Header Ads

মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসমের শান্তি সম্প্ৰীতি বিনষ্ট করে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছেনঃ হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মা


সুপ্ৰীমকোৰ্টের  নিৰ্দেশ লঙঘন করে মেঘালয়ে খাসি ছাত্ৰ সন্থা শিলংগামী সব যান বাহন থামিয়ে অসমের যাত্ৰীদের এন আর সি নথিপত্ৰ পরীক্ষা করছে

গুয়াহাটিঃ অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী থেকে ৪০লক্ষ ৭ হাজার ৭০৭ জন মানুষের নাম বাদ পড়ায় দেশ জুড়ে বিতৰ্ক শুরু হয়েছে। গতকালের মতো আজও সংসদের দুই সদন এন আর সি ইসু্য নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠে। এর মধ্যেই সুপ্ৰীমকোৰ্ট আজ জাতীয় নাগরিকপঞ্জী নিয়ে কেন্দ্ৰ ও রাজ্য সরকার এবং এন আর সির কৰ্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট নিৰ্দেশ দেন, তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষদের কোনও ভাবেই হেনস্থা করা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে কোনও ধরণের এ্যকশন নেওয়াও যাবে না। এদিকে এটৰ্নি জেনারেল অফ ইণ্ডিয়া বাদ পড়া মানুষদের বায়োমেট্ৰিক পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করার কথা বলেছেন বলে সংবাদ মাধ্যম সূত্ৰে জানা গেছে। নাম পাল্লিয়ে যাতে অন্য রাজ্যে চলে যেতে না পারে, সে কথায় দাবি করেছে সংবাদ মাধ্যম। সুপ্ৰীমকোৰ্টের স্পষ্ট নিৰ্দেশ লঙঘন করে মেঘালয়ে খাসি ছাত্ৰ সন্থা শিলংগামী সব যান বাহন থামিয়ে অসমের যাত্ৰীদের এন আর সি নথিপত্ৰ পরীক্ষা করছে। খাসি ছাত্ৰ সন্থা এবং অন্যান্যরা আজ বৰ্ণিহাটে বহু গাড়ী থামায়। আজ থেকেই এ্যকশন শুরু হয়ে গেল। অসমে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া সত্বেও রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা অটুট আছে। সংখ্যালঘু অধু্যষিত জেলাগুলিতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু কলকাতা কেন্দ্ৰীক বৈদুতিন সংবাদ মাধ্যম এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা বেনাৰ্জি অসমের এন আর সির সংক্ৰান্তে নানা মন্তব্য করে রাজ্যের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে বলে বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছে। রাজ্যের অৰ্থমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মা আজ ডিব্ৰুগড়ে বলেছেন, অসমের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অথচ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্ৰী আপত্তিকর নানা মন্তব্য করে অসমের সম্প্ৰীতির বাতাবরণ বিনষ্ট করছে এবং অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছেন। মুখ্যমন্ত্ৰী বন্দ্যোপাধ্যায় জানা উচিত সুপ্ৰীমকোৰ্টের নিৰ্দেশক্ৰমে অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর কাজ চলছে। তার যদি কিছু বলার থাকে তবে সুপ্ৰীমকোৰ্টের কাছে গিয়ে বলুন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্ৰী বলেছেন, অসমে গৃহযুদ্ধের সূচনা করতে চাইছে কেন্দ্ৰ, তারও সমালোচনা করেছেন হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মা। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, তারা ক্ষমতাসীন হলে প্ৰথমেই পশ্চিমবঙ্গে এন আর সির কাজ শুরু করবে, তাৎক্ষণিকভাবে তৃণমূল নেতারা প্ৰতিক্ৰিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, হিম্মত থাকে তো করে দেখাবেন। এদিকে মমতা বেনাৰ্জির নিৰ্দেশে তৃণমূলের প্তসদস্যের এক প্ৰতিনিধি দল শিলচর এবং গুয়াহাটি সফরে আসছেন বলে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক সোনারুল শাহ মোস্তাফা জানান।