Header Ads

লাইনে দাঁড়িয়েই দশেরা দেখছিল জনতা, পিষে দিল দ্ৰুতবেগী ট্ৰেন, মৃত অন্তত ৬০


 ছবি, সৌঃ এএনআই
নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, অমৃতসরঃ রেল লাইনের মধ্যিখানে এবং পাশে দাঁড়িয়ে দশেরার রাবণ পোড়ানো দেখছিলেন কয়েকশ মানুষ। আর সেই ভিড়ের উপর দিয়েই দুরন্ত গতিতে চলে গেল ট্রেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটল পঞ্জাবের অমৃতসরের চৌরি বাজার এলাকার ২৭ নম্বর রেল গেটে। মৃত্যু হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ জনের। আহত হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৫ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশ এবং উদ্ধারকারীর দল। ঘটনার জেরে শনিবার পঞ্জাবে রাষ্ট্ৰীয় শোক পালনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পঞ্জাবের সমস্ত সরকারী দফতর এবং শ্কুল কলেজ বন্ধ থাকবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে জানা গেছে, রেল লাইনের পাশেই দশেরার রাবণের কুশপুতুল পোড়ানো হচ্ছিল। রেললাইনের পাশে সেই রাবণ পোড়ানো দেখতে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু মানুষ। রাবণ পোড়ানোর সময়ে বাজির আগুন ছিটকে আসতে থাকে। দর্শকদের একাংশ সরে লাইনের উপর উঠে আসেন। আর সেই সময়ই ওই লাইনে চলে আসে দ্রুত গতির একটি ট্রেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আপ এবং ডাউন দুই লাইনেই এক সঙ্গে ট্রেন চলে আসে। তাই কোনও দিকেই সরতে পারেননি দর্শকরা। ট্রেনের চাকার তলায় পিষে যায় একের পর এক মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাজির আওয়াজে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল ট্রেনের আওয়াজ। তাই কেউ শুনতে পাননি। রাবণ দাহ যারা করছিলেন সেই উদ্যোক্তারা মানুষকে সতর্ক করতে পারতেন কিন্তু তা তাঁরা করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তর রেলের জনসংযোগ আধিকারিক বলেন,“ সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে অমৃতসর এবং মানেওয়ালার মাঝখানে ২৭ নম্বর গেটের সামনে। একটি ডিএমএউ ট্রেন চলে যায় ভিড়ের উপর দিয়ে।” দুর্ঘটনার পরই পুলিশের বিশাল বাহিনী উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন। সাহায্য করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধারকারীদের একজন বলেন, “ট্রেনটির গতি যথেষ্ট বেশি ছিল। অনেক দেহ লাইন থেকে প্রায় পঞ্চাশ মিটার পৰ্যন্ত দূরে ছিটকে গিয়েছে ট্রেনের ধাক্কায়।”প্রথম দফায় অমৃতসর সিভিল হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজে আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়। অমৃতসর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। আরও অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আলোর অভাবে উদ্ধার কাজ প্রথম দিকে যথেষ্ট ব্যহত হয়। টর্চ এবং মোবাইলের আলোতে উদ্ধার কাজ চালাতে হয়। উদ্ধারকারীদের একজন বলেন, লাইনের পাশে প্রায় ১০০ মিটার জায়গা জুড়ে পড়ে ছিল ছিন্ন ভিন্ন মানুষের দেহ। দেহাংশ ছড়িয়ে রয়েছে লাইন জুড়ে। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দার সিংহ শনিবার সকালেই ঘটনাস্থলে যাবেন। তিনি গোটা ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবার পিছু পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে পঞ্জাব সরকার। এলাকার মানুষ রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।  তাঁদের অভিযোগ,“ ট্রেনটি এত মানুষের ভিড় দেখেও গতি কমায়নি। হর্ণও দেয়নি দর্শকদের সতর্ক করতে।” গোটা ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে রাজ্য প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে নিয়ে, যার জেরে প্রাণ গেল এত মানুষের। কী ভাবে অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ের পাশে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হল? আর হলেও রেল কর্তৃপক্ষকে কী জানানো হয়েছিল?

No comments

Powered by Blogger.