agent for the Zionist mafia clan........???

    ReplyDelete

Powered by Blogger.