প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী তরুণ গগৈর আমলে এন আর সির সূচনা হয়েছিল। প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী প্ৰফুল্ল কুমার মহন্ত অসম চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী আজ তিনিও দাবি জানিয়েছেন, তিনিই এন আর সির স্থপতি। অসমে ৪০ লক্ষ ৭ হাজর ৭০৭ জন মানুষের মধ্যে প্ৰায় ৬০ শতাংশ বাঙালি মুসলিম, ৩২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু এবং ৮ শতাংশের মধ্যে নেপালী, বিহারী এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর নামও আছে বলে বিভিন্ন সূত্ৰে প্ৰকাশ। আগামী ৭ আগষ্ট থেকে ২৮-শে সেপ্তেম্বর পৰ্যন্ত দাবি আপত্তি জানাবার সময়সীমা নিৰ্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার আগামী ৩১ ডিসেম্বর এন আর সির চুড়ান্ত তালিকা প্ৰকাশের সময়সীমা নিৰ্ধারণ করলেও সুপ্ৰীমকোৰ্ট কিন্তু তা মেনে নেয় নি। জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর তালিকা প্ৰকাশের পর থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে যে খবর আসছে তাতে দেখা যােচ্ছ শ শ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। অসমীয়া ভূমিপুত্ৰ থেকে শুরু করে নেপালী, বিহারী এবং উপজাতিগোষ্ঠীর নামও বাদ পড়েছে। রাষ্ট্ৰপতি ফকর উদ্দিন আলী আহমেদ-এর পরিবারের নামও এন আর সি তালিকায় অন্তভূক্ত হয় নি। গৌরীপুরের রাজ্য প্ৰকৃতিশ চন্দ্ৰ বরুয়ার নাম ও বংশ তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায় নি। গুয়াহাটি মহানগরের বাঙালি অধু্যষিত অঞ্চল কাহিলীপাড়া, ভাস্কর নগর, ওদালবাক্ৰা প্ৰভৃতি অঞ্চলের প্ৰায় ২০০০ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সংঘ পরিবারের স্থপতি বলা যেতে পারে গুয়াহাটি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্ৰাণোতোষ রায় তার পুত্ৰপাৰ্থ রায় এবং কন্যা বিদ্যাৰ্থী পরিষদের একজন নেত্ৰী লিপিকা রায়ের নামও বাদ পড়েছে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শেখর দের নাম বাদ পড়ছে। ওদালবাক্ৰা অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক মনিন্দ্ৰ রায় ও তার তিন কন্যার নামও তালিকায় নেই। ইচ্ছাকৃত ভাবেই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দেবব্ৰত শইকিয়া অভিযোগ করেছেন বাহাদূর গাঁওবুড়াসহ বহু ভূমিপুত্ৰ খিলঞ্জীয়ার নাম বাদ পড়েছে। ‘জমিয়ত উলেমা ই হিন্দ'-এর সৰ্বভারতীয় সভাপতি  আর্শ্বাদ মাদানী রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষের নাম এন আর সি থেকে বাদ পড়ায় উদ্বেগ প্ৰকাশ করে সুপ্ৰীমকোৰ্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে অসম রাজ্যিক জমিয়ত উলেমার সভাপতি তথা এ আই ইউ ডি এফ প্ৰধান বদরুদ্দিন আজমল আজ সুপ্ৰীমকোৰ্টের প্ৰতি আস্থা প্ৰকাশ করে বলেছেন, ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়টা উদ্বেগজনক। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাওয়া গেছে বহু পরিবারে আংশিক সদস্যর নাম বিশেষ করে মহিলা, শিশুদের নাম বাদ পড়ছে। জমিয়ত বিভিন্ন জেলায় সজাগতা সভা করে বাদ পড়া মানুষদের নাম অন্তৰ্ভূক্ত করার ক্ষেত্ৰে আইনি সহায়তা দেবে।

1 comment:

  1. Which news has printed here are with lots of mistake.I think poor adititing has caused all mistake.Lets take necessary action to mistakes less news.

    ReplyDelete

Powered by Blogger.